ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর। — ফাইল চিত্র।
গ্রুপ পর্বে অপেক্ষাকৃত কমজোরি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তবু কোনও রকমে সামাল দেওয়া গিয়েছিল। সুপার এইটে নামতেই বাস্তব পরিস্থিতির সামনে পড়ল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল। নিজেদের দোষেই হারতে হল সূর্যকুমারদের দলকে। হারের পাঁচ কারণ বিশ্লেষণ করল আনন্দবাজার ডট কম।
অহমদাবাদের পিচে কী ভাবে বোলিং করতে হয়, তা ভারতকে শিখিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কেশব মহারাজের মতো বোলার যেখানে এক ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নিলেন, সেখানে ভারতের স্পিনারদের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট। তা-ও মাত্র ছ’ওভার বল করানো গিয়েছে। বরুণ চক্রবর্তী ভারতের স্ট্রাইক বোলার। তিনি এমন বল করলেন যে লোকানো যাচ্ছিল না। কার্যত বাধ্য হয়ে বরুণকে দিয়ে চার ওভার বল করাতে হল। শেষ ওভারে ডেভিড মিলারকে আউট করলেন ঠিকই। তত ক্ষণে মিলার যা ক্ষতি করার করে দিয়েছেন। চার ওভারে বরুণ দিলেন ৪৭ রান। ওয়াশিংটন সুন্দরকে প্রথমে আনা হল সপ্তম ওভারে। তার পর ১৪তম ওভারে। যদি বলই না করানো হবে তা দলে নেওয়া হল কেন?
গৌতম গম্ভীর কোচ, আর সেখানে দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না এমন হতে পারে না। টসের সময় সূর্যকুমার যাদব ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, “হয়তো অক্ষর পটেলের প্রতি একটু কড়া হলাম। কিন্তু আজকের দল অপরিবর্তিতই রাখছি।” অহমদাবাদের পিচে খেলে বড় হয়েছেন অক্ষর। মাঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নাদিয়াদে থাকেন। তিনি দলের সহ-অধিনায়কও বটে। তাঁকেই কি না এই ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হল? হর্ষিত রানার মতোই ওয়াশিংটনও দিন দিন গম্ভীরের ‘প্রিয়’ ক্রিকেটার হয়ে উঠছেন। যার ফল ভুগতে হচ্ছে দলকে। যে কোনও দিন অলরাউন্ডার হিসাবে ওয়াশিংটনের থেকে অক্ষর এগিয়ে থাকবেন। তার উপর অহমদাবাদ তাঁর ঘরের মাঠ। সেখানে সহ-অধিনায়ককে বাদ দিয়ে ভারত বুঝিয়ে দিল, এই দলে পদের কোনও গুরুত্ব নেই।
আগের চারটি ম্যাচে ওপেনিং জুটি টিকতে পারেননি। মূলত অভিষেক শর্মার ব্যর্থতার জন্যই। এ দিন সেই তালিকায় নাম লেখালেন ঈশান কিশন। অভিষেকের বদলে তিনি স্ট্রাইক নিয়েছিলেন। চতুর্থ বলেই তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন এডেন মার্করাম। অভিষেক কোনও মতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ১৫ রান করলেন। তবে যে বলে আউট হলেন তাতে শিক্ষানবিশ ক্রিকেটারও লজ্জা পাবেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে ওপেনারেরা এ ভাবে ব্যর্থ হলে সাফল্যের আশা করা যায় না।
চাপের মুখেও নিজেদের কৌশল থেকে সরবেন না গম্ভীর, সূর্যকুমারেরা। ঈশান, অভিষেক ফিরে যাওয়ার পরেও চলল সেই টুকটুক করে ব্যাটিং। যাঁকে ‘অ্যাঙ্কর’-এর মতো গালভরা নাম দিয়েছেন সূর্যকুমারেরা নিজেই। অর্থাৎ ধরে খেলা। পরিস্থিতির বিচার না করেই ধরে খেলতে গিয়ে চলে আসছে বিপদ। দক্ষিণ আফ্রিকাও ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল। তাই বলে ডেভিড মিলার এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ‘টেস্ট’ খেলার রাস্তায় হাঁটেননি। পাল্টা মারের রাস্তায় হেঁটে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দিয়েছেন। ভারত সেটাই করতে পারল না। ধরে খেলতে গিয়ে নিজেদের উপর চাপ এতটাই বাড়িয়ে ফেলল যে পরের দিকে আর সামলানো গেল না।
এমনিতেই গোটা দলে আট জনের মধ্যে ছ’জন বাঁ হাতি। তার মধ্যেও অদ্ভুত ভাবে ডান হাতি-বাঁ হাতি কম্বিনেশন প্রয়োগ করতে গেল ভারত। ঘেঁটে গেল পুরো দলের কম্বিনেশনই। কেন যে হার্দিককে না নামিয়ে ওয়াশিংটনকে পাঁচে নামানো হল তার উত্তর কেউ দিতে পারবেন বলে মনে হয় না। সম্ভবত সূর্যকুমার (ডান হাতি) ক্রিজ়ে ছিলেন বলেই। ভারতের কৌশল নিয়ে বিস্মিত ধারাভাষ্যকারেরাও। দীনেশ কার্তিকও বলে ফেললেন, “এ রকম কৌশলের এখন আদৌ দরকার আছে কী?” কে বোঝাবে গম্ভীরদের। তাঁরা হারুন বা জিতুন, নিজেদের কৌশল থেকে সরে আসবেন না। ভারতের ব্যাটারদের খেলা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারেরা যেখানে একের পর এক মন্থর বল করছেন, তা খেলার জন্য কেন পরিকল্পনা থাকবে না ব্যাটারদের? অনুশীলনে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের কাজটা কী? দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার এ রকমই প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল।