অর্ধশতরানের পর হরমনপ্রীত। ছবি: সমাজমাধ্যম।
বেঙ্গালুরুর কাছে প্রথম ম্যাচ হারার পর মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগে (ডব্লিউপিএল) জয়ে ফিরল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। হরমনপ্রীত কৌরের দলের কাছে হেরে গেল জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের দল। ৫০ রানে হেরেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। অন্য ম্যাচে, গুজরাত জায়ান্টস ১০ রানে হারিয়েছে ইউপি ওয়ারিয়র্জ়কে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই হারায় অ্যামেলিয়া কেরকে। তিনি প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন। লিজ়েল লি-র বলে অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তবে আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচে ব্যর্থ হননি ন্যাট শিভার ব্রান্ট। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেন। দ্বিতীয় ওভারে চিনেল হেনরিরের থেকে ১০ রান নেন। চতুর্থ ওভারে আরও দু’টি চার মারেন।
ওপেনার গুণলন কমলিনীর সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন শিভার-ব্রান্ট। মুম্বইয়ের ইনিংস থিতু করেন তিনি। কমলিনী ছন্দে থাকলেও দিল্লির বোলার নন্দানি শর্মার ফাঁদে পা দিয়ে আউট হন।
কমলিনী ফিরলেও রানের গতি কমেনি শিভার-ব্রান্টে। তিনি মাত্র ৩২ বলে অর্ধশতরান করেন। হরমনপ্রীত কৌর নামলেও তিনি স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন শিভার-ব্রান্টকেই। তবে শ্রী চরণীর বোলিংয়ে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান শিভার-ব্রান্ট। ১৩টি চারের সাহায্যে ৪৬ বলে ৭০ রান করেন তিনি।
এর পর শুরু হয় হরমনপ্রীতের খেলা। শিভার-ব্রান্ট ক্রিজ়ে থাকা পর্যন্ত ধীরে খেললেও তিনি ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকেন। প্রথম ম্যাচে রান না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বমহিমায় দেখা গেল হরমনপ্রীতকে। ৮টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৪২ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। মুম্বই তোলে ১৯৫/৪।
দিল্লির ব্যাটিং দেখে কখনওই মনে হয়নি তাঁরা এই রান তাড়া করতে পারবে। শুরু থেকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ১৫ রানের মাথায় ফিরে যান লিজ়েল লি (১০)। এর পর শেফালি বর্মা (৮), লরা উলভার্ট (৯), জেমাইমা (১), মারিজ়েন কাপ (১০), নিকি প্রসাদ (১২) পর পর ব্যর্থ হন।
দিল্লির হয়ে একা লড়াই করেছেন চিনেল। তিনি ৫টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৩৩ বলে ৫৬ রান করেন। তবে পাশে কাউকে পাননি। দিল্লির ইনিংস শেষ হয় ১৪৫ রানে।
শনিবারের প্রথম খেলা ছিল গুজরাত জায়ান্টসের সঙ্গে ইউপি ওয়ারিয়র্জ়ের। সেই ম্যাচে ফিবি লিচফিল্ডের ব্যাটিংয়ের সত্ত্বেও গুজরাতের কাছে ১০ রানে হেরে গেল ইউপি। টসে জিতে গুজরাতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ইউপি অধিনায়ক মেগ ল্যানিং। অধিনায়ক অ্যাশলে গার্ডনার (৬৫) এবং জর্জিয়া ওয়ারহামের (অপরাজিত ২৭) ব্যাটিংয়ে ২০৭/৪ তোলে গুজরাত। লিচফিল্ড শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন ইউপি-কে জেতানোর। তবে সফল হননি। ইউপি-র ইনিংস শেষ হয় ১৯৭/৮ স্কোরে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাতের ওপেনার সোফি ডিভাইন (৩৮) শুরুটা ভালই করেছিলেন। ষষ্ঠ ওভারে তিনি আউট হন। তৃতীয় উইকেটে তরুণ ক্রিকেটার অনুষ্কা শর্মার (৪৪) সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়েন গার্ডনার। ৪১ বলের ইনিংসে তিনি ৬টি চার এবং ৩টি ছয় মেরেছেন। ১৮তম ওভারে সোফি একলেস্টোন আউট করেন গার্ডনারকে। শেষ দিকে নেমে চালিয়ে খেলে গুজরাতের রান ২০০ পার করে দেন ওয়ারহাম। ইউপি-র একলেস্টোন ৩২ রানে ২ উইকেট নেন।
রান তাড়া করতে নেমে রেণুকা সিংহের পঞ্চম বলেই ফিরে যান কিরণ নবগীরে। তবে লিচফিল্ড এবং মেগ ল্যানিং (৩০) ইউপি-র ইনিংসকে থিতু করার চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রান যোগ করেন তাঁরা।
এর পর ইউপি-র ব্যাটিংয়ে ধস নামে। ল্যানিং, হরলীন দেওল (০) এবং দীপ্তি শর্মা (১) পর পর আউট হন। ৭৩/১ থেকে ৭৪/৪ হয়ে যায় ইউপি। এর পর শ্বেতা সেহরাবতের (২৫) সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়েন লিচফিল্ড। তবে পরের দিকে একের পর এক উইকেট হারানোর আর জিততে পারেনি ইউপি।