ভারতীয় ক্রিকেট দল। ছবি: পিটিআই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা এবং বাছাই নির্বাচনের পরেই বোঝা গিয়েছিল, ১ মার্চ ইডেনে ভারত খেলতে নামবে। অধিকাংশ সমর্থকই আশা করেছিলেন, সেমিফাইনালের টিকিট অর্জন করে খোলা মনে কলকাতায় খেলতে নামবে সূর্যকুমার যাদবের দল। তা যে আদতে মরণ-বাঁচন ম্যাচ হয়ে দাঁড়াবে কেউ ভাবতেই পারেননি। রবিবার ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় লড়াই শুধু একটা ম্যাচ নয়, সূর্যদের কাছে ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। সেমিফাইনালে উঠতে গেলে যে ম্যাচে জিততেই হবে তাঁদের।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচ হার ভারতের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছিল। তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ে। স্বস্তি বেড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারানোয়। রবিবার নামার আগে ভারতকে অন্তত রান রেট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না। তবে চিন্তা তাতে কমছে না। সঞ্জু স্যামসনকে যেমন ফর্মে ফিরতে হবে, তেমনই ভারত তাকিয়ে থাকবে বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্সের দিকে। আপাতত এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়েই যাবতীয় চিন্তা।
জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রায় সকলেই রান পেয়েছিলেন। অভিষেক শর্মার অর্ধশতরান তাঁকে নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ঈশান কিশন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমারেরাও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবেন। তবে প্রথম একাদশে প্রত্যাবর্তন করা সঞ্জু আগের ম্যাচে ২৪-এর বেশি করতে পারেননি। সেমিফাইনালেও জায়গা পাকা করতে গেলে ইডেনে তাঁকে বড় রান করতে হবে।
বোলারদের মধ্যে চিন্তা বরুণকে নিয়ে। কলম্বোয় তাঁর স্পিন ভারতকে সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু যেখানে একটু পেস সহায়ক পিচ, সেখানে বরুণের বোলিং কাজে আসছে না। জ়িম্বাবোয়ের মতো দলের বিরুদ্ধেও তিনি চার ওভারে ৩৫ রান হজম করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪৭ রান হজম করেছিলেন। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে খাটো লেংথে বল করেছিলেন বরুণ। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ফুল লেংথে বল করেন। কোনওটিতেই সাফল্য পাননি। অনায়াসে বরুণকে খেলেছেন সিকন্দর রাজ়ারা।
রবিবার বরুণকে খেলানো হয়, না কি প্রথম একাদশে কুলদীপ যাদবকে ফেরানো হয় সে দিকে নজর থাকবে। বরুণ আইপিএলে কলকাতার হয়ে খেলেন। ফলে ইডেন তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। কুলদীপও দীর্ঘ দিন কলকাতার হয়ে খেলার সুবাদে ইডেন ভাল মতোই চেনেন। ফলে দু’জনের মধ্যে যে কোনও একজনকে বেছে নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সাধারণ বুদ্ধিতে বলে, জয়ী দলের কম্বিনেশন ভাঙা উচিত নয়। তবে গৌতম গম্ভীরের আমলে দল নির্বাচন নিয়ে কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই চূড়ান্ত নয়।
আর একটি চিন্তা হল বল হাতে শিবম দুবের পারফরম্যান্স। আগের ম্যাচে দু’ওভারে ৪৬ রান দিয়েছিলেন। একটি ওভারে চারটি ওয়াইড এবং দু’টি নো-বল করেছিলেন। তাঁকে নিয়মিত বল করানো হয় না সেটা ঠিক। কিন্তু দরকারে যাতে কাজে আসেন, সে জন্যই দলে নেওয়া হয়। সেই শিবমের বোলিংয়ের মান যদি এই হয়, তা হলে শুধু ব্যাটিংয়ের জেরে তিনি নিয়মিত দলে সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ইডেনের পিচে ঘাস থাকার সম্ভাবনা। ফলে জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিংহ এবং হার্দিক পিচের সুবিধা নিয়ে ভাল বল করতে পারেন। যা করার শুরুতেই করতে হবে। কারণ রবিবার ইডেনে শিশির পড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে কোনও মতেই হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। বিশ্বকাপে ভারত প্রথম বার ইডেনে খেলতে নামলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দু’টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে এবং অনায়াসে জিতেছে। ফলে তাদের কাছে ইডেনের পরিবেশ পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে তাদের অপরাজিত থাকার দৌড় থামলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দলে তারকার অভাব নেই। যাঁরা প্রথম একাদশে খেলেন, তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে দীর্ঘ দিন খেলে অভ্যস্ত।
শিমরন হেটমায়ারের কথাই ধরা যাক। ছন্দে রয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। তিন নম্বরে তিনি দাঁড়িয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে আটকানো কঠিন। শেরফানে রাদারফোর্ড, রভমান পাওয়েলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি এঁরা সকলে ব্যর্থ হন, তা হলে রয়েছেন জেসন হোল্ডার, রোমারিয়ো শেফার্ডেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় টপ এবং মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও হোল্ডার এবং শেফার্ড মিলে লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে না পারলে যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ থাকছে। ইডেনের শুষ্ক পিচের কথা মাথায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ফেরাতে পারে আকিল হোসেনকে।
ঠিক ১০ বছর আগে এই ইডেনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাতে তুলেছিল। সে বার সেমিফাইনালে হারিয়েছিল ভারতকে। আরও একটি নকআউট ম্যাচ খেলতে চলেছে দুই প্রতিপক্ষ। এখন দেখার, সূর্যকুমার না শাই হোপ, রবিবার শেষ হাসি কে হাসেন।