Rafale Fighter Jet

আত্মনির্ভরতা এ বার রাফাল যুদ্ধবিমান নির্মাণে, ফরাসি সংস্থার সঙ্গে চলতি সপ্তাহেই আলোচনা শুরু নয়াদিল্লির

ফ্রান্সের সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান নির্মাণের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই আলোচনা শুরু হতে চলেছে। চুক্তির মোট অঙ্ক হতে পারে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৫
Defence Ministry to discuss Rs 3.25L crore 114-Rafale Jet deal for IAF

রাফাল যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানে আস্থা রেখে এ বার রাফাল যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নির্মাণ হবে ভারতে। ফ্রান্সের সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান নির্মাণের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই আলোচনা শুরু হতে চলেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।

Advertisement

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তির রূপরেখা চলতি বছরেই চূড়ান্ত হতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল্যায়ন করেছে প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ‘সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় পর্ষদ’ (‘ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড’ বা ডিআরবি)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তি! ডিআরবি-র ছাড়পত্র পেলে ওই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় বিষয়ক কমিটি’ (ডিএসি)-র কাছে। সেখানেই হবে চূড়ান্ত অনুমোদন। প্রথম দফায় ভারতে নির্মিত রাফালগুলিতে ৩০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম থাকবে। পর্যায়ক্রমে তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্টে। এ ছাড়া, ১১৪টির মধ্যে ১৮টি সরাসরি নিয়ে আসা হবে ফ্রান্স থেকে। প্রসঙ্গত, দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস যুদ্ধবিমানে রয়েছে ৬২ শতাংশ ভারতীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম।

২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ফ্রান্স থেকে পর্যায়ক্রমে ৩৬টি রাফাল এসেছে ভারতে (যার মধ্যে ৮টি দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান)। সেগুলির কার্যকারিতা দেখে বায়ুসেনার বিশেষজ্ঞেরা সন্তোষ প্রকাশ করায় গত বছর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী’ (সিসিএস)-র আরও রাফাল কেনার (বা যৌথ উদ্যোগে নির্মাণের) বিষয়ে সবুজসঙ্কেত দিয়েছিল। এর পরেই ভারতীয় বায়ুসেনাকে ১১৪টি রাফাল ‘মাল্টিরোল এয়ারক্র্যাফ্‌ট’ দেওয়ার প্রস্তাবের বাস্তবতা যাচাই করতে সক্রিয় হয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিআরবি। দাসো অ্যাভিয়েশনের অংশীদার হিসাবে নাগপুরের একটি সংস্থার নাম বিবেচনায় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এক দশক আগে ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে রাফাল চুক্তির সময়ই বায়ুসেনা জানিয়েছিল, তাদের দরকার ১২৬টি যুদ্ধবিমান। কিন্তু সেই সময় ফরাসি সংস্থা রাফালকে বরাত দেওয়া হয় ৩৬টি যুদ্ধবিমান। অন্য দিকে, ধাপে ধাপে মিগ-২১, মিগ-২৩ বাতিল হওয়ায় ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের ভাঁড়ারে সংখ্যার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড’ (হ্যাল) তৈরি তেজসের নয়া সংস্করণ ‘মার্ক-১এ’-র সাহায্যে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ পরীক্ষিত রাফালের উপরেই বায়ুসেনা ভরসা রাখতে চেয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। শুধু নতুন ১১৪টি রাফাল নয়, বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনা ব্যবহৃত রাফাল ‘এফ-৩আর প্লাস’গুলিকে আধুনিকতম সংস্করণ রাফাল এফ-৫-এ উন্নীত করে ভবিষ্যতের ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম’-এর উপযোগী করে তোলাও নতুন পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন