India vs New Zealand Series 2026

ঈশান কোণে ঝড়, রায়পুর দেখল সূর্যোদয়ও, ২০৯ তাড়া করে জয়ী ভারত, টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ২-০ এগিয়ে গেল গম্ভীরের দল

রায়পুরে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫.২ ওভারে ২০৯ রান তাড়া করল ভারত। ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের নায়ক ঈশান কিশন ও সূর্যকুমার যাদব। ১৪ মাস পরে অর্ধশতরান করলেন ভারত অধিনায়ক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৮
cricket

ঈশান কিশন (বাঁ দিকে) ও সূর্যকুমার যাদব। রায়পুরে ভারতের জয়ের দুই নায়ক। ছবি: পিটিআই।

নাগপুরে শুরুটা করলেও বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি। কিন্তু রায়পুরে ঈশান কিশন দেখালেন, ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে তাঁকে নিয়ে ভুল করেননি অজিত আগরকর, গৌতম গম্ভীরেরা। দু’বছর পর ভারতীয় দলের হয়ে অর্ধশতরান করলেন ঈশান। রায়পুরে ঝড় তুললেন তিনি। ১৪ মাস পরে অর্ধশতরান করলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও। ঈশানের ৭৬ ও সূর্যের ৮২ রানে ভর করে ২৮ বল বাকি থাকে ২০৯ রান তাড়া করে জিতল ভারত। ৭ উইকেটে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ২-০ এগিয়ে গেল ভারত।

Advertisement

২০৯ রান তাড়া করতে নেমে সাত বলের মধ্যে দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার উইকেট হারায় ভারত। দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন সঞ্জু। ডেভন কনওয়ের হাতে লেগে তা ছক্কা হয়ে যায়। দু’বল পরে আবার ক্যাচ তোলেন তিনি। এ বার ভুল করেননি রাচিন। আরও এক বার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না সঞ্জু। ভারতের রান তাড়া করার দায়িত্ব ছিল অভিষেকের কাঁধে। কিন্তু প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। স্টেডিয়াম তখন স্তব্ধ। পাতা পড়লেও শব্দ পাওয়া যাবে। সেই স্টেডিয়ামে জীবন ফেরালেন ঈশান ও সূর্য।

cricket

প্রথম বল থেকে হাত খোলেন ঈশান। একের পর এক বড় শট মারলেন তিনি। শিশির পড়ায় বোলার ও ফিল্ডারদের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই কাজ আরও কঠিন করে তোলেন ঈশান। কাউকে রেয়াত করেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২১ বলে অর্ধশতরান করেন ঈশান। তার পরেও চলতে থাকে তাঁর ব্যাট। দেখে মনে হচ্ছিল, শতরান করবেন। কিন্তু ঈশ সোধির বলে আউট হন তিনি। ৩২ বলে ৭৬ রান করেন ঈশান। ১১ চার ও ৪ ছক্কা মারেন তিনি।

শতরান হাতছাড়া করলেও বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে নিজের জায়গা অনেকটাই পাকা করে ফেললেন ঈশান। সঞ্জু ফর্মে নেই। তিলক বর্মা ফিরলে তিনি তিন নম্বরে খেলবেন। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপে অভিষেকের সঙ্গে ঈশানকে ওপেন করতে দেখা যেতে পারে। দুই ম্যাচে দু’জন যা খেলেছেন তাতে তাঁরা ফর্মে থাকলে বিশ্বকাপে সমস্যা হবে ভারতের প্রতিপক্ষ দলগুলির।

ঈশান যত ক্ষণ মারছিলেন, এক দিকে ধরেছিলেন সূর্য। মাঝে মাঝে শট মারছিলেন। কিন্তু বেশি ঝুঁকি নেননি। ঈশান আউট হওয়ার পর হাত খুললেন ভারতের অধিনায়ক। নিউ জ়িল্যান্ডের ফিল্ডিংও খারাপ হল। চার গলল। ক্যাচ পড়ল। ১৪ মাস পরে অর্ধশতরান করে মাঠ ছুঁয়ে প্রণাম করলেন সূর্য। ক্রিকেটদেবতাকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি। অর্ধশতরানের পর সূর্যকে দেখে বোঝা গেল, অনেক বেশি ফুরফুরে মেজাজে তিনি। সেই পুরনো সূর্যকে দেখা গেল এই ম্যাচে। ইনিংসে ৯ চার ও ৪ ছক্কা মারলেন অধিনায়ক।

সূর্য ও শিবম দুবে মিলে বাকি কাজ করলেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধশতরানের জুটি হল। তাঁদের দেখে মনে হচ্ছিল, কত তাড়াতাড়ি খেলা শেষ করা যায়, সেই প্রতিযোগিতা চলছে। শেষ পর্যন্ত ১৫.২ ওভারে খেলা জিতে সিরিজ়ে ২-০ এগোল ভারত। সূর্য ৩৭ বলে ৮২ ও শিবম ১৮ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকলেন। তিনটি ছক্কা মারলেন শিবমও। ২০০-র বেশি রান তাড়া করতে নেমে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতল ভারত। সূর্যেরা বুঝিয়ে দিলেন, দেশের মাটিতে তাঁদের হারানো কতটা কঠিন।

রায়পুরে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক সূর্য। তখনই তিনি জানান, শিশির পড়তে শুরু করেছে। ফলে বোলারদের যে সমস্যা হবে তা বোঝা যাচ্ছিল। আগের দিন ভারত যেমন উইকেটের পরোয়া না করে প্রথম থেকে হাত খুলে খেলছিল, তেমনটাই শুরু করে নিউ জ়িল্যান্ড। টিন রবিনসনের বদলে এই ম্যাচে খেলেন টিম সেইফার্ট। ওপেন করতে নেমে ডেভন কনওয়ের সঙ্গে চালিয়ে খেলেন তিনি।

ওপেনিং জুটিতে মাত্র ৩.২ ওভারে ওঠে ৪৩ রান। নিউ জ়িল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন হর্ষিত রানা। ৯ বলে ১৯ রান করে আউট হন কনওয়ে। প্রথম ওভার উইকেট মেডেন করেন হর্ষিত। নিউ জ়িল্যান্ডের রান তোলার গতি কিছুটা কমান তিনি। পরের ওভারে সেইফার্টকে (২৪) আউট করেন বরুণ চক্রবর্তী।

আগের ম্যাচে রান না পেলেও এই ম্যাচে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন রাচিন রবীন্দ্র। বিশেষ করে ভারতের স্পিনারদের আক্রমণ করেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন গ্লেন ফিলিপ্স। তাঁরা যখন খেলছিলেন, তখন ওভার প্রতি ১২-১৩ রান তুলছিল নিউ জ়িল্যান্ড। সেই জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। এই ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ফিলিপ্সকে ১৯ রানের মাথায় আউট করেন তিনি। রাচিনকেও ৪৪ রানের মাথায় ফেরান কুলদীপ।

ড্যারিল মিচেল ও মার্ক চ্যাপম্যান এই ম্যাচে রান পাননি। ১৮ রান করে শিবম দুবের বলে আউট হন মিচেল। এক দিনের সিরিজ়ের ফর্ম টি-টোয়েন্টিতে দেখাতে পারছে না তিনি। ১০ রান করে হার্দিক পাণ্ড্যের বলে আউট হন চ্যাপম্যান।

পর পর উইকেট পড়ায় একটা সময় মনে হচ্ছিল, ২০০ পার হবে না নিউ জ়িল্যান্ডের। কঠিন সময়ে অধিনায়কের ইনিংস খেললেন মিচেল স্যান্টনার। হাত খুলে খেললেন তিনি। অর্শদীপকে নিশানা করেন স্যান্টনার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৮ রান করে নিউ জ়িল্যান্ড। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে এটি নিউ জ়িল্যান্ডের সর্বাধিক রান। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ভারতের বিরুদ্ধে কোনও দল ২০০ রানের বেশি করল। তার পরেও জিততে পারল না নিউ জ়িল্যান্ড।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কুলদীপ ২ এবং হার্দিক, হর্ষিত ও বরুণ ১ করে উইকেট নেন। খারাপ বল করেন অর্শদীপ। চার ওভারে ৫৩ রান দেন তিনি। একটিও উইকেট পাননি ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া পেসার। জয়ের আনন্দের মধ্যেও অর্শদীপের বোলিং কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে গম্ভীরকে।

Advertisement
আরও পড়ুন