হতাশ বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
রবিবার আইপিএলে ক্যাচ মিসের প্রদর্শনী হল। দুপুরের ম্যাচে জোড়া ক্যাচ পড়ায় ১৫২ রান করলেন লোকেশ রাহুল। দ্বিতীয় ইনিংসে পঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের ক্যাচও দু’বার পড়ল। তার খেসারত দিতে হল দিল্লি ক্যাপিটালসকে। ২৬৪ রান করেও হারল তারা। সন্ধ্যার ম্যাচে তারই পুনরাবৃত্তি হল। পড়ল বৈভব সূর্যবংশীর ক্যাচ। ৩৬ বলে শতরান করল সে। তাতেও জিততে পারল না রাজস্থান রয়্যালস। ২২৯ রান তাড়া করে জিতল সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ। তার নেপথ্যেও রাজস্থানের ক্যাচ মিস্। একে অপরকে পাল্লা দেওয়ার খেলায় মাতল সব দল।
জয়পুরে মরসুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রান করে রাজস্থান। বৈভবের ১০১ রানের পাশাপাশি ধ্রুব জুরেল করেন ৫১ রান। ৯ বল বাকি থাকতে ২২৯ রান তাড়া করে জিতল হায়দরাবাদ। অভিষেক শর্মার ৫৭ ও ঈশান কিশনের ৭৪ রানে ভর করে রান তাড়া করল তারা। জলে গেল বৈভবের শতরান।
১২ দিন আগে বৈভবকে আউট করে প্রফুল্ল হিঙ্গে জানিয়েছিলেন, সতীর্থদের তিনি বলে নেমেছিলেন যে প্রথম বলে বৈভবকে আউট করবেন। সেই কথা মাথায় ছিল বৈভবের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তা বোঝা গেল। প্রফুল্লের বলে প্রথম ওভারে পর পর চারটি ছক্কা মারে সে। তার পর আর থামানো যায়নি রাজস্থানের বাঁহাতি ওপেনারকে।
অবশ্য সুযোগ পেয়েছিল হায়দরাবাদ। ঈশান মালিঙ্গার বলে বড় শট মারতে গিয়ে ৩৪ রানের মাথায় ক্যাচ দেয় বৈভব। সেই ক্যাচ ফস্কান অনিকেত বর্মা। বল ধরতে গিয়ে বাউন্ডারির দড়িতে পা লেগে যায় তাঁর। এক বার জীবন পেয়ে বৈভব আরও বিধ্বংসী ব্যাট করতে শুরু করে।
১৫ বলে অর্ধশতরান করে সে। ছক্কা মেরে ৫০ রানে পৌঁছয় বৈভব। চলতি আইপিএলে তিন বার ৫০ রানের বেশি করেছে সে। চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর পর হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এল অর্ধশতরান। তিন ম্যাচেই ১৫ বলে ৫০-এ পৌঁছেছে বৈভব। আগের দু’বার অর্ধশতরানের পর আউট হয়ে গিয়েছিল বৈভব। কিন্তু এই ম্যাচে সে স্থির করে নিয়েছিল, শতরান না করে আউট হবে না।
সেই ছক্কা মেরেই শতরান করল বৈভব। শতরানের পর তার উল্লাসের ধরন দেখিয়ে দিল, জবাব দেওয়ার জন্যই নেমেছিল সে। পরের বলে রিভার্স স্কুপ খেলতে গিয়ে বল মিস্ করে বৈভব। এলবিডব্লিউ আউট হয়ে ফেরে সে। ৩৭ বলে ১০৩ রানের ইনিংসে পাঁচটি চার ও ১২টি ছক্কা মারে বৈভব।
গত বছর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে আইপিএলে নিজের প্রথম শতরান করেছিল বৈভব। সেই শতরান এসেছিল ৩৫ বলে। এ বার এক বল বেশি নিল সে। বৈভব দেখিয়ে দিল, কেন তাকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের তারকা ধরা হচ্ছে।
এই ম্যাচে রান পাননি অপর ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। ১০ রানে আউট হন তিনি। তবে বৈভবকে সঙ্গ দেন ধ্রুব জুরেল। তিনিও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন। ৩৪ বলে করেন অর্ধশতরান। ৩৫ বলে ৫১ রান করে নীতীশ রেড্ডির বলে আউট হন জুরেল। দুই ব্যাটারের মধ্যে ৬২ বলে ১১২ রানের জুটি হয়।
আরও একটি ম্যাচ ব্যর্থ রিয়ান পরাগ। রাজস্থানের অধিনায়ককে মাত্র ৭ রানে আউট করেন হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বৈভব, জুরেল থাকাকালীন মনে হচ্ছিল ২৫০ রানের বেশি করবে রাজস্থান। কিন্তু শেষ দিকে পর পর উইকেট পড়ায় রান তোলার গতি কমে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রান করে রাজস্থান। বাকিদের মধ্যে ডোনোভান ফেরেইরা করেন ১৬ বলে ৩৩ রান।
২২৯ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই জোফ্রা আর্চারের শিকার হতে পারতেন ট্রেভিস হেড। উইকেটের পিছনে সহজ ক্যাচ ছাড়েন জুরেল। চলতি আইপিএলে তিনটি ম্যাচে প্রথম বলে উইকেট নিয়েছেন। জুরেল ক্যাচ না ফস্কালে চার ম্যাচে এই কীর্তি গড়তেন তিনি। অবশ্য প্রথম ওভারের শেষ বলে সেই জুরেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬ রানে আউট হন হেড।
অভিষেক ও ঈশান অবশ্য রান তোলার গতি কমতে দেননি। তাঁরা পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তার মাঝেই সুযোগ দিয়েছিলেন অভিষেক। থার্ড ম্যানে ক্যাচ তোলেন। শিমরন হেটমায়ার বলই দেখতে পাননি। পয়েন্টে অভিষেকের লোপ্পা ক্যাচ ছাড়েন রবীন্দ্র জাডেজা। অন্য দিন চোখ বন্ধ করে সেই ক্যাচ নিতে তিনি।
সুযোগ কাজে লাগান অভিষেক। অর্ধশতরান করেন। ঈশান আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। রাজস্থানের অধিনায়ক পরাগ অনেক বেশি পরীক্ষা করতে গিয়ে সমস্যা বাড়ালেন। আট বোলারকে ব্যবহার করলেন তিনি। তার মধ্যে তিনি নিজেও ছিলেন। রবি বিশ্নোই, জাডেজার মতো বোলারদের শেষে আনলেন তিনি। তার আগেই রান বাড়িয়ে নিল হায়দরাবাদ। ঈশানও অর্ধশতরান করলেন।
অভিষেক ও ঈশানের ৫৫ বলে ১৩২ রানের জুটি ভাঙেন ফেরেইরা। অভিষেক ২৯ বলে ৫৭ রান করে আউট হন। ঈশানকে ফিরিয়ে হায়দরাবাদকে ধাক্কা দেন আর্চার। ৩১ বলে ৭৪ রান করেন ঈশান। কিন্তু তার পরেও রাজস্থানের ক্যাট ফস্কানোর ধারা বজায় থাকে। হাইনরিখ ক্লাসেনের সহজ ক্যাচ ছাড়েন ব্রিজেশ শর্মা। এত ক্যাচ ফস্কালে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। সেটাই হল। ঘরের মাঠে হেরে মাঠ ছাড়ল রাজস্থান।