Kalighat Temple

নববর্ষেও ভিড় কম কালীঘাটে, বাড়ছে অনলাইন পুজোর ঝোঁক

মন্দির চত্বরে ভিড় কমার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়। ফুল ও মিষ্টির দোকানিদের একাংশ জানান, পর পর কয়েক বছর ধরে লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই এ বছর নববর্ষের দিন দোকানই খোলেননি। সকালে কিছুটা বিকিকিনি হলেও দুপুরের পরে প্রায় ফাঁকাই ছিল এলাকা।

শুভাশিস ঘটক
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৮
কালীঘাট মন্দির।

কালীঘাট মন্দির। —ফাইল চিত্র।

ভোর থেকে অল্প ভিড় চোখে পড়ছিল। কিন্তু সকাল ১০টার পর থেকেই সেই ভিড় ধীরে ধীরে হালকা হয়েদুপুরের পরে প্রায় মিলিয়ে গিয়েছে। এমনকি, শনি ও মঙ্গলবারের পুজো দেওয়ার ভিড়ের থেকেও বৈশাখের প্রথম দিন ভিড় কম ছিল বলে মনে করছেন কালীঘাট মন্দির কমিটির কর্তাব্যক্তিরা। ফলে, গত কয়েকবছরের মতো এ বছরও বাংলা নববর্ষে কালীঘাট মন্দিরে ভক্ত সমাগম কমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রইল বলে দাবি মন্দির কমিটি ও সেবায়েত কমিটির সদস্যদের।তাঁরা জানান, এ দিন সকাল সাড়ে ন’টার সময়েও দর্শনার্থীরা অনায়াসে মন্দিরে প্রবেশ করে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ধাক্কাধাক্কি তো দূরের কথা, ফুল ও প্রসাদ হাতে নিয়ে নির্বিঘ্নে পুজো সেরেছেন ভক্তেরা।

মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ কল্যাণ হালদার বললেন, “এ বছর থেকে কমিটির তরফে অনলাইনপুজোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বহু পুণ্যার্থী সেই পরিষেবা গ্রহণ করেছেন। আগে কিছু বেসরকারি সংস্থা অনলাইনে প্রসাদ বিক্রি করত।এ বার আমরা নিজেরাই সেই ব্যবস্থা করেছি এবং তাতে ভাল সাড়া মিলেছে।”

তবে মন্দির চত্বরে ভিড় কমার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়। ফুল ও মিষ্টির দোকানিদের একাংশ জানান, পর পর কয়েক বছর ধরে লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই এ বছর নববর্ষের দিন দোকানই খোলেননি। সকালে কিছুটা বিকিকিনি হলেও দুপুরের পরে প্রায় ফাঁকাই ছিল এলাকা।

এ দিন সকালে মন্দিরের আশপাশের গলিতে প্লাস্টিক ও কাপড়ের ছাউনি তৈরি করে হালখাতা পুজোর ব্যবস্থা করেছিলেন পান্ডা ও পুরোহিতেরা। তাঁদের একাংশের দাবি, ভোর থেকে সকাল সাড়েদশটা পর্যন্ত হালখাতা পুজো হলেও তা আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। তার পরেই দর্শনার্থীদের ভিড় আরও কমে যায়। “একসময়ে যে ভাবে উপচে পড়া ভিড় হত, এখন তা আর দেখা যায় না। গুটিকয়েক নির্দিষ্ট যজমানইএসেছিলেন”— জানালেন তাঁদের এক জন।

তবে, কালীঘাটের ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মন্দিরে ভিড়কমলেও কাছাকাছি লেক কালীবাড়িতে চোখে পড়ার মতো ভিড় হচ্ছে। কালী টেম্পল কমিটির এক সদস্য বললেন, ‘‘বছরের বিশেষ কিছু পার্বণেকালীঘাট মন্দিরে পান্ডা-পুরোহিতদের একটি অংশ দর্শনার্থীদের সঙ্গে দক্ষিণা নিয়ে জোর-জবরদস্তি করেন বলে অভিযোগ। সেই কারণে অনেক দর্শনার্থী বিশেষ দিনগুলিতে কালীঘাটে না এসে লেককালীবাড়িতে যাচ্ছেন। সেটাও কালীঘাটে ভিড় কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, শপিং মল ও অনলাইন ব্যবসার কারণে ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে। তাঁরাও এখন নববর্ষে কালীঘাটে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।’’

এ দিন মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল স্বাভাবিক। প্রতিটি গেটে কয়েক জন পুলিশকর্মী মোতায়েনথাকলেও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিশেষ চাপ ছিল না। বেশির ভাগ সময়েই তাঁদের নিরুদ্বেগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে।

আরও পড়ুন