—ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামি (জামাত নামেই যা পরিচিত)-র সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়েছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগে এ বার নতুন দল গড়তে চলেছেন।
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণ নেতারা শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন দল গড়ার কথা ঘোষণা করবেন বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৩টেয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নতুন এই রাজনৈতিক মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নতুন দলের নাম চূড়ান্ত হয়নি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় একে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তবে ভোটের মনোনয়নের দিন ইতিমধ্যেই পেরিয়ে যাওয়ায় নতুন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।
কারা থাকছেন নতুন দলে? প্রকাশিত খবরে দাবি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করা অনিক রায়, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও অলিক মৃ থাকছেন এই প্ল্যাটফর্মে। একদা বামপন্থী ছাত্রনেতা অনিক এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন। লেখক ও সমাজকর্মী তুহিন ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। আর আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের প্রাক্তন নেতা অলিক ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক। নতুন প্ল্যাটফর্মে আরও থাকছেন ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি বাকি বিল্লাহ, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মঈন আহমেদ-সহ অনেকে। জামাতের সঙ্গে জোটে নীতিগত আপত্তি জানিয়ে গত ডিসেম্বরে দল ছেড়েছিলেন এসসিপি নেত্রী তাসনিম জারা এবং তাসনূভা জাবীন। জল্পনা রয়েছে তাঁদের নিয়েও। তাসনিম এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছাড়াও দলের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তাসনূভা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ঢাকা-১৭ আসনে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তিনি ভোটে লড়ছেন না।