(বাঁ দিকে) মুহাম্মদ ইউনূস এবং জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (ডান দিকে)।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ভারত এবং বাংলাদেশের সামরিক যোগাযোগ অক্ষুন্ন রয়েছে। মঙ্গলবার এ কথা জানালেন স্থলসেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। সেই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বেশি দিন নয়। তাই তাদের পদক্ষেপ নিয়ে বেশি চিন্তা করা হচ্ছে না।
জেনারেল দ্বিবেদী মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে বলেন, ‘‘সবচেয়ে আগে জানতে হবে কোন সরকার সেখানে আছে? যদি সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার থাকে, তারা যে পদক্ষেপ করছে তার মেয়াদ কতদিন? চার-পাঁচ বছর না কি চার পাঁচ মাস? সেটা থেকেই আমাদের বুঝতে হবে তার যে পদক্ষেপ করছে তার প্রেক্ষিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন আছে, না কি নেই।’’ এর পরেই তিনি জানান, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) সঙ্গেই যোগাযোগ রয়েছে বাংলাদেশ ফৌজের। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওখানে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা গিয়ে বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছেন। আমার সঙ্গে ওঁদের (বাংলাদেশ) সেনাপ্রধানের যোগাযোগ রয়েছে। নৌসেনা প্রধান এবং বায়ুসেনা প্রধানেরও তাঁদের স্তরে কথা হয়েছে। উদ্দেশ্যে হল, কোনও স্তরেই যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’’
এর পরেই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে দরাজ শংসাপত্র দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আজকের দিনে ওদের তিন বাহিনী (বাংলাদেশ স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) যে পদক্ষেপ করছে তা কোনও ভাবেই ভারত বিরোধী নয়।’’ সেনা স্তরে দ্বিপাক্ষিক আস্থাবর্ধক কর্মসূচি এবং ‘কোর গ্রুপ স্তরের আলোচনা’ চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ওদের অফিসারেরা এখানে প্রশিক্ষণের জন্য আসেন, আমদের অফিসারেরাও যান।’’ প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। দু’দেশের সেনা আধিকারিকদের ঘন ঘন বৈঠক, যৌথ যুদ্ধ মহড়া এমনকি, পাকিস্তানের থেকে চিনের তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। ফলে নয়াদিল্লি-ঢাকা সংঘাতের প্রেক্ষপট তৈরি হচ্ছে বলে অনেকে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু জেনারেল দ্বিবেদী কার্যত সেই সম্ভাবনা নাচক করলেন মঙ্গলবার।’’