হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।
দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দু’সপ্তাহ বৃদ্ধি করতে চায় আমেরিকা এবং ইরান। শান্তি সমঝোতা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেটিকে আরও সময় দেওয়ার জন্যই এই মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চাইছে তারা। ফলে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও ফের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমছে। ঘটনাপরম্পরা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্রে এমনটাই জানাচ্ছে ব্লুমবার্গ।
আপাতত দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে আমেরিকা এবং ইরানের। আগামী সপ্তাহেই প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোচ্ছে। কিন্তু বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ের এখনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ় প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ। আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানাচ্ছে, বিতর্কিত এই বিষয়গুলি দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই বিতর্কিত বিষয়গুলির সমাধানের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা কাটেনি। সরাসরি সংঘর্ষ বন্ধ রয়েছে ঠিকই, তবে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দু’দেশই হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা হুঁশিয়ারিও দিয়ে যাচ্ছে। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পরই হরমুজ় প্রণালীকে দৃশ্যত ‘বন্ধ’ করে রাখে ইরান। সম্প্রতি আবার ইরানের বন্দরগুলির উপর ‘অবরোধ’ চাপিয়েছে আমেরিকাও। দু’দেশের এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে দু’দেশই চাইছে আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে। সেই কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদও আরও দু’সপ্তাহ বৃদ্ধি করতে চাইছে তারা।
যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিটের দাবি, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আমেরিকা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও অনুরোধ জানায়নি। লেভিট বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা শুধুই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছি।” তবে আলোচনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল বিভিন্ন সূত্রে সিএনএন-ও জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে।