কেকেআরের বোলারদের উইকেট নেওয়ার মুহূর্ত। ছবি: পিটিআই।
চলতি আইপিএলে দু’টি ম্যাচেই হেরেছে কলকাতা। দুই ম্যাচেই প্রকট হয়েছে বোলিং বিভাগের ব্যর্থতা। প্রতিপক্ষ তুলেছে ২০০-র উপর রান। তবু পঞ্জাবের বিরুদ্ধে নামার আগে কেকেআরের বোলিং কোচ টিম সাউদি বলে দিলেন, এই দলের বোলিং বিভাগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। বাকি প্রতিযোগিতায় বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারাইনেরা বড় ভূমিকা নেবেন বলে আশা তাঁর।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসে সাউদি বলেছেন, “দলের পরিবেশ দারুণ। আমরা জানি এটা লম্বা প্রতিযোগিতা। সব দলই জিতে শুরু করতে চায়। যে ভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম তা আমরা পারিনি। প্রতিটা ম্যাচই কঠিন ছিল। কিন্তু এখনই ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। লম্বা প্রতিযোগিতায় সবে দুটো ম্যাচ খেলা হয়েছে।”
নারাইন এবং বরুণের বোলিং নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। কেকেআরের দুই প্রধান স্পিনারই এ বার নিষ্প্রভ। দুই ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছেন। পুরো ওভার বল করানোই যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে সাউদির জবাব, “আইপিএলের দিকে তাকালে বুঝবেন কত রান উঠছে। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার আসার পর সব দলই প্রচুর রান তুলতে চাইছে। দুই স্পিনারের উপরেই আমাদের আস্থা রয়েছে। দু’জনেই বিশ্বমানের স্পিনার। সবে দুটো ম্যাচ হয়েছে। তাই খুব কম নমুনা আপনারা দেখতে পেয়েছেন। ওরা দু’জনেই আইপিএলে নিজেদের প্রমাণ করেছে এত বছর ধরে। তাই ভবিষ্যতেও ওরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে বলে আমার বিশ্বাস।”
শনিবার পুরোদমে বল করতে দেখা গিয়েছিল ২৫.২০ কোটির বিদেশি ক্যামেরন গ্রিনকে। সাউদি জানিয়েছেন, বল করার মতো প্রয়োজনীয় ফিটনেস দ্রুত ফিরে পাবেন গ্রিন। সাউদির কথায়, “ও অনুশীলনে দারুণ বল করছে। ওর রিহ্যাবে নজর রাখছি আমরা। দ্রুত ম্যাচে যাতে বল করতে পারে সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে। হঠাৎ করে কোনও ম্যাচ বল করিয়ে দেওয়া যাবে না। এখানে আসার পর থেকেই বল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে গ্রিন।”
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জবাব নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে না চেয়ে সাউদির ব্যাখ্যা, “ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। এ টুকু বলতে পারি, ম্যাচে বল করা থেকে বেশি দূরে নেই গ্রিন।”
সাউদি স্বীকার করে নিয়েছেন, পাওয়ার প্লে-তে উইকেট না পাওয়া নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। কেকেআরের বোলিং কোচের উত্তর, “পাওয়ার প্লে-তে উইকেট না পেলে কাজটা শক্ত হয়ে যায়। বিপক্ষের ইনিংসের যে কোনও সময়েই উইকেট পাওয়া ভাল। তবে পাওয়ার প্লে-তে বেশি করে উইকেট দরকার যাতে রানের গতি কমে। সেটা আমরা এখনও পর্যন্ত পারিনি।”
অনেকেই মনে করছেন, রাচিন রবীন্দ্র বা রভমান পাওয়েলকে খেলানো উচিত কেকেআরের। তাতে বোলিংয়ে একটি অতিরিক্ত বিকল্প থাকবে। তা নিয়ে সাউদির মন্তব্য, “যে দলের পক্ষে ম্যাচ জেতানোর সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে সেই দলই নামাই। দলের প্রত্যেকের মধ্যে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। তাই নিখুঁত প্রথম একাদশ বেছে নেওয়া কঠিন। কালকেও আমরা সেরা দলই নামাব।”