Shivam Dube

বিশ্বকাপ জিতে ছদ্মবেশে ট্রেনে চেপে বাড়ি ফিরতে হল দুবেকে! ট্রেনযাত্রার কাহিনি শোনালেন ভারতীয় ক্রিকেটার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে বিমানে বাড়ি ফেরেননি শিবম দুবে। ট্রেনে চেপে অহমদাবাদ থেকে মুম্বইয়ে ফেরেন ভারতীয় ক্রিকেটার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১১:৪৩
cricket

বিশ্বকাপ জিতে ট্রফি হাতে স্ত্রী অঞ্জুমের সঙ্গে শিবম দুবে। ছবি: এক্স।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে আর তর সয়নি শিবম দুবের। চার বছরের ছেলে আয়ান ও দু’বছরের মেয়ে মেহউইশের কাছে দ্রুত ফিরতে চেয়েছিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। কিন্তু বিধি বাম। রবিবার রাতে অহমদাবাদ থেকে মুম্বইয়ে ফেরার কোনও টিকিটই ছিল না। বাধ্য হয়ে দুবে ঠিক করেন, ট্রেনেই বাড়ি ফিরবেন। ফেরেনও। তবে ছদ্মবেশে। সেই কাহিনিই শুনিয়েছেন দুবে।

Advertisement

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে নিজের বাড়ি ফেরার কাহিনি শুনিয়েছেন দুবে। বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে অহমদাবাদে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী অঞ্জুম ও এক বন্ধু। কিন্তু সন্তানেরা বাড়িতে ছিল। দুবে বলেন, “কোনও বিমানে টিকিট ছিল না। তাই ঠিক করেছিলাম, সোমবার ভোরে অহমদাবাদ থেকে ট্রেনে মুম্বই ফিরব। সড়কপথেও ফিরতে পারতাম। তবে তাতে সময় বেশি লাগত।” অহমদাবাদ থেকে মুম্বই ট্রেনে ৬.৩০-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই ট্রেনে ফেরারই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তবে এই সিদ্ধান্ত শুনে পরিবারের সকলেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। অনেকে সতর্কও করেছিলেন দুবেকে। ভারতীয় অলরাউন্ডার বলেন, “আমি, আমার স্ত্রী ও বন্ধু ঠিক করি ট্রেন ধরব। থার্ড এসি-র টিকিটও ছিল। তাই কেটে ফেলি। কিন্তু পরিবারের সকলে ও বন্ধুরা খুব চিন্তা করছিল। ওরা বার বার বলছিল, যদি কেউ স্টেশন বা ট্রেনে আমাকে চিনতে পেরে যায় তো কী হবে?”

দুবের ছদ্মবেশ

দুবেও জানতেন, কয়েক ঘণ্টা আগে বিশ্বকাপ জিতে ও ভাবে ট্রেনে ফেরার পথে কেউ তাঁকে চিনতে পেরে গেলে সমস্যা হবে। তাই তাঁরা একটি পরিকল্পনা করেন। দুবে ঠিক করেন, ছদ্মবেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, “আমি টুপি ও মাস্ক পরেছিলাম। ফুলহাতা টি-শার্টও পরেছিলাম। ভোর ৫.১০ মিনিটের ট্রেন ছিল। ভেবেছিলাম প্ল্যাটফর্মে খুব একটা ভিড় হবে না।”

কিন্তু ভুল ভেবেছিলেন দুবে। কারণ, বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাওয়া অনেক দর্শকও সেই ট্রেনে ফিরছিলেন। ফলে আগে থেকেই স্টেশনে ভিড় ছিল। বেশির ভাগেরই পরনে ভারতীয় দলের জার্সি। তখনও উল্লাস চলছিল। তাই শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনায় বদল করেন দুবে। তিনি বলেন, “আমি অঞ্জুমকে বলেছিলাম, ট্রেনের ভিতরে গিয়ে বসতে। আমি গাড়িতেই অপেক্ষা করছিলাম। ট্রেন ছাড়ার ৫ মিনিট আগে গিয়ে উঠি।”

ট্রেনে উঠে উপরের বার্থে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন দুবে। কেউ তাঁকে দেখে চিনতে পারেননি। কিন্তু পরে অন্য একটি চিন্তায় পড়েন তিনি। দুবে বলেন, “ট্রেনে কোনও সমস্যা হয়নি। আমি এক বার বার্থ থেকে নেমে শৌচাগারেও যাই। কেউ চিনতে পারেনি। কিন্তু অন্য একটা চিন্তা শুরু হয়। বোরিভল্লিতে যখন নামবে তখন বেলা হয়ে যাবে। সেখানে তো সকলের চোখ এড়িয়ে স্টেশন থেকে বেরোতে পারব না।”

বাধ্য হয়ে বোরিভল্লি পৌঁছোনোর আগেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিবম। তিনি বলেন, “ওরা প্রথমে ভেবেছিল আমি বিমানবন্দরে নামব। যখন বললাম যে স্টেশনে নামব, ওরা অবাক হয়ে যায়। পরে পুলিশি পাহারায় স্টেশন থেকে বার হই। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে বাচ্চাদের কোলে নিই।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে জেতাতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন দুবে। ৩৯ গড় ও ১৬৯ স্ট্রাইখ রেটে ২৩৫ রান করেছেন তিনি। ১৭ ছক্কা ও ১৫ চার মেরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইনিংস খেলেছেন। ইডেনে ভারতকে সেমিফাইনালে তুলতে শেষ দিকে দুবের দু’টি চার কাজে লেগেছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর গুরুত্ব কতটা।

Advertisement
আরও পড়ুন