Santosh Trophy

তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে বাংলার ত্রাতা সুজিত

ম্যাচ ছিল অসমের ধেমাজি জেলার শিলাপাথর স্টেডিয়ামে। আগের তিনটি ম‌্যাচ বাংলা ঢাকুয়াখানা স্টেডিয়ামে খেলায় পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। পাশাপাশি দল নির্বাচনেও চমক দিয়েছিলেন বাংলার কোচ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৭
উল্লাস: সুজিতের গোলের পরে উচ্ছ্বাস নরহরির।‌

উল্লাস: সুজিতের গোলের পরে উচ্ছ্বাস নরহরির।‌ ছবি: আইএফএ।

সন্তোষ ট্রফিতে থামল বাংলার জয়রথ। বুধবার নিয়মরক্ষার ম‌্যাচে তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও ১-১ ড্র করল বাংলা। তবে ড্র করা সত্ত্বেও চার ম‌্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রইল সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। সমসংখ‌্যক ম‌্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু।

এ দিন ম‌্যাচ ছিল অসমের ধেমাজি জেলার শিলাপাথর স্টেডিয়ামে। আগের তিনটি ম‌্যাচ বাংলা ঢাকুয়াখানা স্টেডিয়ামে খেলায় পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। পাশাপাশি দল নির্বাচনেও চমক দিয়েছিলেন বাংলার কোচ। আগেই শেষ আট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় রাজস্থানের বিরুদ্ধে খেলা প্রথম একাদশের সাত জন ফুটবলারকে বদল করেন সঞ্জয়। গোলরক্ষক সোমনাথ দত্তের পরিবর্তে শুরু করেন গৌরব শ। দুই প্রান্তে ছিলেন সায়ন বন্দ‌্যোপাধ‌্যায় ও আকিব নবাব।

প্রথম দিকে কিছুটা ছন্দের অভাব দেখা যায় বাংলার খেলায়। ২৪ মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের একটি বাঁক খাওয়ানো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান গৌরব। ৩৮ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল বাংলা। কিন্তু সায়নের ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি আকিব। মূলত কয়েকটি প্রান্তিক আক্রমণ হলেও তা পরিণতি পায়নি। তবে ৪৫ মিনিটে গোললাইন থেকে হেডে বল বাঁচিয়ে বাংলার নিশ্চিত পতন রোধ করেন ডিফেন্ডার মার্শাল কিস্কু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন‌্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। বিরতিতে রবির পরিবর্তে আসেন নরহরি শ্রেষ্ঠ। ৬১ মিনিটে প্রতিযোগিতায় প্রথম গোল হজম করে বাংলা। নন্দ কুমার অনন্তরাজ দূরপাল্লার শটে দর্শনীয় গোল করেন। এ ক্ষেত্রে কিছুই করার ছিল না গৌরবের। এর পরেই আকিবের জায়গায় বিজয় মুর্মু ও শ‌্যামল বেসরার পরিবর্তে নামেন সুময় সোম। বাংলার আক্রমণের ঝাঁঝও বাড়ে। ৭০ মিনিটে নরহরির জোরালো শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৮১ মিনিটে বিজয়ের মাটি ঘেঁষা ফ্রি-কিক তামিলনাড়ুর গোলরক্ষকের হাতে লেগে শূন‌্যে উঠে যায়। চলতি বলে হেড দেন নরহরি। সেই বল সুজিত সাধুর সামনে এলে তিনি ছোট্ট টোকায় জালে জড়িয়ে দেন। ম‌্যাচের একেবারে শেষে নরহরির ঘুরে গিয়ে চকিতে নেওয়া শট গোলে থাকলে বাংলা তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠছাড়তে পারত।

ম‌্যাচের পরে বাংলার কোচ সঞ্জয় সেন বলেছেন, “ছেলেরা পিছিয়ে পড়লেও শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছে। তামিলনাড়ু দারুণ খেলেছে। ওদের গোলটা অসাধারণ।” প্রথম একাদশে এত পরিবর্তন কেন? বাংলার কোচের উত্তর, “আমার দলে প্রত‌্যেকেই প্রথম একাদশে খেলার যোগ‌্য। নক-আউট পর্বের আগে প্রত্যেককেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিতে চাই।” শুক্রবার গ্রুপ পর্বে বাংলার শেষ প্রতিপক্ষ অসম। ম‌্যাচ জিতে শীর্ষ স্থানে শেষ করাই লক্ষ‌্য নরহরিদের।

বুধবার অন‌্য ম‌্যাচে উত্তরাখণ্ড ২-১ হারিয়েছে নাগাল‌্যান্ডকে। অসম ৩-০ জিতেছে রাজস্থানের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন