ISL 2026

১০ জনের ইস্টবেঙ্গলকেও হারাতে পারল না বেঙ্গালুরু, তিন বার পিছিয়ে পড়েও শেষ মিনিটে অ‍্যান্টনের গোলে ৩-৩ ড্র লাল-হলুদের

ঘরের মাঠে মরিয়া লড়াই করল ইস্টবেঙ্গল। তার ফলও পেল তারা। শেষ মিনিটের গোলে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ড্র করল লাল-হলুদ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৬
football

প্রথম গোলের পর উল্লাস ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের। ছবি: এক্স।

একটা লাল কার্ড আর একটু হলেই স্বপ্ন শেষ করে দিচ্ছিল ইস্টবেঙ্গলের। মিগুয়েল ফিগুয়েরা প্রথমার্ধেই বাইরে না গেলে হয়তো ঘরের মাঠে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফিরত তারা। কারণ, ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও মরিয়া লড়াই করল ইস্টবেঙ্গল। শেষ মিনিটে গোল করে দলকে ড্র করালেন অ্যান্টন সজ়বার্গ। ৩-৩ গোলে শেষ হল খেলা। দু’দলই পয়েন্ট নষ্ট করায় অবশ্য লাভ হল মোহনবাগানের। পয়েন্ট তালিকায় ইস্টবেঙ্গল ও বেঙ্গালুরুর থেকে ব্যবধান বেড়ে গেল তাদের।

Advertisement

খেলার শুরু থেকেই দু’দলের লক্ষ্য ছিল মাঝমাঠ দখলের। প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠছিল তারা। ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ১২ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গলকে ধাক্কা দিলেন আশিক কুরুনিয়ান। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তাঁর ডান পায়ের জোরাল শটের নাগাল পেলেন না ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিংহ। বল জালে জড়িয়ে গেল। এগিয়ে গেল বেঙ্গালুরু।

পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। তার ফলও মেলে। ২১ মিনিটের মাথায় মিগুয়েলের কর্নারে হেড করে বল বক্সে ফেলেন কেভিন সিবিলে। গোলের দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়েছিলেন আনোয়ার আলি। সময় নষ্ট করেননি তিনি। বাইসাইকেল কিকে গোল করেন ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার। তাঁর গোল করার দক্ষতা রয়েছে। সেটি আরও এক বার দেখালেন আনোয়ার।

তার পরেই গন্ডগোল করে ফেললেন মিগুয়েল। অকারণ ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলেন। তার পর রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ালেন। রেফারি বার বার তাঁকে সরে যেতে বললেও সরেননি এই বিদেশি। ফলে তাঁকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। তা নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়োও। মাঠ ছাড়ার সময় বেঙ্গালুরুর বেঞ্চের দিকে একটি বল মারেন মিগুয়েল। তাতে বিবাদ আরও বাড়ে। এই কাজ করে শাস্তি আরও বাড়তে পারে মিগুয়েলের। নির্বাসিত হতে পারেন তিনি।

এক ঘণ্টার বেশি ১০ জনে খেলতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে। কিন্তু তাদের খেলার গতি কমেনি। যদিও এক জন কম থাকায় সমস্যা হচ্ছিল। ৩৯ মিনিটের মাথায় রায়ান উইলিয়ামসের শট বাঁচান প্রভসুখন। ফিরতি বলে গোল করেন সুরেশ সিংহ। ২-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বেঙ্গালুরু।

দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই ছাড়েনি ইস্টবেঙ্গল। প্রতিটি বলের জন্য দৌড়াচ্ছিলেন শৌভিক চক্রবর্তী, পিভি বিষ্ণুরা। ডিফেন্ডারেরাও মরিয়া রক্ষণ করছিলেন। বলের দখল অবশ্য কিছুটা হলেও বেশি ছিল বেঙ্গালুরুর। তার মধ্যেই ৫৬ মিনিটের মাথায় আবার সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে জোরাল শট মারেন সাউল ক্রেসপো। সেই বল আটকে গেলেও ফিরতি বলে গোল করেন তিনি। গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর কিছু করার ছিল না।

মাঝে মাঝেই খেলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছিল ইস্টবেঙ্গল। গোটা ম্যাচে ১০টি কার্ড দেখান রেফারি। এ বারের আইএসএলে ইস্টবেঙ্গল ভাল খেলছে। ফলে ঘরের মাঠে তাদের সমর্থন কম ছিল না। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিফোও দেখা যায় মাঠে। প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন সমর্থকেরা।

সমতা ফেরানোর পরেও ড্রয়ের জন্য খেলেনি ইস্টবেঙ্গল। ফলে সুযোগ পাচ্ছিল বেঙ্গালুরু। ৭১ মিনিটের মাথায় প্রভসুখনকে পরাস্ত করে গোল করেন উইলিয়ামস। আবার এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। সময় কমছিল। সুযোগও কম পাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু হাল ছাড়েনি তারা। কয়েক দিন আগে এই মাঠেই সংযুক্তি সময়ে গোল করে মোহনবাগানকে জিতিয়েছিলেন জেসন কামিংস। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সেই কাজটা করলেন অ্যান্টন। তবে তার জন্য কোচ ব্রুজ়োর প্রশংসা প্রাপ্য। গোলের জন্য বিদেশিকে নামাতে ভয় পাননি তিনি। সংযুক্তি সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান অ্যান্টন। ১ পয়েন্ট পায় ১০ জনের ইস্টবেঙ্গল।

এই ম্যাচের পর ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের। তিন নম্বরে রয়েছে তারা। ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে বেঙ্গালুরু। ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের ঠিক উপরেই রয়েছে মোহনবাগান। শীর্ষে মুম্বই সিটি এফসি। ৮ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৮।

Advertisement
আরও পড়ুন