—প্রতীকী চিত্র।
যমুনা নদীর জলে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধিতে নাগরিকদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে, মুনাক খালের মাধ্যমে হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে আসা জলের পরিমাণও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর বেশ কিছু জায়গায় জল সরবরাহ কমতে পারে।
সরকারি দফতর সূত্রে খবর, শীতকালে নদীতে দূষণের মাত্রা ১ পিপিএম ছাড়িয়ে যায়। দিল্লিতে যে সমস্ত জল শোধনাগার আছে সেগুলিতে যমুনার এই দূষিত জল পরিশুদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য হরিয়ানা থেকে আসা জল যমুনার জলে মেশানো হয়। কিন্তু বর্তমানে মুনাক খাল সংস্কারের কাজ চলছে। তাই জল সরবরাহ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সরকারি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, দূষণ মোকাবিলায় অন্তত পক্ষে সাতটি জল শোধনাগারে এই মুহূর্তে থেকে জল সরবরাহ বন্ধ আছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যার কারণ দিল্লির ওয়াজিরাবাদের শোধনাগার বন্ধ থাকা। বৃহত্তম এই ট্যাঙ্ক থেকেই প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন গ্যালন জল সরবরাহ হত। আরও জানা গিয়েছে, চান্দেরওয়ালের ট্যাঙ্ক থেকে আগে যেখানে ১০০ মিলিয়ন গ্যালন জল সরবরাহ হত সেখানে তার সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে করা হয়েছে প্রায় অর্ধেক। হায়দারপুরের দু’টি ট্যাঙ্ক থেকে একত্রে জল আসত ২০০ মিলিয়ন। সেখান থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫ শতাংশ। দ্বারকা, বাওয়ানা ও নাংলোইয়ের জল শোধনাগার থেকে একত্রে ১০০ মিলিয়ন গ্যালন জল আসত। সেখান থেকেও কমেছে সরবরাহ।
তবে এত সবের মাঝেও ভরসা বলতে সনিয়া বিহার ও ভাগীরথী এলাকার দু’টি শোধনাগার। গঙ্গা নামক খালের মাধ্যমে গঙ্গা থেকে জল আসার কারণেই এখানে দূষণ হয়নি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, দ্বারকা, আইজিআই বিমানবন্দর, সুলতানপুরী, শালিমার বাগ, করালা, রাজৌরি গার্ডেন, রাজা গার্ডেন, মধু বিহার, প্রশান্ত বিহার, পশ্চিম বিহার, বাওয়ানা, মঙ্গলপুরী, মায়াপুরী, জনকপুরী-সহ সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকায় জলসরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দিল্লি জল বোর্ড (ডিজেবি)-এর বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে হরিয়ানা জল বোর্ড (এইচজেবি)। আপাতত হরিয়ানার জল কর্তৃপক্ষ দিল্লিতে জল সরবরাহ করছে। তবে নাগরিকদের বিচক্ষণ ভাবে জল ব্যবহার করার পরামর্শ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।