শুনানিকেন্দ্রে ভোটারদের লাইন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মতো একই নিয়ম উত্তরপ্রদেশেও চালু করল নির্বাচন কমিশন। সেখানেও এ বার থেকে কোনও ভোটার চাইলে কমিশনের শুনানিতে সশরীরে হাজিরা না-ও দিতে পারেন। এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর। বলা হচ্ছে, ভোটারদের অনুমোদিত কোনও প্রতিনিধি শুনানির জন্য হাজিরা দিতে পারেন। অর্থাৎ, এখন থেকে আর উত্তরপ্রদেশেও কমিশনের শুনানির জন্য সশরীরে হাজিরা দিতে বাধ্য নন ভোটারেরা।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় আগেই এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলায় শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনও ভোটার চাইলে নিজেদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন। এই প্রতিনিধি বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-ও হতে পারেন। তবে এর জন্য স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপযুক্ত একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আদালতে ‘ধাক্কা’ খাওয়ার পরেই এ বার উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।
উত্তরপ্রদেশের সিইও নবদীপ রিনওয়া শুক্রবার জানান, যে ভোটারেরা কোনও কারণে সশরীরে হাজিরা দিতে পারছেন না, তাঁদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে শুনানি-প্রক্রিয়ায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের সিইও দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ধরনের ভোটারেরা চাইলে কোনও প্রতিনিধিকে শুনানির জন্য পাঠানো পারেন। তবে ভোটারদের অবশ্যই স্বাক্ষর করে বা আঙুলের ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে মনোনীত করতে হবে। তবেই সেই ব্যক্তি শুনানিতে উপস্থিত থেকে ওই ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গের মামলার ক্ষেত্রে যেমন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই রয়েছে, চাইলে কোনও ভোটার বিএলএ-কেও নিজের প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারেন। তবে উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট ভাবে এমন কোনও বিষয়ের উল্লেখ নেই। পশ্চিমবঙ্গের মামলা থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়ে উত্তরপ্রদেশের পরে অন্য রাজ্যগুলিতেও কমিশন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে কি না, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি।