IPL 2026

কাজে এল না অভিষেক, হেডদের লড়াই, শ্রেয়সের ব্যাটে জয় ছিনিয়ে নিল পঞ্জাব, ঠিকই বলেছেন হায়দরাবাদের ব্যাটার ক্লাসেন!

কাজে এল না অভিষেক শর্মার ২৮ বলে ৭৪ রানের ইনিংস। পরের দিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাসুল দিয়ে পঞ্জাব কিংসের কাছে হেরে গেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলেন শ্রেয়স আয়ারেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৫
picture of cricket

শ্রেয়স আয়ার। ছবি: বিসিসিআই।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখল পঞ্জাব কিংস। ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন শ্রেয়স আয়ার। প্রথমে ব্যাট করে ঈশান কিশনের দল করে ৬ উইকেটে ২১৯। জবাবে ১৮.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৩ রান শ্রেয়সদের। অভিষেক শর্মা, ট্রেভিস হেড, ঈশানেরা ব্যাট করার সময় যতটা রান উঠবে মনে হচ্ছিল, তার চেয়ে অন্তত ১৫-২০ রান কম হল কাব্য মারানের দলের। দায়ী হেনরিখ ক্লাসেনের মন্থর ব্যাটিং। সেটাই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল।

Advertisement

ম্যাচের আগে ক্লাসেন বলেছিলেন, হায়দরাবাদের যা বোলিং শক্তি তাতে ২৩০-২৩৫ রান তুললে না পারলে সমস্যা হবে। বোলারদের পক্ষে জেতানো সম্ভব নয়। ব্যাটারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারের এ দিনের ইনিংসে সেই দায়িত্বের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি যে ভুল বলেননি, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে ২১৯ রান তুলেও ৭ বল বাকি থাকতে হায়দরাবাদ ম্যাচ হারায়।

জয়ের জন্য ২২০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেন পঞ্জাবের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভশিমরন সিংহ। প্রথম উইকেটের জুটিতে ৬.২ ওভারে ৯৯ রান তোলেন তাঁরা। প্রিয়াংশ করেন ২০ বলে ৫৭। মারেন ৫টি চার এবং ৫টি ছয়। প্রভশিমরনের ব্যাট থেকে এল ২৫ বলে ৫১ রানের ইনিংস। ৪টি চার এবং ৪টি ছয় দিয়ে সাজান নিজের ইনিংসটি। তিন নম্বরে নেমে রান পাননি কুপার কনোলি। ১২ বলে ১১ রান করেন তিনি। তাতে অবশ্য সমস্যা হয়নি। শ্রেয়স এবং নেহাল ওয়াধেরা ম্যাচের রাশ নিয়ে নেন। নেহাল ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হয়ে গেলেও ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন শ্রেয়স। শেষ পর্যন্ত পঞ্জাব অধিনায়ক করেন ৩৩ বলে ৬৯। তাঁর অপরাজিত ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার এবং ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন শশাঙ্ক সিংহ। ৬ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

হায়দরাবাদের বোলারদের মধ্যে সফলতম শিবাঙ্গ কুমার। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ৩৮ রানে ১ উইকেট হর্ষ দুবের। ঈশানের দলের আর কোনও বোলার উইকেট পেলেন না। কিছুটা ভাল বল করলেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। ২ ওভারে ২০ রান দিলেন তিনি। বাকিরা দলকে তেমন সাহায্যই করতে পারলেন না।

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স। অভিষেক এবং হেডের ওপেনিং জুটি শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল। অর্শদীপ সিংহ, জেভিয়ার বার্টলেট, মার্কো জানসেন, বিজয়কুমার বৈশাখ— পঞ্জাবের কোনও বোলারকেই ছাড় দেননি তাঁরা। অভিষেক ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ১৮ বলে ৫০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার এবং ৮টি ছক্কা। হেড করেছেন ২৩ বলে ৩৮। ৫টি চার এবং ১টি ছয় এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। প্রথম উইকেটের জুটিতে ৮.১ ওভারে ১২০ রান তোলেন তাঁরা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ওঠে ১০৫ রান।

হায়দরাবাদ অধিনায়ক ঈশানও শুরু করেছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না। ১৭ বলে ২৭ রান করলেন ৩টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে। অর্শদীপের বলে জানসেনের দুরন্ত ক্যাচে আউট হলেন। দ্রুত রান তুলতে পারলেন না হেনরিখ ক্লাসেন। ফলে হায়দরাবাদের রান তোলার গতি অনেকটা কমে যায়। অনিকেত বর্মা কিছুটা চেষ্টা করলেও লাভ বিশেষ হয়নি। ৯ বলে ১৮ রান করেন তিনি। রান পেলেন না সলিল অরোরাও (৮)। ক্লাসেনের ব্যাট থেকে এল ৩৩ বলে ৩৯ রান। মারলেন ১টি চার এবং ১টি ছয়। শেষ পর্যন্ত পঞ্জাব করল ৬ উইকেটে ২১৯ রান।

পঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে শশাঙ্ক সিংহ ২০ রানে ২ উইকেট নিলেন। অর্শদীপ ৫০ রানে ২ উইকেট। ৪০ রান দিয়ে উইকেট পেলেন না জানসেন। ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়েও উইকেট পেলেন না যুজবেন্দ্র চহাল। ২ ওভার বল করে ৩৩ রান দিলেন বৈশাখ। এ ছাড়া ৪২ রানে ১ উইকেট বার্টলেটের।

Advertisement
আরও পড়ুন