Spanish Super Cup

পাঁচ মিনিটে তিন গোল! সুপার কাপ ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস জয় বার্সার, এল ক্লাসিকোয় নতুন ইতিহাস, বিতর্কে রিয়ালের এমবাপে

টানা দু’বার স্প্যানিশ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হল বার্সেলোনা। রবিবার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-৩ ব্যবধানে হেরে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচ শেষে মেজাজ হারিয়ে বিতর্কে জড়ালেন কিলিয়ান এমবাপে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১২
picture of football

স্প্যানিশ সুপার কাপের ট্রফি নিয়ে বার্সেলোনার ফুটবলারেরা। ছবি: রয়টার্স।

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জয় বার্সেলোনার। টান টান লড়াইয়ে ৩-২ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হলেন রাফিনহারা। দুই চির প্রতিপক্ষের লড়াইয়ের প্রথম ৩০ মিনিট দেখে আঁচ পাওয়া যায়নি কী হতে চলেছে। পরস্পরকে মেপে নিতেই আধ ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছেন দু’দলের ফুটবলারেরা। মাঠে চরিত্রের অভাব ছিল না। তা-ও উত্তেজনার আঁচ পোহাতে পারেননি সমর্থকেরা। এল ক্লাসিকোর ১২৪ বছরের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করল বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিনটি ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল তারা। ম্যাচ শেষে বিতর্কে জড়ালেন কিলিয়ান এমবাপে।

Advertisement

খেলার রং বদলাতে শুরু করে ৩০ মিনিটের পর থেকে। আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে শুরু করে বার্সেলোনা। পাল্টা চাপ তৈরি করতে শুরু করেন রিয়ালের ফুটবলারেরাও। তার আগে পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপেদের কিছুটা অগোছালই দেখিয়েছে। ডিফেন্সে বড় বড় ফাঁক চোখে পড়েছে। বল দখলে রাখতে পারছিলেন না রিয়ালের ফুটবলারেরা। প্রতি আক্রমণে উঠে কয়েক বার বার্সেলোনার রক্ষণকে ব্যস্ত করলেও গাছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছিল। প্রতিপক্ষের এমন অবাক করা ফুটবলই সম্ভবত তাতিয়ে দেয় বার্সেলোনার ফুটবলারদের। রাফিনহাদের সক্রিয়তা বাড়তেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে রিয়ালও।

৩৬ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল বার্সেলোনার। বাঁ দিক থেকে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গিয়েও রাফিনহা গোল করতে পারেননি তার মিনিট খানেক আগে। দ্বিতীয় বার আর ভুল করেননি। একই ভাবে রিয়ালের বক্সে ঢুকে দলকে এগিয়ে দেন। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার কিছু করার ছিল না। বার্সার ব্রাজিলীয় তারকা জ্বলে ওঠার পরও বাকি ছিল উত্তেজনা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পাঁচ মিনিটে তিনটি গোল হয়।

পিছিয়ে পড়ে সম্বিত ফেরে জ়াভি আলোনসোর দলের। ৪৭ মিনিটে বার্সার ‘ডি’ বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত গোলে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ২ মিনিট পরেই পেদ্রির কাছ থেকে বল পেয়ে গোল রবার্ট লেয়নডস্কির। ফুটবলের উত্তেজনা তখন মধ্য গগনে। সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন রিয়ালের ফুটবলারেরা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে রাজি ছিলেন না এমবাপেরা। ফলও এল হাতেনাতে। সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে সমতায় ফিরল রিয়াল। ৩ মিনিটের মধ্যে দলকে দ্বিতীয় বার সমতায় ফেরান গঞ্জালো গার্সিয়া। প্রথমার্ধের লড়াই শেষ হয় ২-২ ব্যবধানে। প্রথম ৩০ মিনিটের দিশাহীন ফুটবল বোধহয় ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল!

প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে উত্তেজনা যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তা দেখা যায়নি। দু’দলই হিসাব করে খেলছিল। ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করছিল। মূলত প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলতে শুরু করে দু’দলই। তার মধ্যেই ৭১ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দূরপাল্লার শট বাঁচিয়ে দেন কুর্তোয়া। ৭৩ মিনিটে বার্সেলোনাকে তৃতীয় বার এগিয়ে দেন রাফিনহা। প্রায় একক দক্ষতায় গোল করেন তিনি। বক্সে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তাঁর নেওয়া শট আসেন্সিয়োর পায়ে লেগে গোলে চলে যায়। সমতা ফেরানোর বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল রিয়ালও। কিন্তু বার্সেলোনার গোলরক্ষক হার মানেননি। ম্যাচের বয়স ৯০ মিনিট হয়ে যাওয়ার পর আবার উত্তেজনা তৈরি হয়। গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। বার্সেলোনাও রক্ষণ সংগঠন মজবুত রেখেছিল চাপের মুখে। এই সময় ৯১ মিনিটে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডে জং ফাউল করেন এমবাপেকে। রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখান। শেষ কয়েক মিনিট ১০ জনের বার্সেলোনার বিরুদ্ধেও আর গোল করতে পারেননি এমবাপেরা।

খেলা শেষ হওয়ার পর উত্তেজিত ছিল রিয়াল শিবির। চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার ফুটবলাদের গার্ড অফ অনার দেওয়ার জন্য লাইন করে দাঁড়ানোর প্রস্ততি নিচ্ছিলেন রানার্স রিয়ালের ফুটবলারেরা। কিন্তু ক্ষুব্ধ এমবাপে সতীর্থদের টেনে সরিয়ে নিয়ে যান। এর পর আর রিয়ালের ফুটবলারেরা গার্ড অফ অনার দেননি বার্সেলোনাকে। এমবাপের এই আচরণে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এই নিয়ে হ্যান্সি ফ্লিকের জমানায় চতুর্থ ট্রফি জিতল বার্সেলোনা। কোচ হিসাবে আটটি ফাইনালের সব ক’টিতে জয় পেলেন জার্মান কোচ। টানা দ্বিতীয় বার ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনাও। এই নিয়ে ১৬ বার। আর কোনও দল এত বার সুপার কাপ জিততে পারেনি। নতুন নজির তৈরি করল বার্সেলোনা। টানা তিনটি ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল তারা। তবে এমন কীর্তি দু’বার রয়েছে রিয়ালের। ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দু’দলের টানা চারটি ফাইনাল জেতে রিয়াল। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যেও টানা তিনটি ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারায় তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন