ICC T20 World Cup 2026

বিশ্বকাপ ফাইনাল অভিষেকের হবে! ভারতকে জিতিয়ে ফর্মহীন সতীর্থ ওপেনারের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন সঞ্জু

বিশ্বকাপে রান নেই অভিষেক শর্মার। সেমিফাইনালেও চলেনি ব্যাট। সেই অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন সেমিফাইনালের সেরা সঞ্জু স্যামসন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ০০:৫৪
(বাঁ দিকে) অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও তাঁদের মধ্যে কতটা বন্ধুত্ব রয়েছে তা-ও দেখিয়ে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। বিশ্বকাপে রান নেই অভিষেক শর্মার। সেমিফাইনালেও চলেনি ব্যাট। সেই অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন সেমিফাইনালের সেরা সঞ্জু। জানিয়ে দিলেন, ফাইনাল অভিষেকের হতে চলেছে।

Advertisement

ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত। খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে আসেন সঞ্জু। তিনি জানিয়েছেন, অভিষেককে নিয়ে কোনও চিন্তা তাঁরা করছেন না। সঞ্জু বলেন, “দলের পরিবেশ খুব ভাল। সকলে উপভোগ করছে। সাজঘরে খুব মজা করছি আমরা। সূর্য ভাই ও গৌতি ভাই আমাদের উপর ভরসা দেখিয়েছে। অভিষেকের ফর্মে ফেরা সময়ের অপেক্ষা। আমাদের মনে হয়, ফাইনাল অভিষেকের হবে।”

বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ছিলেন না সঞ্জু। কিন্তু এখন ফিরেছেন। সেই ফর্ম ফাইনালেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। সঞ্জু বলেন, “নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ে গায়ের জোরে শট মারতে যাচ্ছিলাম। ফলে সমস্যা হচ্ছিল। এখন টাইমিংয়ের উপর জোর দিয়েছি। ব্যাটে বল ভাল লাগছে। কিন্তু ওই সময়ে অভিষেক একাই দলকে টেনেছে। সেটা ভুলে গেলে চলবে না।”

অভিষেকই তাঁকে প্রথম বলেছিলেন, এই পিচে ২৫০ রান হতে পারে। সঞ্জু বলেন, “অভিষেক আউট হওয়ার পর আমি ও ঈশান দ্রুত রান করছিলাম। পরে তিলক, হার্দিক সকলেই একই কাজ করেছে। কারণ, আমরা জানতাম, এই উইকেটে অন্তত ২৫০ রান করতে হবে। না হলে জেতা কঠিন। ওয়াংখেড়েতে যে কোনও রান তাড়া করা যায়। সেটাই দেখা গেল। জয়ের কৃতিত্ব বোলারদের। এই উইকেটে বল করা খুব কঠিন। ওরা সেটা করে দেখিয়েছে।”

ব্যাট করতে নেমে আগের ম্যাচের ছন্দেই ব্যাট করছিলেন সঞ্জু। শুরু থেকে বড় শট মারছিলেন। সঞ্জু জানিয়েছেন, তিনি চাইছিলেন, যতটা বেশি সম্ভব রান করে নিতে। সঞ্জু বলেন, “গত ম্যাচ থেকে ফর্ম ফিরে পেয়েছি। ভাল শট খেলছিলাম। এই ম্যাচেও সেই ফর্ম টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। বড় ম্যাচে বড় রান করতে হত। কারণ, ওয়াংখেড়েতে যে কোনও রান তাড়া করে জেতা যায়। ইংল্যান্ড তো প্রায় জিতেই যাচ্ছিল। তাই যত বেশি সম্ভব রান করতে চেয়েছি। শেষ পর্যন্ত জিতেছি।”

পর পর দু’ম্যাচে শতরান হাতছাড়া হয়েছে সঞ্জুর। কিন্তু শতরানের কথা এক বারও মাথায় ছিল না তাঁর। ভারতীয় ওপেনার বলেন, “আমি কখনও শতরানের কথা ভাবিনি। ওয়াংখেড়েতে প্রচুর রান হয়। তাই সব সময় ভাবছিলাম, যত বেশি সম্ভব রান করব। টেস্ট বা এক দিনের ম্যাচে শতরান করতে হলে একটু সময় নেওয়া যায়। টি-টোয়েন্টিতে সেটা হয় না। নিজের মাইলফলকের কথা না ভেবে দলের জন্য খেলার চেষ্টা করি। এই ম্যাচেও সেটাই করেছি। দলকে জেতাতে পেরে ভাল লাগছে।”

জয়ের কৃতিত্ব দলের বোলারদেরও দিয়েছেন সঞ্জু। বিশেষ করে জসপ্রীত বুমরাহের নাম করেছেন তিনি। ভারতীয় ওপেনার বলেন, “পুরো কৃতিত্ব জসপ্রীত বুমরাহের। যে ভাবে ও বল করল তা এক কথায় অসাধারণ। এ রকম বোলার লাখে একজনই হয়। আমার মতে, ম্যাচের সেরার মেডেলটা ওরই পাওয়া উচিত ছিল। ২৫০ রান করেও তো হেরে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বুমরাহের চার ওভার আমাদের জিতিয়ে দিল। ওই চার ওভার না হলে আমরা হেরে জেতাম। পাওয়ার প্লেতে বরুণও ভাল বল করেছে।”

কেন আগেই বুমরাহ ও হার্দিকের ওভার ভারত শেষ করে দিয়েছিল সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সঞ্জু। তিনি বলেন, “আমরা আগেই খেলা শেষ করতে চেয়েছিলাম। তাই বুমরাহ ও হার্দিককে বল দেওয়া হয়েছিল। খেলা শেষ ওভারে গেল। কিন্তু তার আগেই ওদের রান তোলার গতি কমে গেল। তাই শেষ ওভারে শিবমের উপর চাপ কম ছিল।” দেশের হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা তাঁর স্বপ্ন। রবিবার সেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে বলে জানালেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন