লিয়োনেল মেসি। —ফাইল চিত্র।
আগামী বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হিসাবে খেলতে নামবেন লিয়োনেল মেসিরা। খেতাব ধরে রাখার চেষ্টা করবেন তাঁরা। অথচ বিশ্বকাপের সাড়ে পাঁচ মাস আগে সমস্যায় আর্জেন্টিনার ফুটবল। কর ফাঁকি এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের মার্চে প্রাক্তন ফুটবলার কার্লোস তেভেজ় সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। তা থেকেই দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। সেই ভিডিয়োয় বুয়েনস এয়র্সের শহরতলি পিলার অঞ্চলের একটি বাড়িতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) এক কর্তার সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যায়। তিনি সেখানে টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তেভেজ়। ওই কর্তার বিরুদ্ধে একটি পুরনো মূল্যবান গাড়ি লুকিয়ে রাখারও দাবি করেন। প্রাক্তন স্ট্রাইকারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দাবি তুলেছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম রাজনৈতিক দল কোয়ালিশন সিভিক। তার প্রেক্ষিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বুয়েনস এয়র্সের শহরতলির বাড়িটিই এএফএর আর্থিক দুর্নীতির কেন্দ্র। এএফএ-র সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাবও। টাকা তছরুপ সংক্রান্ত সব কিছু হয় ওই বাড়িটি থেকেই। ম্যাচ গড়াপেটার আর্থিক লেনদেনেরও কেন্দ্র বাড়িটি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এএফএ-র দফতর-সহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলে একসঙ্গে। আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী একাধিক সংস্থার দফতরেও চল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কিছু নথি। তিন দিন পর তল্লাশি চালানো হয় পিলার অঞ্চলের সেই বাড়িটিতেও। সেখানে একটি হেলিপোর্ট, আস্তাবল ছাড়াও বিলাসবহুল এবং সংগ্রহযোগ্য ৫৪টি গাড়ির হদিশ পাওয়া যায়। কোয়ালিশন সিভিকের দাবি, এই সমস্ত বেআইনি সম্পত্তি এএফএ সভাপতি চিকি তাপিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পাবলো টোভিগিনোর অর্থ-পাচার কারবারের অংশ।
গত সপ্তাহে এএফএ-র বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। আর্জেন্টিনার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপিয়া এবং টোভিগিনোর যোগসাজশে ১৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি টাকা) কর ফাঁকি দিয়েছে এএফএ। ফুটবল সংস্থার বেশ কয়েক জন কর্তা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। যদিও এ নিয়ে এএফএ-র কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কর ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তাপিয়া এবং টোভিগিনো। সংস্থার পক্ষ থেকে বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, ‘‘আমরা সঠিক পথেই রয়েছি।’’
এএফএ এবং সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে আর্জেন্টিনার প্রশাসনও। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মেসিরা যখন দেশকে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন, সে সময় কর্তাদের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগে ক্ষুব্ধ আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরাও। আগামী বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে এএফএ কর্তাদের দুর্নীতির প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ।