সঞ্জু স্যামসন। ছবি: পিটিআই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগের দিন সঞ্জু স্যামসনকে প্রশংসা ভরিয়ে দিলেন সূর্যকুমার যাদব। ভারতীয় দলের অধিনায়ক জানালেন প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়ার পরও কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। সেই পরিশ্রমের ফল এখন পাচ্ছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে রান পাননি সঞ্জু। ফর্মে না থাকায় বিশ্বকাপের প্রথম কয়েকটি ম্যাচেও সুযোগ দেওয়া হয়নি তাঁকে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও ব্যর্থ হন। তার পর সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ফেরানো হয় তাঁকে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকে প্রশ্ন করা হয়, সঞ্জু এত ভাল খেলছেন। কী দেখে ওকে প্রথম একাদশে ফেরানো হয়েছিল? সূর্য বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের আগে আমরা যে শেষ সিরিজ়টা খেলেছিলাম, তখন প্রথম ব্যাটার ছিল অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশন এবং সঞ্জু। ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয় করা হয়েছিল। এই ধরনের সমন্বয়ের সুফল আমরা জানি। তার পর সঞ্জু যখন খেলছিল না, তখনও আমরা দেখেছি অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করত। দলের জন্য যা যা করতে পারে, সব করত অনুশীলনে। যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দলের বাইরে থাকার সময় যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছে, এখন তারই প্রতিদান পাচ্ছে। শেষ তিন-চারটে ইনিংসে যে ভাবে ব্যাট করছে, সেটা ওই পরিশ্রমের ফল।’’
সূর্যকে প্রশ্ন করা হয়, সঞ্জু বলেছেন আপনারা ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকেন সব সময়। আবার আপনারা যখন কাউকে দল থেকে বাদ দেন তখন সেই সিদ্ধান্তে আবেগ থাকে না। কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম একাদশ থেকে কাউকে বাদ দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তগুলো কে নেন? আপনি না কোচ গৌতম গম্ভীর? জবাবে সূর্য বলেছেন, ‘‘কঠিন সিদ্ধান্তগুলো আমরা দু’জনে একসঙ্গে নিই। কেউ ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিই না। আমরা ভাবি কী করলে দল লাভবান হবে। সিদ্ধান্তগুলো প্রতিটি ম্যাচের উপর নির্ভর করে। আমরা এগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি। যেমন সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অক্ষরকে বাদ দেওয়ার আগে ওর সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। ওকে বাদ দেওয়ার কারণ স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। যাতে সকলে বুঝতে পারে, আমরা দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। ওরাও সকলে অভিজ্ঞ। ওরা বিষয়টা বুঝতে পারে।’’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন সূর্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ-পিচ অনুযায়ী যে প্রথম একাদশ তাঁদের ঠিক মনে হয়, সেই দলই বেছে নেওয়া হয়। ব্যক্তি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলের স্বার্থই সব।