উৎসব: মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে বারপুজো। —নিজস্ব চিত্র, দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।
বাংলা নববর্ষ মানেই ময়দানে উৎসব। চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনে ক্লাবগুলিতে নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হল বারপুজো। ব্যতিক্রম নয় বাংলার দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলও। দুই ক্লাবই নববর্ষের পুণ্যলগ্নে ট্রফি জেতার শপথ গ্রহণ করল।
মোহনবাগান ক্লাবের বারপুজোয় মঙ্গলবার সকালে উপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক শুভাশিস বসু ও মনবীর সিংহ। নতুন বছরেই মোহনবাগানের অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন তাঁর নতুন স্বপ্নের কথা। সাংবাদিকদের শুভাশিস বলেছেন, “চলতি বছরে মোহনবাগানের হয়ে আইএসএল ট্রফি জয়ই লক্ষ্য। বাঙালি ফুটবলার হিসেবে ক্লাবের বারপুজোয় আসতে পেরে ভাগ্যবান।” পাশাপাশি যোগ করেছেন, “এ বছরে আমি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছি। ফলে মেয়ের সঙ্গে আইএসএল ট্রফি নিয়ে ছবি তুলতে চাই।” মোহনবাগানে বেশ কয়েক বছর কাটালেও মনবীর সিংহ প্রথম বার ক্লাবের বারপুজোর সাক্ষী হলেন। এই উৎসব দেখে আবেগপ্রবণ স্বরে মনবীর বলেছেন, “বারপুজোয় প্রথম বার এসে খুব ভাল লাগছে। আমার একটাই লক্ষ্য আইএসএল ট্রফি জয়।”
বারপুজোর দিনেই ক্রিকেট, হকি এবং অ্যাথলেটিক্সে নতুন স্পনসর পেল মোহনবাগান। নতুন বছরে শপথ হিসেবে ক্রিকেট অ্যাকাডেমি এবং ক্লাবে পিক্লবল কোর্টের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সবুজ-মেরুন কর্তারা। ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেছেন, “খেলার প্রত্যেকটি বিভাগে যাতে বাংলার উন্নতি হয় সেই চেষ্টা করতে হবে। মোহনবাগানকে আরও সাফল্য এনে দিতে চাই।”
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবেও বারপুজো নিয়ে সমর্থকদের উৎসাহের কোনও খামতি ছিল না। বৃহস্পতিবারবেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে আইএসএলে নামছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে সিনিয়র দলের কোচ ও ফুটবলাররা বারপুজোয় আসেননি। মেয়েদের দল ও ডেভেলপম্যান্ট লিগের কোচ ও ফুটবলাররা উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহ্য মেনেই এ দিন আগামী মরসুমের জন্য নতুন অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের নাম ঘোষণা করলেন ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। দলকে নেতৃত্ব দেবেন মহম্মদ রকিপ এবং সহ-অধিনায়ক লাল চুংনুঙ্গা। শীর্ষ কর্তা আরও বলেছেন, “আমাদের দল ভাল, কোচ ভাল। দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফুটবলারদের উপরে নির্ভর করছে। পরিকাঠামোরও উন্নতি করতে হবে।” লাল-হলুদ তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। পরে ক্লাবে আসেন জোসেরামিরেজ় ব্যারেটোও।