ICC T20 World Cup 2026

নাটক শুধুই টসের সময়! মাঠে পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে দিব্যি হাসি-ঠাট্টায় রিঙ্কুরা, বোর্ডের চাপেই কি হাত মেলাচ্ছেন না সূর্য?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও টসের পর হাত মেলাননি ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। কিন্তু খেলার আগে ধরা পড়ল অন্য ছবি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪০
cricket

খেলার আগে খোশমেজাজে ভারতের রিঙ্কু সিংহ (বাঁ দিকে) ও পাকিস্তানের ফাহিম আশরফ। ছবি: পিটিআই।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হাত না মেলানোর নির্দেশ কি পুরোপুরি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের? নইলে খেলার আগে কেন অন্য ছবি ধরে পড়ছে? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও টসের পর হাত মেলাননি ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। কিন্তু খেলার আগে দেখা গেল, ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন দু’দলের ক্রিকেটারেরা। দূরে না থেকে কাছাকাছি দেখা গেল রিঙ্কু সিংহ, ফাহিম আশরফদের।

Advertisement

রবিবার কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর আগে দু’দলের ক্রিকেটারের অনুশীলন করছিলেন। সেই সময়ই এই ছবি দেখা যায়। সাধারণত, মাঠের দু’দিকে দু’দলের ক্রিকেটারেরা অনুশীলন করেন। ফলে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব থাকে। কিন্তু অনুশীলনের সময় দেখা গেল, বেশ কাছাকাছি রয়েছেন দু’দলের কয়েক জন ক্রিকেটার। পাকিস্তানের সাহিবজ়াদা ফারহান যখন ব্যাট করছিলেন, তখন তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বরুণ চক্রবর্তীকে।

পরে আরও একটি ছবি দেখা যায়। ভারতের রিঙ্কু ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ফাহিম। দু’জনের মুখেই হাসি। দেখে মনে হচ্ছে, হাসি-ঠাট্টা করছেন তাঁরা। এক বারও দেখে মনে হয়নি, ক্রিকেটারদের মধ্যে কোনও সমস্যা রয়েছে।

এই ছবিগুলি সামনে আসার পরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বোর্ডের চাপেই কি হাত মেলাচ্ছেন না দু’দলের ক্রিকেটারেরা? কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও তার পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পর থেকে ভারত-পাক সম্পর্ক উত্তপ্ত। সেই উত্তাপ ছড়িয়েছে ক্রিকেট মাঠেও। গত বছর এশিয়া কাপে তিন বার ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। তিন বারই করমর্দন হয়নি। ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট করে দেন, দেশের মানুষের পাশে তাঁরা রয়েছেন। খেলতে হচ্ছে বলে খেলছেন। বাড়তি কিছু তাঁরা দেখাবেন না। এমনকি, এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারানোর পর পাক বোর্ডের প্রধান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতেও চাননি তাঁরা। এশিয়া কাপের ট্রফি এখনও ভারত পায়নি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আরও এক দফা নাটক হয়। পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, তারা বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। আট দিন ধরে সেই নাটক চলে। পরে অবশ্য আইসিসি, সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বেশ কিছু ক্রিকেট বোর্ডের চাপে পিছু হটে পাকিস্তান। খেলতে রাজি হয় তারা।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে করমর্দন নিয়ে দু’দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা কিন্তু বার বার দু’দেশের বোর্ডের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, খেলার মধ্যে রাজনীতি আনা উচিত নয়। খেলাকে খেলার মতো থাকতে দেওয়া উচিত। করমর্দন না হওয়ায় পাকিস্তানের অনেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেও দায়ী করেছেন। কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ভারত। সেটা খেলার মধ্যেই দেখা গেল।

রবিবারের ম্যাচে করমর্দন দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে আগের দিন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন বলেছিলেন, “কী করবে সেটা ওরা ঠিক করুক।” সূর্য এই প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “এখনও ২৪ ঘণ্টা সময় আছে। খাওয়া-দাওয়া করুন। দেখতে পাবেন কী হবে।” ভারতীয় বোর্ডের প্রাক্তন সচিব জয় শাহ এখন আইসিসির চেয়ারম্যান হলেও ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর কথার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। অনেকে বলেন, নেপথ্যে থেকে তিনিই সব সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার যখন ভারত-পাক ম্যাচ চলছে তখনই পাকিস্তান বোর্ডের চেয়ারম্যান নকভির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা জয় শাহের। সেই কারণেই অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো এই ম্যাচে হাত মেলাতে দেখা যাবে দু’দলের ক্রিকেটারদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

কিন্তু ম্যাচের আগে যে ছবি দেখা গেল, তাতে প্রশ্ন উঠছে। সত্যিই কি ক্রিকেটারেরা হাত মেলাতে চাইছেন না? নাকি বোর্ডের চাপে সেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা?

Advertisement
আরও পড়ুন