ICC T20 World Cup 2026

অহমদাবাদের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ নিয়ে যেতে চান স্যান্টনার, সূর্যদের আরও চাপে ফেলে বাজিমাত করাই লক্ষ্য নিউ জ়িল্যান্ডের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী নিউ জ়িল্যান্ড শিবির। ভারতকে সমীহ করলেও ট্রফি জয় ছাড়া কিছু ভাবছেন না মিচেল স্যান্টনার। সূর্যকুমার যাদবদের উপর প্রত্যাশার চাপ কাজে লাগাতে চান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৩
picture of cricket

মিচেল স্যান্টনার । ছবি: পিটিআই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মিচেল স্যান্টনার যেন প্যাট কামিন্স। ২০২৩ এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামকে চুপ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা রোহিত শর্মার দল সে বার পারেনি। রবিবার কি সূ্র্যকুমার যাদবের দল পারবে? আবার অহমদাবাদ। আবার বিশ্বকাপ ফাইনাল। আবারও একই হুঁশিয়ারি! নিউ জ়িল্যান্ড অধিনায়কও রবিবার লক্ষাধিক ক্রিকেটপ্রেমীকে চুপ করিয়ে দিতে চান।

Advertisement

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পুনরাবৃত্তি চান না স্যান্টনার। ভারতীয় দলের উপর প্রত্যাশার চাপ কাজে লাগিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে ওয়েলিংটনের বিমানে উঠতে চান নিউ জ়িল্যান্ড অধিনায়ক। শনিবার ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে ভারত। চাপ থাকবে ওদের উপর। আমরা জানি, টি-টোয়েন্টি ম্যাচের রং যে কোনও সময় বদলে যেতে পারে। রবিবার আমাদের একটাই লক্ষ্য। আমরা শুধু অহমদাবাদের মানুষকে চুপ করিয়ে দিতে চাই না, তাঁদের হৃদয় ভেঙে দিয়ে ট্রফি নিয়ে যেতে চাই।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘গোটা বিশ্বকাপ পর্যালোচনা করলে দেখবেন, প্রতিটি দলের অবস্থা একই রকম। উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে সবাই গিয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে কোনও দলই ভাল পারফর্ম করতে পারেনি। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা টানা জিতে এসেও আমাদের কাছে হেরে গিয়েছে। আবার ইংল্যান্ড প্রায় রান তাড়া করে ফেলেছিল। আমরা সেরাটাই দেব। ভাল কিছুর আশাই করছি।’’

কিউয়ি অধিনায়ক জানিয়েছেন, তাঁর দলে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা আরও একটা বড় দলকে হারাতে পারি। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার চাপ থাকবে ভারতের উপর। ভালই চাপ থাকবে। আমরা চাপটা আর একটু বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। দেখা যাক কী হয়।’’

ফাইনালের ২২ গজ দেখার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন স্যান্টনার। তিনি বলেছেন, ‘‘উইকেট দেখিনি। ঢাকা রয়েছে। মনে হয় প্রচুর রান উঠবে। বিশ্বকাপের আগের পাঁচটা ম্যাচেও ভাল উইকেট পেয়েছিলাম আমরা। প্রতিযোগিতায় আমরা ধাপে ধাপে এগিয়েছি। ফাইনালের আগে আমাদের গোটা দল উত্তেজিত। শেষ ম্যাচের জয় আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। জানি ভারতীয় দলও আত্মবিশ্বাসী। আশা করি, ভাল ক্রিকেট হবে।’’

সূর্যকুমার যাদবের দল সম্পর্কে সমীহের সুরও শোনা গিয়েছে স্যান্টনারের মুখে। তিনি বলেছেন, ‘‘পুরো প্রতিযোগিতায় ভারতের কেউ না কেউ ব্যাট বা বল হাতে ভাল পারফর্ম করেছে। দল হিসাবে খুব ভাল খেলছে ওরা। জসপ্রীত বুমরাহ খুব ভাল বল করছে। ও বিশ্বমানের বোলার। সেমিফাইনালে ওর শেষ দুটো ওভারই আসল পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছিল। ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। ফাইনালে আমরা ফেভারিট নই। এটা নিয়ে ভাবছিও না। সকলের ছোট ছোট চেষ্টায় দল হিসাবে ভাল পারফরম্যান্স করতে পারি আমরা। নিজেদের সবটা দিয়ে চেষ্টা করলে ট্রফি জিততেও পারি।’’

বরুণ চক্রবর্তীর ফর্মে না থাকা কি নিউ জ়িল্যান্ডকে বাড়তি সুবিধা দেবে? স্যান্টনার বলেছেন, ‘‘পাটা পিচ যে কোনও বোলারের জন্যই চ্যালেঞ্জের। আবার যখন বল ঘোরে বা সুইং করে, তখন ব্যাটারদের সমস্যা হয়। সমান পিচ হলে বোলারদের কাজটা সত্যিই খুব কঠিন হয়ে যায়। এ রকম পিচে যে কেউ যে কোনও দিন ৬০ রান দিতে পারে। বরুণ খুবই ভাল বোলার। আমার তো মনে হয় ফর্মে ফেরা থেকে ও ঠিক একটা ম্যাচ দূরে রয়েছে। আমার সতীর্থদের সম্পর্কেও একই কথা বলি। যে কারও ফর্মে ফেরা একটা ম্যাচের ব্যাপার।’’ বরুণের ফর্মে না থাকা তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেবে বলেও মনে করেন না কিউয়ি অধিনায়ক। রবিবার ভারত প্রথমে ব্যাট করলে সূর্যদের ২৫০ রানের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য রয়েছে স্যান্টনারদের।

Advertisement
আরও পড়ুন