অক্ষর পটেল। ছবি: পিটিআই।
সহ-অধিনায়ক অক্ষর পটেলকে বসিয়ে রেখে অহমদাবাদের পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলানো হয়েছে ওয়াশিংটন সুন্দর। ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রবিবার। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশও বিস্মিত হয়েছেন গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদবদের এই সিদ্ধান্তে। কেন ওয়াশিংটনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা অক্ষরকে দিয়েছেন কোচ এবং অধিনায়ক। কী সেই কারণ, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক।
এডেন মার্করামদের কাছে সূর্যেরা ৭৬ রানে হারায় প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটনকে খেলানো নিয়ে কোটাক বলেছেন, ‘‘গম্ভীর এবং সূর্য দু’জনেই অক্ষরের সঙ্গে কথা বলেছিল ম্যাচের আগে। এটা বলার প্রয়োজন হয় না। এটাই পদ্ধতি। আমাদের মনে হয়েছিল দলে এক জন অফ স্পিনার থাকলে ভাল হবে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার উপরের দিকের ব্যাটারদের তিন জন বাঁ হাতি।’’ কোটাক আরও বলেছেন, ‘‘পাওয়ার প্লেতে ওয়াশিংটনকে দিয়ে বল করানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে আমরা শুরুতেই কয়েকটা উইকেট পেয়ে যাওয়ায় তার প্রয়োজন হয়নি।’’
কী ভাবে ভারতের প্রথম একাদশ বেছে নেওয়া হয়? কোটাক বলেছেন, ‘‘আমরা ম্যাচ হিসাবে দল নির্বাচন করি। মাঠ, প্রতিপক্ষ বিচার করা হয়। সেই মতো প্রথম একাদশ বেছে নেওয়া হয়। অক্ষর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেটার। ও অনেক ম্যাচে ভাল পারফর্ম করেছে। ওর দক্ষতা নিয়ে আমাদের কোনও সংশয় নেই। তা-ও ওকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে না খেলানোর কারণ কোচ এবং অধিনায়ক ব্যাখ্যা করেছে। ওর কাছেও বিষয়টা পরিষ্কার। আমরা জানি আমরা কী করতে চাই।’’
ওপেনিং জুটি বিশ্বকাপে ভাল ফল করতে পারেনি একটি ম্যাচেও। তা হলে কেন সঞ্জু স্যামসনকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না? এ নিয়ে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বলেছেন, ‘‘শেষ কয়েকটা ম্যাচে সঞ্জু ভাল রান পায়নি। ওর আত্মবিশ্বাস একটু কম থাকতে পারে। তাই আমরা ওকে খেলানোর কথা ভাবিনি। আমরা ফর্মে থাকা ঈশান কিশনকে বেছে নিয়েছিলাম। তবে সঞ্জু নিশ্চিত ভাবে আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এখন হয়তো আমাদের পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে। যেখানে মনে হবে, সেখানে প্রয়োজন করা হবে। তবে হ্যাঁ, কয়েকটা জায়গা নিয়ে হয়তো ভাবতেই হবে। শুধু পরিবর্তন করলেই হয় না। সেই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটাও ভাবতে হয় আমাদের।’’
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারায় দল কি চাপে পড়ে গেল না? কোটাক বলেছেন, ‘‘চাপ সব সময় থাকে। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে যে কোনও ম্যাচেই চাপ থাকে। চাপটা খুব স্বাভাবিক। কোনও ব্যাটার বা বোলার যতই পেশাদার হোক, খেলতে নামলে চাপটা বুঝতে পারে। ব্যাটারেরা বেশি চাপে থাকে। কারণ ক্রিকেট এক বলের খেলা। বোলারদের কাজটা তুলনায় সহজ। দু’একটা বল খারাপ হলেও পরে ভাল বল করে ফিরে আসার সুযোগ থাকে।’’
চাপ নিয়ে কোটাক আরও বলেছেন, ‘‘আমরা যে পরিমাণ ক্রিকেট খেলি, তাতে চাপ নিয়েই খেলতে হয়। সকলেই চাপে থাকে। চাপা উত্তেজনা থাকে। এই পর্যায়ে খেলতে এসে যদি এক জন ক্রিকেটার চাপ নিতে না পারে, তা হলে আর কোথায় নেবে? চাপ নিয়েই খেলতে হয়। আমাদের হাতে আরও দু’টো ম্যাচ তো রয়েছে। আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে। হ্যাঁ, আমাদের দিনটা খারাপ ছিল। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কী? আমরা ভাল খেলতে পারিনি। তা-ও আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে।’’
পরের দুই ম্যাচে লক্ষ্য কী? কোটাক বলেছেন, ‘‘খুব সাধারণ। আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। দু’টো ম্যাচই জিততে হবে। এ ছাড়া কোনও বিকল্প আমাদের সামনে নেই। এই টুকু চাপ তো নিতেই হয়।’’ ভারতের পরের ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার। চেন্নাইয়ের ২২ গজে সূর্যদের প্রতিপক্ষ জ়িম্বাবোয়ে।