হরমনপ্রীত কৌর। —ফাইল চিত্র।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতে পারল না ভারত। এক দিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রথম বার এক দিনের সিরিজ় খেলতে নেমেছিলেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পর পর দু’ম্যাচে হারলেন তাঁরা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ় জিতে নিল অস্ট্রেলিয়ার মহিলা দল। হোবার্টে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান করেছিল ভারত। ৩৬.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সেই রান তাড়া করে জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া।
চোট সারিয়ে দলে ফিরে প্রথম ম্যাচে রান পাননি প্রতীকা রাওয়াল। দ্বিতীয় ম্যাচে পেলেন। কিন্তু তার জন্য বড্ড সময় নিলেন। ৮১ বল খেলে ৫২ রান করলেন। ফলে শুরু থেকেই ভারতের রান তোলার গতি ছিল কম। অপর ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা করেন ৩৭ বলে ৩১ রান। ওপেনিং জুটিতে ৭৮ রান করে ভারত।
আরও এক ম্যাচে ব্যর্থ জেমাইমা রদ্রিগেজ়। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্দে ম্যাচ জেতানো শতরানের পর থেকে ব্যাটে রান নেই জেমাইমার। ১১ রান করেন তিনি। অধিনায়ক হরমনপ্রীত আরও একটি অর্ধশতরান করলেন। কিন্তু ৫৪ রান করতে ৭০ বল নিলেন তিনি। রান পাননি দীপ্তি শর্মা। এই ম্যাচে ১ রানে ফেরেন তিনি।
ভারতের ইনিংস শেষ দিকে কিছুটা টানেন রিচা ঘোষ, কাশবি গৌতম ও ক্রান্তি গৌড়। রিচা ১৯ বলে ২২, কাশবি ৩৪ বলে ২৫ ও ক্রান্তি ১৫ বলে ১৯ রান করেন। শেষ ওভারে বৈষ্ণবী শর্মা ৫ বলে ১০ রান করেন। এই চার জনের ব্যাটে ভারতের রান ২৫০ পার হয়।
২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে শুরুতেই উইকেট দরকার ছিল ভারতের। অধিনায়ক অ্যালিসা হিলিকে ৬ রানের মাথায় আউট করে সেই সুযোগ করেও দিয়েছিলেন কাশবি। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারল না ভারত। প্রথম উইকেটে ফিবি লিচফিল্ড ও জর্জিয়া ভলের জুটি অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দিল। দু’জনের মধ্যে ১৫ ওভারে ১১৯ রানের জুটি হল। লিচফিল্ড ৬২ বলে ৮০ রান করে আউট হলেন।
বেথ মুনির সঙ্গে মিলে বাকি কাজটা করলেন ভল। এই দুই ব্যাটারের মধ্যে মাত্র ১০ ওভারে ৮২ রানের জুটি হল। এই দুই জুটি ভারতের সব আশায় জল ঢেলে দিল। শতরান করলেন ভল। ৮২ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। মুনি করলেন ৩১ রান। শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট পড়লেও তাতে অস্ট্রেলিয়ার জয় আটকায়নি। ৮৩ বল বাকি থাকতে জিতে গেল তারা। ফলে তৃতীয় ম্যাচ নিয়মরক্ষার। তবে সেই ম্যাচেও হারলে চুনকামের লজ্জার মুখে পড়তে হবে বিশ্বজয়ী হরমনপ্রীতদের।
ভারতকে চিন্তায় রাখবে দলের বোলারদের অবস্থা। কাশবি ছাড়া কেউ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারেননি। দীপ্তি, শ্রী চরণিরা যা রান দিলেন, তাতে মনেই হল না, এই বোলারদের সামনেই বিশ্বকাপে হার মানছিল একের পর এক দল।