FIFA World Cup 2026

২০০ ম্যাচের মাইলফলকের সামনে মেসি, চোট সারিয়ে তৈরি মার্তিনেস, বিশ্বকাপে বুধবার ভোরে মাঠে নামার অপেক্ষায় লিয়ো

বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই একটি মাইলফলক স্পর্শ করবেন লিয়োনেল মেসি। দেশের হয়ে ২০০টি ম্যাচ খেলে ফেলবেন এলএম টেন। স্বাভাবিক ভাবেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৩:১৬
picture of football

অনুশীলনে লিয়োনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স।

বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গিয়েছে পাঁচ দিন। এখনও মাঠে নামেনি গত বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিয়োনেল মেসিকে দেখার জন্য আর যেন তর সইছে না ফুটবলপ্রেমীদের। লিয়ো দেখার জন্য আর্জেন্টিনার হোটেলের সামনেই ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তেরা। আলজেরিয়া ম্যাচের কোচ লিয়োনেল স্কালোনি শেষ মুহূর্তের রণকৌশল নিয়ে ব্যস্ত।

Advertisement

স্বস্তির খবর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস চোট সারিয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। তাঁকে প্রথম একাদশে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচও। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি। বেশ ভাল একটা দলের বিরুদ্ধে আমাদের খেলতে হবে। আমরা ঠিক জায়গায় রয়েছি। সকলে দেশের জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে তৈরি। ফলাফল নিয়ে ভেবে চাপ বাড়াতে চাই না। নিজেদের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকতে চাই। নিজেদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে চাই।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘মেসি একদম ঠিক রয়েছে। ও আমাদের দলে অপরিহার্য। বেশ ভাল ছন্দে রয়েছে। ওর সামনে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। বাকি সকলে তৈরি প্রথম ম্যাচের জন্য। ছোটখাট চোট সমস্যাগুলো আমরা কাটিয়ে উঠেছি।’’ মার্তিনেসকে নিয়ে স্কালোনি বলেছেন, ‘‘এক দম ঠিক আছে। আমার মনে হয় ও খেলবে। সব কিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছে। আমরা বৈচিত্র্যে বিশ্বাস করি। ম্যাচে যে কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমরা সে সব সামলানোর জন্য তৈরি। গত কয়েক বছর ধরে আমরা যে ফুটবলটা খেলছি, সেটাই চালিয়ে যেতে হবে।’’

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই একটি মাইলফলক স্পর্শ করবেন মেসি। দেশের হয়ে ২০০টি ম্যাচ খেলে ফেলবেন এলএম টেন। স্বাভাবিক ভাবেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিষয়টি অজানা নয় স্কালোনিরও। তিনি বলেছেন, ‘‘শুধু আর্জেন্টিনার মানুষেরাই নন। গোটা পৃথিবীর মানুষ মেসির খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। সকলে ওকে মাঠে দেখতে চান। কারণ মেসির প্রভাব শুধু আর্জেন্টিনায় নয়, পুরো পৃথিবীতেই রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘মেসি সম্পর্কে খারাপ কিছু বলার মতো নেই। ও সব সব সময় দলের সঙ্গে থাকে। আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’

স্কালোনি বাড়িয়ে বলেননি। কর্মসূত্রে কানসাস সিটির বাসিন্দা তাপস চক্রবর্তী মেসির ভক্ত। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘‘মেসি মেসিই। উনি ফুটবলের ভগবান। আমাদের এখানে মেসির অসংখ্য ভক্ত। কানসাস সিটিকে ঘাঁটির জন্য আর্জেন্টিনা বেছে নেওয়ায় আমরা উচ্ছ্বসিত।’’ মেসিকে দেখতে চার সন্তানকে নিয়ে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে কানসাস সিটিতে এসেছেন মিশেল লেমন। তিনি বলেছেন, ‘‘মেসি দেখার জন্য যে কোনও জায়গায় যেতে পারি। কারণ উনি বিশ্বের সেরা ফুটবলার। আর আমি ফুটবল ছাড়া থাকতে পারি না। মেসিকে অপছন্দ করা সম্ভব নয়। হয়তো এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। এ বারও তাঁর হাতেই ট্রফি দেখতে চাই।’’

আর্জেন্টিনা এবং মেসিকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে বিশ্বকাপের। তর সইছে না ভক্তদের। মেসির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁর সতীর্থেরাও। নিকোলাস ওটামেন্ডি বলেছেন, ‘‘কাতারে আমরা যা করেছিলাম, সেটা অসাধারণ। গোটা দেশকে এককাট্টা করে দিয়েছিল ওই সাফল্য। ওই ঘটনা আমাদের মনে গেঁথে গিয়েছে। আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শক্তি যুগিয়েছে। এখন বিশ্রামের কোনও প্রশ্নই নেই। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় যা যা করা দরকার আমরা সব করব। চেষ্টা ছাড়ব না। আর মেসি তো আছেই। খুব সাধারণ মানুষ! অনুশীলন ছাড়া কিছু ভাবছেই না এখন।’’ মেসিকে নিয়ে তাঁর প্রিয় ওটামেন্ডি আরও বলেছেন, ‘‘মেসি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে চলে। যে কেউ চার পাশে থাকতে চাইবে। তাকে সমর্থন করতে চাইবে। সাহায্য করতে চাইবে। সেবা করতে চাইবে। মেসি পাশে থাকলে সারাক্ষণ প্রাণ খুলে হাসা যায়। আমরা একটা পরিবার হয়ে লড়াই করব। মাঠে যতই চাপ তৈরি হোক, সকলে মিলে সামলাবো।’’

হোটেলের সামনে ভিড় করা ভক্তদের হতাশ করেননি মেসি। ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে দেখা দিয়েছেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছেন। লিয়োকে কয়েক সেকেন্ড দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শতাধিক ভক্ত।

Advertisement
আরও পড়ুন