Corruption in Bengal Sports

‘অভিষেকের চিঠি পড়েছি, ওঁর সঙ্গে বসব, খেলার ময়দানে খেলাই হবে!’ ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে জবাব ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীলের

ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, অভিষেকের চিঠি তিনি পড়েছেন। পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ২১:১৮
cricket

সাংবাদিক বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ছবি: সংগৃহীত।

অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি পেয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পদক্ষেপ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন সিএবি-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক। ইন্দ্রনীলকে একটি খোলা চিঠিও লিখেছিলেন। তারই জবাবে ইন্দ্রনীল বললেন, “খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে।”

Advertisement

ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবে মিট দ্য প্রেস চলাকালীন ইন্দ্রনীলকে অভিষেকের চিঠির বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “ওঁর চিঠি পেয়েছি। সেই চিঠি পড়েছি। ওঁর সঙ্গে কথাও হয়েছে। ওঁর থেকে সময় চেয়েছি। সবিস্তারে বিষয়টা জানব। এক দু’দিনের মধ্যেই আমরা বসব। আলোচনা করে যা পদক্ষেপ করার করব।”

রাজ্যের বিভিন্ন খেলাধুলোয় যে ভাবে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব, বয়স ভাঁড়ানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে তাতে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি ইন্দ্রনীলকে লেখা চিঠিতে লিখেছেন, “সব ধরনের দুর্নীতি, আর্থিক তছরূপ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যায় কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ ভাবে তদন্ত করা উচিত।”

সম্প্রতি সিএবি-র কমিটি সদস্য অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে। চিঠিতে কারও নাম না করে অভিষেক লিখেছেন, রাজ্যের একটি জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি ক্রীড়াবিদদের থেকে টাকা নিয়ে তাদের দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অভিষেক জানিয়েছেন, অর্থ দেওয়ার নথি, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য নথি অতীতে কর্তৃপক্ষের সামনে আনা হলেও কোনও স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি। এই অভিযোগ সত্যি কি না, তা যাচাই করার অনুরোধ করেছেন তিনি। ইন্দ্রনীল জানিয়ে দিলেন, অভিষেকের সঙ্গে বসে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন তিনি।

সিএবি-তে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। থ্রেট কালচারেরও অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “থ্রেট কালচার তো স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, শিক্ষা ক্ষেত্রে চলছিল। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও কোনও ব্যতিক্রম ছিল না।”

এই প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন ইন্দ্রনীল। তিনি বলেন, “অপদার্থ পুলিশ প্রশাসনও নাক গলাত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী। তাঁর ছত্রছায়ায় সব হয়েছে। নইলে কী ভাবে সোনা পাপ্পুর (আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার। ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি ও সম্পত্তি হস্তগত করার অভিযোগে ইডি গ্রেফতার করেছে তাঁকে।) সঙ্গে যোগ থাকা শান্তনু সিংহ বিশ্বাস আইসি থেকে ডিসি হয়ে গেলেন। ওঁরা বয়স্ক মানুষদের থেকে জমি, বাড়ি লুঠ করেছিলেন। তোলাবাজি করেছিলেন।”

ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনীতিকে যে ঢুকতে দেবেন না সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল। রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “রাজনীতির বিষয় এখানে বেশি বলতে চাই না। তবে সব কথা আমাদের মাথায় রয়েছে। খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে। রাজনীতি হবে না।”

Advertisement
আরও পড়ুন