Abbas Araghchi

জয়শঙ্করকে ফোন করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কী কথা হল?

গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি বুধবার নতুন করে সে দেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ফিরে আসার বার্তা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩০
(বাঁ দিকে) বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আবহে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানে গণবিক্ষোভে প্রায় তিন হাজার মৃত্যু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ঘিরে তৈরি হওয়া অশান্ত পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

আলোচনার কথা জানিয়ে বুধবার জয়শঙ্কর এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা ইরান এবং তার আশেপাশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি।’’

গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি সে দেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের ফিরে আসার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্করের মন্ত্রক প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছিল গত ৫ জানুয়ারি। ন’দিনের মাথায় বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ফের ইরান নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখে ভারতীয় নাগরিকদের আবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত কেউ ওই দেশে যাবেন না। বিদেশ মন্ত্রকের গত ৫ জানুয়ারির উপদেশাবলিও দেখতে বলা হচ্ছে।’’

একই সঙ্গে ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকেও একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যাঁরা এখন ইরানে আছেন, তাঁদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে পাঁচ দফা পরামর্শ। বলা হয়েছে, ‘‘ভারতীয় নাগরিকেরা অবিলম্বে যে কোনও উপায়ে ইরান ছাড়ুন।’’ এর পাশাপাশি ইরানে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাগরিকদের তাদের ভ্রমণ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্র, যার মধ্যে পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্রও রয়েছে, সেগুলি সব সময় সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। এই বিষয়ে যে কোনও সহায়তার জন্য তাঁদের ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধও করা হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনের অভিমুখ এখন ঘুরে গিয়েছে সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের দিকে। ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবক’টি জুড়েই বিক্ষোভ চলছে। সরকারি বাহিনীর গুলিতে দ্রুত বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে বার বার বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের প্রশাসনকে আক্রমণ শানাচ্ছেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরান প্রশাসনের কঠোর দমননীতির সমালোচনা করছেন তিনি। হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আপাতত ইরান প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয় তাঁর সরকার। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের পিছু না-হটে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এ-ও জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য সব রকম সাহায্য করা হবে। যা দেখে অনেকে মনে করছেন, আবার পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাবে পেন্টাগন।

Advertisement
আরও পড়ুন