মহম্মদ শামি। —ফাইল চিত্র।
কলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচের পর মহম্মদ শামিকে বিশেষ একটি পুরস্কার দিয়েছেন লখনউ সুপার জায়ান্টস কর্তৃপক্ষ। সাজঘরে ল্যান্স ক্লুজনার পুরস্কার তুলে দিয়েছেন বাংলার জোরে বোলারের হাতে। তা দেখে রেগে লাল নাইট সমর্থকদের একাংশ।
রবিবার ইনিংসের শেষ বলে কার্তিক ত্যাগীকে ছক্কা মেরে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যান শামি। তার পরও কেকেআরের বিরুদ্ধে জিততে পারেননি ঋষভ পন্থেরা। খেলা শেষ হওয়ার পর সাজঘরে শামিকে দেওয়া হয়েছে ‘বেস্ট আইকিউ অ্যাওয়ার্ড’। সেরা বুদ্ধিমান ক্রিকেটার হিসাবে শামিকে বেছে নিয়েছেন লখনউ কর্তৃপক্ষ। চাপের মুখে ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মারার জন্য শুধু নয়, তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে কেকেআর ব্যাটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে আউট করার জন্যও।
ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার জন্য আউট হন রঘুবংশী। খুচরো রান নিতে গিয়ে ফেরার সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে দিক পরিবর্তন করেন তিনি। উইকেট লক্ষ্য করে শামির ছোড়া বল ঝাঁপিয়ে পড়া রঘুবংশীর প্যাডে লেগে আটকে যায়। কেকেআর ব্যাটার ক্রিজ়ে পৌঁছে গেলেও ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার জন্য লখনউ আউটের আবেদন করে। অধিনায়ক পন্থ প্রথমে আউটের আবেদন করেননি। শামি বলার পর আবেদন করেন পন্থ। রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার রঘুবংশীকে আউট ঘোষণা করেন। তাঁর মনে হয়েছে, রঘুবংশীর নজর ছিল বলের দিকে। শামি বল ছুড়ছেন দেখে রঘুবংশী ইচ্ছাকৃত ভাবে ক্রিজ়ে ফেরার পথ পরিবর্তন করেছেন।
খেলা শেষে সাজঘরে ক্লুজনার বলেন, ‘‘যে খেলোয়াড় ক্রিজ়ে ফিরতে চাওয়া ব্যাটারকে বুদ্ধি করে রান আউট করেছে এবং প্রচন্ড চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় শেষ বলে ছয় মেরে আশা তৈরি করেছে, তাকেই ম্যাচের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ক্রিকেটার বেছে নেওয়া হয়েছে।’’ কথা শেষ করার পর লখনউয়ের সহকারী কোচ পুরস্কার তুলে দেন শামির হাতে। পুরস্কার দেওয়ার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন লখনউ কর্তৃপক্ষ।
ভিডিয়ো দেখে রেগে লাল কেকেআর সমর্থকদের একাংশ। তারা লখনউয়ে সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ক্লুজনারের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার শামি উইকেট নয়, রঘবংশীকে লক্ষ্য করেই বল ছুড়েছিলেন। ফর্মে থাকা ব্যাটারকে ইচ্ছাকৃত ভাবে আউট করা হয়েছে। উল্লেখ্য ওই ঘটনার জন্য রঘুবংশীর বিরুদ্ধেই আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে জরিমানাও করা হয়েছে।