জুন্টা প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইং। —ফাইল চিত্র।
কয়েক বছর আগে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগ উঠেছিল মায়ানমার সেনার বিরুদ্ধে। আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে)-তে ওই মামলার শুনানি শুরু হল।
নেদারল্যান্ডসের শহর দ্য হেগের ওই আদালত আগেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মায়ানমার সেনা-জুন্টার সরকারকে। কিন্তু তা-ও পালিত হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে, যা তিন সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুনানিপর্বের শুরুতে আবেদনকারী গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বলেন, ‘‘মায়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিত ভাবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, মায়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী আউং সান সু চি-র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি ক্ষমতায় থাকাকালীন রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর সু চি-সহ মায়ানমারের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গৃহবন্দি হন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালান। সু চি-র বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে মায়ানমারের আদালতে। পরবর্তী সময় আইনসভার নির্বাসিত সদস্যেরা মিলে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ওই সংগঠনের দাবি, জুন্টা নয়, তাদের সদস্যদেরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা উচিত। যদিও সংগঠনটি কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনও পায়নি।