ক্যামেরন গ্রিনকে করা উসমান তারিকের এই বল নিয়েই চলছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত।
বল ছাড়ার আগে হঠাৎ থেমে যান। তার পর এমন ভাবে বল ছাড়েন, দেখে মনে হবে চাকিং (কনুই ভেঙে অবৈধ ভাবে বল ছোড়া) করছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে পাক স্পিনার উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বল ছোড়ার অভিযোগ তুলেছেন অস্ট্রেলিয়া ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা ক্যামেরন গ্রিন। পাল্টা জবাব দিয়েছেন তারিক। জানিয়েছেন, তাঁর হাতে দু’টি কনুই রয়েছে।
তারিকের বলে বড় শট মারতে গিয়ে ২০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন গ্রিন। তার পরেই সেই ডেলিভারির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি গ্রিনকেও ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। ফেরার সময়ে ওই অ্যাকশনের ভঙ্গি করতেও দেখা যায় গ্রিনকে। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, বল ছুড়েছেন তারিক। জানা গিয়েছে, তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে খুব শীঘ্রই আইসিসির কাছে অভিযোগ জানাবে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের বিশ্বকাপের দলে তারিক রয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপের আগে নতুন বিতর্কে পাকিস্তান।
গ্রিনকে জবাব দিয়েছেন তারিক। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি কাঁদুনে বাচ্চার ছবি দিয়ে লেখেন, ‘আউট হওয়ার পর’। সঙ্গে হাসির ইমোজি। তাঁর পোস্ট থেকে স্পষ্ট, গ্রিনকে কাঁদুনে বাচ্চা বলে খোঁচা মেরেছেন তিনি। আউট হওয়ার পরেই ইচ্ছা করে গ্রিন এই অভিযোগ করেছেন বলে মত তারিকের।
এই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পাকিস্তান সুপার লিগের সময়ও তারিকের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রথম ক্ষেত্রে আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব ও রিচার্জ ইলিংওয়ার্থ রিপোর্ট দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে রিপোর্ট দিয়েছিলেন আম্পায়ার আহসান রাজ়া ও ক্রিস ব্রাউন।
পাকিস্তান সুপার লিগে দু’বার অভিযোগ ওঠার পর লাহৌরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ল্যাবে দু’বার পরীক্ষা করিয়েছেন তারিক। কিন্তু তাঁর বোলিং অ্যাকশনে কোনও খুঁত পাওয়া যায়নি। দু’বারই তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
সেই প্রসঙ্গ তুলে তারিক বলেছেন, “আমার হাতে দুটো কনুই আছে। তাই হাত বাঁকা মনে হয়। এটা জন্মগত। আমি পরীক্ষা করে দেখিয়েছি। আমাকে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তার পরেও সকলের মনে হয়, আমি বল ছুড়ছি। এটা জন্মগত সমস্যা।”
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বল ছাড়ার সময় যদি কোনও বোলার তাঁর কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি ঘোরান, তা হলে সেই অ্যাকশন অবৈধ হিসাবে ধরা হবে। তবে যদি জন্মগত কনুই বাঁকা থাকে, তা হলে তাকে হিসাবের বাইরে রাখা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে যদি অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করে, তার পরেও আইসিসি ছাড় দিতে পারে তারিককে। এখন দেখার, তারিক-বিতর্কের জল কত দূর গড়ায়।