বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট করার খেসারত যে এ ভাবে দিতে হবে তা ভাবতে পারেনি সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ। পরের দুই ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১০০ ও ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছে বৈভব। তার মধ্যে এলিমিনেটরে এসেছে ২৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংস। সেই ইনিংসের কাছে হেরে আইপিএল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে হায়দরাবাদকে। বৈভবের সেই ইনিংস এখনও ভুলতে পারছেন না হায়দরাবাদের ক্রিকেটার লিয়াম লিভিংস্টোন।
এ বারের আইপিএলে বেঞ্চেই কাটাতে হয়েছে লিভিংস্টোনকে। ডাগআউটে বসেই বৈভবের ঝড় দেখেছেন তিনি। আইপিএল শেষেও তা ভুলতে পারছেন না ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার। ‘স্টিক টু ক্রিকেট’ নামের এক পডকাস্টে লিভিংস্টোন জানিয়েছেন, তিনি কাউকে এ রকম ব্যাট করতে দেখেননি।
লিভিংস্টোন বলেন, “আমি এ রকম কাউকে ব্যাট করতে দেখিনি। আইপিএলে আমি সাত বছর খেলছি। অনেক ভাল ক্রিকেটারের সঙ্গে ও বিরুদ্ধে খেলেছি। কিন্তু এ রকম কাউকে দেখিনি।”
লিভিংস্টোন অবাক হয়েছেন বৈভবের বিবর্তন দেখে। তাঁর মতে, খুব তাড়াতাড়ি নিজের ভুল শুধরে নিতে পারে রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছরের ক্রিকেটার। লিভিংস্টোন বলেন, “ও নিখুঁত শট খেলে। কোনও বল মিস্-হিট হয় না। আমরা প্রথম বার ওকে বাউন্সারে আউট করেছিলাম। তার পরেই সেই দুর্বলতা ও মিটিয়ে ফেলে। পরের ম্যাচে বাউন্সারকে অবলীলায় থার্ড ম্যান ও মিড উইকেটে উড়িয়েছে। যে দিকে বল করা হয়েছে সে দিকে ছক্কা মেরেছে। ইয়র্কার, স্লোয়ার, কাটার, ফুল টস, বাউন্সার, কোনও বলেই কাজ হয়নি। ওকে কোথায় বল করব? বোলারেরা কিছুই বুঝতে পারছিল না।” লিভিংস্টোনের মতে, তিনি ভাগ্যবান যে তাঁকে বৈভবের সামনে বল করতে হয়নি। নইলে তাঁর হালও বাকিদের মতোই হত।
রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালে উঠতে না পারলেও এ বারের আইপিএল বৈভবের। ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেছে সে। কোহলি-সহ সকলকে ছাপিয়ে জিতেছে কমলা টুপি। ৪৮.৫০ গড় ও ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে একটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান করেছে সে। তার মধ্যে তিনটি ৯০-এর ঘরে। আইপিএলের এক মরসুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কার (৭২) রেকর্ডও গড়েছে বৈভব। ভেঙেছে ক্রিস গেলের নজির। কমলা টুপি ছাড়াও এ বারের আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ছক্কা, সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট, সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটার ও সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছে বৈভব। ভারতের এশিয়ান গেমসের দলেও ডাক পেয়েছে বৈভব।