রাজকোটের মাঠে বিরাট কোহলির সঙ্গে মাঠে ঢুকে পড়া ভক্ত। তাঁকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন এক নিরাপত্তারক্ষী। ছবি: পিটিআই।
ভারতের ক্রিকেট মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে আরও এক বার প্রশ্ন উঠল। বুধবার রাজকোটে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে মাঠে ঢুকে পড়লেন বিরাট কোহলির এক ভক্ত। বিনা বাধায় তিনি পৌঁছেও গেলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের কাছে।
নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংসের সময় এক দর্শক মাঠে ঢুকে দৌড়ে সোজা চলে যান কোহলির কাছে। ফিল্ডিং করছিলেন কোহলি। তাঁকে দৌড়ে আসতে দেখে ধীরে ধীরে আসার ইঙ্গিত করেন কোহলি। কাছে এলে ওই ভক্তের সঙ্গে করমর্দন করেন কোহলি। তাঁকে জড়িয়েও ধরেন। ততক্ষণে নিরাপত্তারক্ষীরা পৌঁছে যান। কোহলি তাঁদের বলেন ওই যুবককে সাবধানে নিয়ে যেতে।
এমন ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। ২০২৫ সালে আইপিএলের সময় ইডেন গার্ডেন্সের ফেন্সিং টপকে কোহলির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ পাখিরা। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বাসিন্দা কিছু দিন আগে মাঠে অনুপ্রবেশের মামলায় জামিন পেয়েছেন। গত ৩০ নভেম্বর রাঁচীতে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে মাঠে ঢুকে কোহলির কাছে চলে যান সমর মুর্মু। হুগলির আরামবাগের বাসিন্দা ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম এক দিনের ম্যাচে গ্যালারির ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। একই ঘটনা ঘটেছিল রায়পুরের মাঠে।
রায়পুরে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেও এক ক্রিকেটপ্রেমী নিরাপত্তাকর্মীদের নজর এড়িয়ে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। জড়িয়ে ধরেছিলেন রোহিত শর্মাকে। গত ডিসেম্বরে হায়দরাবাদের মাঠেও হার্দিক পাণ্ড্যর কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন একাধিক ক্রিকেটপ্রেমী। তাঁরা বডোদরার অলরাউন্ডারের সঙ্গে নিজস্বীও তোলেন সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ম্যাচের মাঝে।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে তখন ব্যাট করছেন কোহলি। বিশ্বকাপ ফাইনালের কড়া নিরাপত্তা ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন এক যুবক। তাঁর মুখে একটি রুমাল বাঁধা ছিল। পরনে ছিল টি-শার্ট। সেখানে লেখা “যুদ্ধ থামাও। প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন করো।” তিনি ঢুকে কোহলিকে জড়িয়ে ধরেন। রাজকোটেও অন্যথা হল না।
কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে বার বার ভারতের ক্রিকেট মাঠগুলিতে ঢুকে পড়ছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন কোহলি, রোহিতদের কাছে। স্বভাবতই ভারতের ক্রিকেট মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ক্রমশ বড় হচ্ছে।