ব্যাট হাতে ভরসা জোগালেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। ছবি: এক্স।
ভারতের বিরুদ্ধে কী ভাবে জেতা ম্যাচ হারতে হয়, তা আরও এক বার দেখাল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভারতের বিরুদ্ধে তিন বলে ২ রান করতে পারেনি তারা। পর পর তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে ১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ঠিক একই ভাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে হারল তারা। ৭০ বলে ৭৫ রান দরকার ছিল তাদের। হাতে ছিল ৮ উইকেট। সেই ম্যাচ জিততে পারল না বাংলাদেশ। ১৮ রানে হারল তারা। এই হারের জন্য নিজেদের ছাড়া আর কাউকে দায়ী করতে পারবে না বাংলাদেশ। ভারত আরও এক বার দেখিয়ে দিল, কঠিন পরিস্থিতিতে কী ভাবে চাপ সামলে খেলা জিততে হয়।
বৃষ্টির কারণে যখন খেলা বন্ধ ছিল, তখন দেখে মনে হচ্ছিল, ম্যাচের রাশ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর বদলে গেল ছবি। ভারতের স্পিনারেরা চাপ বাড়াতে থাকলেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের উপর। চাপে পড়ে একের পর এক উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ২২ রানে শেষ ৭ উইকেট পড়ল তাদের। বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরল বৈভব সূর্যবংশী। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সূর্যকুমার যাদবের সেই ক্যাচের স্মৃতি ফেরাল সে। নাটকীয় ভাবে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে বাংলাদেশকে হারাল ভারত। ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পর পর দু’ম্যাচ জিতে গ্রুপ শীর্ষে ভারত।
২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনার আবরার রান না পেলেও রিফাত বেগের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। ৬১ রানের জুটি বাঁধেন তাঁরা। ভারতীয় বোলারদের সামনে অহেতুক তাড়াহুড়ো করেননি দুই ব্যাটার। রিফাত ৩৭ রান করে আউট হলে কালাম সিদ্দিকির সঙ্গে জুটি বাঁধেন হাকিম। তার পরেই শুরু হয় বৃষ্টি। খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ছিল ১৭.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৮।
বৃষ্টিতে ওভার কমে। ফলে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে লক্ষ্য হয় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। অর্থাৎ, ৭০ বলে ৭৫ রান করতে হত বাংলাদেশকে। রান কমে গেলে সাধারণত ব্যাটিং দলের সুবিধা হয়। এ ক্ষেত্রে সেই সুবিধা বাংলাদেশ পেয়েছিল। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারল না তারা।
দ্বিতীয় বার খেলা শুরু হওয়ার পর একের পর এক উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ভারতের বিহান মলহোত্র নজর কাড়লেন। চার ওভার বল করে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন তিনি। খিলান পটেল নিলেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের শেষ ভরসা ছিলেন হাকিম। কিন্তু খিলানের ফুলটসে ৫১ রানের মাথায় আউট হলেন তিনি।
ফিল্ডিংও ভাল করল ভারত। বাউন্ডারিতে বৈভব ও বিহান দুর্দান্ত ক্যাচ ধরল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, মাথা কাজ করছে না বাংলাদেশের ব্যাটারদের। চাপ কাটিয়ে উঠতে পারলেন না তাঁরা। জেতা ম্যাচ হারলেন তাঁরা।
জিতলেও ভারতকে চিন্তায় রাখবে তাদের ব্যাটিং। বৈভব ও অভিজ্ঞান ছাড়া কেউ ভরসা জোগাতে পারলেন না। বৈভব শুরু থেকে ভাল খেলছিল। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে, বেদান্ত ত্রিবেদী, বিহান মলহোত্র রান না পেলেও বৈভব সাবলীল ব্যাট করছিল। বড় শটের পাশাপাশি দৌড়ে রানের দিকেও নজর দিয়েছিল। কিন্তু ৬৭ বলে ৭২ রান করে ইকবাল হোসেন ইমনের বল মিড উইকেটের উপর দিয়ে ওড়াতে গিয়ে আউট হয় বৈভব। ইনিংসে ছ’টি চার ও তিনটি ছক্কা মারে সে।
মাঝের ওভারে পর পর উইকেট হারিয়ে ভারত চাপে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে দলকে টানেন বাঙালি অভিজ্ঞান। আগের ম্যাচেও অর্ধশতরান করে ভারতকে জিতিয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচেও নিজের দক্ষতা দেখালেন অভিজ্ঞান। শুরুতে তাঁর রান তোলার গতি কম থাকলেও পরের দিকে হাত খোলেন এই বাঁহাতি। তিনি জানতেন, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে। সেই চেষ্টাই করেন তিনি। তবে তিনি অপরাজিত থাকতে পারেননি। ১১২ বলে ৮০ রান করে আউট হন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন কণিষ্ক চৌহান। তাঁদের ব্যাটে ২০০ পার হয় ভারতের। শেষ দিকে দীপেশ দেবেন্দ্রন দলকে ২৩৮ রানে নিয়ে যান। তবে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারেনি ভারত। ৪৮.৪ ওভারে অল আউট হয়ে যায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নেন আল ফাহাদ। তার পরেও হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁদের।