অজিঙ্ক রাহানে। —ফাইল চিত্র।
এই অজিঙ্ক রাহানেই কি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলেন? ভাঙাচোরা দল নিয়েও লড়াই করেছিলেন? রবিবার দুপুরে ইডেনে যে রাহানেকে চোখে পড়ল, তিনি কি আদৌ অধিনায়কত্ব জানেন? তিনি যা যা ভুল করছেন, তা ক্রিকেটের সামান্য জ্ঞান থাকলেও করা যায় না। অবাক করছেন তিনি। এ বারের শুরু থেকেই রাহানের অধিনায়কত্ব নিয়ে সমালোচনা চলছিল। কিন্তু রবিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি। শেষপর্যন্ত কেকেআর ম্যাচ জিতলেও রাহানের অধিনায়কত্ব অবাক করল।
জয়ী দলে সাধারণত বদল হয় না। কিন্তু যে দল ক্রমাগত হারছে, সেই দলে তো বদল স্বাভাবিক। শুধু স্বাভাবিক নয়, অপরিহার্য। যে ক্রিকেটারেরা খেলতে পারছেন না, তাঁদের সরিয়ে বাকিদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাতে যদি ছবিটা বদলায়। কিন্তু টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন থাকার পরেও দলে কোনও বদল করেননি রাহানে।
যদি এমন হত দলে বিকল্প নেই, তা হলে এক কথা। কিন্তু তেমনটা তো নয়। রাচিন রবীন্দ্র মরসুমের শুরু থেকে বেঞ্চে বসে রয়েছেন। তিনি যেমন টপ অর্ডারে ব্যাট করতে পারেন, তেমনই চার ওভার বল করতে পারেন। কিন্তু কোনও এক অদ্ভুত কারণে তাঁকে খেলানো হচ্ছে না। প্রত্যেক দল তরুণ প্রতিভা তুলে আনছে। কেকেআরেও সার্থক রঞ্জন, তেজস্বী দাহিয়ার মতো তরুণ ক্রিকেটার রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রবিবারের ম্যাচে যখন রাহানে জানালেন, প্রথম একাদশ একই রয়েছে, তখন অবাক হয়ে গিয়েছিলেন সকলে।
প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ইডেনের উইকেটে ঘূর্ণি রয়েছে। কেকেআরের দুই স্পিনার সুনীল নারাইন ও বরুণ চক্রবর্তী আট ওভারে মাত্র ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন। দলে আর এক স্পিনার অনুকূল রায় ছিলেন। আগে বেশ কিছু ম্যাচে বল করেছেন তিনি। ভালই করেছেন। সেই অনুকূলকে বলই দিলেন না রাহানে। কেকেআরের বাকি ১২ ওভার করলেন পেসারেরা। দিলেন ১১২ রান।
রাজস্থান কিন্তু তা করেনি। দলে রবি বিশ্নোই ও রবীন্দ্র জাডেজার মতো দুই স্পিনার ছিলেন। তার পরেও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে সন্দীপ শর্মাকে না নামিয়ে যশ রাজ পুঞ্জার মতো তরুণ স্পিনারকে নামাল তারা। বল করলেন রিয়ান পরাগও। অর্থাৎ, রাজস্থানের চার স্পিনার বল করেছে। সেখানে কেকেআর তিন স্পিনার খেলিয়েও মাত্র দুই স্পিনারকে দিয়ে বল করাল। তার নেপথ্য কারণ কেউ জানে না। শেষপর্যন্ত কেকেআর জিততে না পারলে কিন্তু স্পিনারকে বল না দেওয়া বড় কারণ হয়ে দাঁড়াত।
শেষপর্যন্ত কেকেআরকে জেতালেন রিঙ্কু সিংহ ও অনুকূল রায়। তাঁরা দু’জনেই ভারতীয় ক্রিকেটার। স্পিন খেলতে জানেন। অথচ, যখন পর পর উইকেট পড়ছিল, তখন রভম্যান পাওয়েলকে রিঙ্কুর আগে নামালেন রাহানে। রিঙ্কু আরও বেশি বল পেলে হয়তো আরও আগে ম্যাচ শেষ করে দিতেন। কিন্তু রাহানের পরিকল্পনার কারণে তা হয়নি। ম্যাচ হারলে রাহানের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠত। কিন্তু জেতার কারণ হয়তো সেই সমালোচনার মুখে এখনই পড়তে হবে না কেকেআর অধিনায়ককে।