বেঙ্কি মাইসোর (বাঁ দিকে) এবং ক্যামেরন গ্রিন। — ফাইল চিত্র।
ক্যামেরন গ্রিন কি ক্রমশ কেকেআরের বোঝা হয়ে যাচ্ছেন? চেন্নাই ম্যাচের পর থেকে এই প্রশ্নটা আরও জোরালো ভাবে উঠতে শুরু করেছে। গ্রিনের পারফরম্যান্স নিয়ে দলের অনেকেই অসন্তুষ্ট। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে যে কর্তারা ২৫ কোটি টাকা খরচ করে গ্রিনকে নিলামে নিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যেতে চাইছেন না কেউই। তাই মুখ ফুটে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে কথায়-আচরণে গ্রিনকে নিয়ে অসন্তোষই প্রকাশ পাচ্ছে বেশির ভাগের মধ্যে।
চেন্নাই ম্যাচের পর বোলিং কোচ টিম সাউদিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্রিনকে নিয়ে। তিনি বলেন, “যে ভাবে মনে করেছিল, সে ভাবে প্রতিযোগিতাটা শুরু করতে পারেনি। তবে গ্রিন ভাল মানের ক্রিকেটার। আইপিএলের আগে খুব বেশি ক্রিকেট খেলতে পারেনি। বাকিদের থেকে গ্রিন নিজেকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশ। কারণ শুরুটা একেবারেই ভাল হয়নি ওর। তবে ও ভাল ক্রিকেটার। আশা করি প্রতিযোগিতার কোনও এক সময় ও ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে।”
গত কয়েক মাসে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন গ্রিন। সুযোগও পাচ্ছিলেন দেশের হয়ে। কিন্তু সুনাম ধরে রাখতে পারেননি তিনি। অ্যাশেজ়ে খারাপ ফল এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের খারাপ খেলার দায় অনেকাংশে তাঁর উপরেই এসে পড়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজর কাড়ার মতো খেলতে পারেননি। কিন্তু আইপিএলে বিপুল দাম পান। অতীতে মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর হয়ে মোটামুটি ভাল খেললেও এ বার কলকাতার হয়ে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না গ্রিনের খেলায়।
চলতি আইপিএলে পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৫৬ রান করেছেন গ্রিন। মাত্র ২৪টি বল করেছেন। ৫৮ রানে একটি উইকেট নিয়েছেন। অর্থাৎ বলে হোক বা ব্যাটে, কোনও ভাবেই তিনি দলের কাজে লাগতে পারছেন না। আদৌ তিনি ২৫.২০ কোটি টাকা পাওয়ার যোগ্য কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
কেকেআরের দলে গৌতম গম্ভীর মেন্টর থাকাকালীন তিনিই দল তৈরি করতেন। কাকে নেওয়া হবে বা কাকে ছাড়া হবে সবটাই তিনি দেখতেন। কিন্তু অভিষেক নায়ারের আমলে বা তারও আগে থেকে দল নির্বাচনে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন দলের সিইও বেঙ্কি মাইসোর। মালিক শাহরুখ খানও তাঁকে ভরসা করেন বলে শোনা গিয়েছে। এই বেঙ্কির বুদ্ধিতেই শ্রেয়স আয়ারের মতো ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। অতীতে শুভমন গিলকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দু’জনেরই প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা নয় কোনও মহলেই।
শ্রেয়সের মতো ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিয়ে আনা হয়েছে গ্রিনকে, যিনি আইপিএলে অন্তত একটি মরসুমেও এমন পারফরম্যান্স করতে পারেননি যা তাঁকে ২৫.২০ কোটি দাম দিতে পারে। আন্দ্রে রাসেলের উত্তরসূরি হিসাবে রাতারাতি তাঁকে তৈরি করার যে ভাবনা ছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়েছে পাঁচটি ম্যাচ পরেই। দলে বেঙ্কির প্রভাব এতটাই যে, কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তবে বিরক্তি ধরা পড়েছে প্রতিটি মন্তব্যেই।
চেন্নাই ম্যাচে হারের পর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে দলে বদলের কথা বললেও, গ্রিনকে বসানোর কথা সরাসরি বলেননি। কিন্তু গ্রিন যে দলের মাথাব্যথা এটা বোঝা গিয়েছে তাঁর মন্তব্যে। রাহানে বলেছিলেন, “আমরা শেষ দু’টো ম্যাচ যে দল নিয়ে খেললাম, সেটা সত্যিই ভাল। তবে আমাদের আরও ভাবতে হবে। আমরা জিততে পারছি না ঠিকই। তা-ও মাথা উঁচু রাখতে হবে আমাদের। চিবুক উঁচু রাখতে হবে। বার বার ম্যাচের ফল যদি পক্ষে না আসে, তা হলে প্রথম একাদশ নিয়ে ভাবতেই হবে। তবে আমরা ইতিবাচক ভাবেই ভাবতে চাই। সাহসী থাকতে চাই।’’
তার আগে কেকেআরের কোচও জানিয়েছিলেন, রাসেলের পরিবর্ত হিসাবে নেওয়া হলেও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি গ্রিন। নায়ার বলেছিলেন, “নিলামে আমাদের লক্ষ্য ছিল খুব সহজ। যদি রাস (আন্দ্রে রাসেল) না থাকে তা হলে কে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার এবং কে দলে প্রভাব ফেলতে পারে ও রাসেলের উত্তরাধিকার হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে? আমরা ভেবেছিলাম ক্যামেরন গ্রিন সেটা পারবে। দুর্ভাগ্যবশত এখনও বল করতে পারেনি।”
যাঁরা কেকেআর দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরা অবশ্য সমালোচনায় কোনও রাখঢাক করেননি। যেমন হরভজন সিংহ কিছু দিন আগে বলেছিলেন, “আমার মনে হয় ক্যামেরন গ্রিন এই দলে জায়গা পেতেই পারে না। সহজ কারণ হল, ও বল করছে না। কেকেআরের উচিত টিম সেইফার্টকে দলে এনে ওকে দিয়ে ওপেন করানো। গ্রিন বল না করলে, ওর থেকে ভাল ব্যাটার কেকেআরের দলে রয়েছে। সেইফার্টের মতো বিকল্প রয়েছে। রভমান পাওয়েল রয়েছে। ওকেও খেলানো যেতে পারে।”
ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অ্যারন ফিঞ্চও। চেন্নাই ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন, “দুই স্পিনারের সামনে গ্রিন মাত্র একটা বল টিকল। স্পিনারদের সামনে ব্যাট করতে নামা ওর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। বিশেষ করে রান তাড়ার সময়ে। মনে হয় না দাম দেখে কাউকে দলে নেওয়া উচিত। আপনি যে ধরনের দক্ষতা চাইছেন সেটা পূরণ করাই নিলামে আসল কাজ। কাউকে বেশি দাম দিয়ে কিনেছি মানে তাকে খেলাতেই হবে এমনটা একদমই হওয়া উচিত নয়।”