ICC T20 World Cup 2026

বরুণের ৪ ওভারে ৪৭ রান! কী ভাবে বিশ্বের এক নম্বর বোলারকে পাড়ার স্তরে নামিয়ে এনেছিলেন, ফাঁস করলেন ম্যাচের সেরা মিলার

আইসিসি ক্রমতালিকায় টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার বরুণ চক্রবর্তী। সেই বরুণের বিরুদ্ধে হাত খুলে খেলেছেন ডেভিড মিলারেরা। কী ভাবে এই কাজ করলেন তাঁরা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩২
cricket

বরুণ চক্রবর্তী। ছবি: পিটিআই।

অহমদাবাদে রবিবার রাতে বরুণ চক্রবর্তীকে দেখে মনে হচ্ছিল, কোথায় বল করবেন বুঝতে পারছেন না। যে বোলারের উপর দায়িত্ব থাকে উইকেট নেওয়ার, তিনিই একটা সময় বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আইসিসি ক্রমতালিকায় টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার বরুণ। সেই বরুণের বিরুদ্ধে হাত খুলে খেলেছেন ডেভিড মিলারেরা। কী ভাবে এই কাজ করলেন তাঁরা, তা ফাঁস করেছেন মিলার।

Advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চার ওভারে ৪৭ রান দিয়েছেন বরুণ। শেষ ওভারে একটি উইকেট পেয়েছেন বটে, তবে তার আগে যা রান করার করে ফেলেছেন ডেভিড মিলারেরা। এই প্রসঙ্গে ম্যাচের শেষে মিলার বলেন, “আমরা ঠিক করেছিলাম, ও খারাপ বল করলেই মারব। বল খুব একটা ঘুরছিল না। তাই তৈরি ছিলাম।”

ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে বরুণকে আলাদা করে নিশানা করেছিলেন মিলারেরা। সেটা বরুণের প্রথম ওভার থেকেই বোঝা গিয়েছে। মিলার বলেন, “আমরা ঠিক করেছিলাম, ওর একটা খারাপ বলও ছাড়ব না। প্রতিটা দলের বিরুদ্ধেই বরুণ ভয়ের কারণ। উইকেট নেওয়ার দায়িত্ব ওর কাঁধে থাকে। আমরা ঠিক করেছিলাম, বরুণ রান দিলে ভারত চাপে পড়ে যাবে। সেটাই হল।”

তবে খুব বেশি কিছু করার চেষ্টা করেননি মিলারেরা। উইকেটের সামনে খেলার চেষ্টা করছিলেন। তাতে সাফল্য এসেছে। মিলার বলেন, “পিচের সামনের দিকের বাউন্ডারি ছোট ছিল। তাই ওই দিকেই বড় শট খেলার চেষ্টা করছিলাম। দেখবেন, বরুণ বেশির ভাগ ছক্কা ওই দিকেই খেয়েছে। তাতে ঝুঁকিও কম ছিল। আগে থেকেই আমাদের এই পরিকল্পনা ছিল। সেটা কাজে লাগাতে পেরেছি।”

মিলার জানিয়েছেন, তাঁরা বাকিদের দেখাতে চেয়েছিলেন যে, ভারতকেও হারানো যায়। খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে মিলার শুরুতেই বলেন, “বাকিদের দেখিয়ে দিলাম যে, ভারতকেও হারানো যায়। ভারত খুবই শক্তিশালী দল। কিন্তু নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখলে, নিজেদের সেরা দিলে, পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে ভারতকেও হারানো সম্ভব।” এর পরে জ়িম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে ভারতের। তার আগে কি মিলারের টোটকা শুনবে দুই দল? কী ভাবে ভারতকে হারানো সম্ভব তার একটা নীল নকশা দুই দলের সামনে তুলে ধরেছেন প্রোটিয়া ব্যাটার।

মিলার জানিয়েছেন, তাঁদের দলে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। রবিবার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছিলেন তাঁরা। মিলার বলেন, “আমরা খুব বেশি কিছু করার চেষ্টা করিনি। বিষয়টা খুব সহজ রাখতে চেয়েছিলাম। আমাদের দলে অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে একসঙ্গে খেলছি। চাপের মধ্যে কী ভাবে খেলতে হয় জানি। তাই তাড়াহুড়ো না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলেছি। তাতেই জিতেছি।”

মিলার যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন তখন ২০ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছে। সেখান থেকে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শুধু রান করা নয়, রান তোলার গতিও বাড়ান। ফলে কোনও সময়েই দক্ষিণ আফ্রিকার রানরেট কমেনি। মিলার জানিয়েছেন, তিনি সামনের দিকে খেলার চেষ্টা করছিলেন। প্রোটিয়া ব্যাটার বলেন, “সামনের দিকের বাউন্ডারি ছোট ছিল। তাই চেষ্টা করছিলাম সামনের দিকে খেলার। তবে শর্ট বল পেলে পুল মেরেছি। ওদের বাধ্য করেছি আমার পছন্দের জায়গায় বল ফেলতে। ব্রেভিসের সঙ্গে জুটিটা ভাল হয়েছে। সেই জুটিই আমাদের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে।”

রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের ব্যবধানে হেরেছে ভারত। গত বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়ের কাছ থেকে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই হারের বদলা নিয়েছে তারা। আর সেই বদলার নায়ক মিলার দেখিয়ে দিচ্ছেন, ভারতকেও হারানো সম্ভব। বাকি দলগুলিকে পথ দেখাচ্ছেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন