Bangladesh General Election

‘নো বোট নো ভোট’, স্লোগান হাসিনার! ‘ফ্যাসিস্ট ইউনূসের’ নৌকা প্রতীক নিষিদ্ধের জেরে নির্বাচন বয়কটের ডাক

ইউনূস সরকারের জমানায় হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত হয়েছে। দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতে হয়েছে তাঁর ফাঁসির সাজা। এই আবহে আওয়ামী লীগের তরফে আবেদনপত্র প্রকাশ করে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৮
(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

শিরোনাম, ‘নো বোট নো ভোট’। বাংলা করলে দাঁড়ায়, নৌকা (আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক) না থাকলে ভোট নয়। মঙ্গলবার এই স্লোগান দিয়েই বাংলাদেশবাসীর কাছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের ডাক দিলেন ক্ষমতাচ্যুত এবং স্বেচ্ছানির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Advertisement

ইউনূস সরকারের জমানায় হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত হয়েছে। দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতে হয়েছে তাঁর ফাঁসির সাজা। এই আবহে আওয়ামী লীগের তরফে প্রকাশিত দেড় পাতার আবেদনপত্রের গোড়ায় জাতির উদ্দেশে হাসিনার আর্জি— ‘‘ফ্যাসিস্ট ইউনূস জঙ্গি পাহারায় ভোট করাতে চায়। সেই ভোট দিতে যাবেন না। যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না, যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না, সেখানে আমাদের সমর্থক কোনও ভোটারেরা কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।’’

আবেদনপত্রে হাসিনার বার্তায় ‘গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশে’ বলা হয়েছে, ‘‘ভয়-ভীতি, হত্যা, সন্ত্রাস, গ্রেফতার, হুমকি, অত্যাচার, দমন-পীড়ন, অপহরণ, নিষ্ঠুর মবসন্ত্রাস (গণপিটুনি) যাই করুক না কেন তাঁরা ভোট দিতে যাবেন না।’’ প্রসঙ্গত, মাস তিনেক আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের নির্বাচনী বৈধতা থাকা উচিত। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে তাঁরা ভোট দেবেন না। আপনি একটি কার্যকরী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কাড়তে পারেন না।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। গত ১২ ডিসেম্বর থেকেই মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। চলেছে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে ২১ জানুয়ারি। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

Advertisement
আরও পড়ুন