FIFA World Cup 2026

রোনাল্ডোই কি দলের বোঝা? পুরো ম্যাচ খেললেও খুঁজে পাওয়া গেল না ক্রিশ্চিয়ানোকে, কঙ্গোর কাছে হতাশাজনক ড্র পর্তুগালের

কাবো ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। এ বার তাদের প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও শুরু করল হোঁচট খেয়ে। বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। ১-১ ফলে শেষ হল ম্যাচ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০০:৩১
football

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ছবি: সমাজমাধ্যম।

পর্তুগাল ১ (নেভেস)
কঙ্গো ১ (উইসা)

Advertisement

কাবো ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল স্পেন। এ বার তাদের প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও শুরু করল হোঁচট খেয়ে। বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। ১-১ ফলে শেষ হল ম্যাচ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না রোনাল্ডোকে। প্রশ্ন উঠে গেল, তিনিই কি দলের বোঝা?

লিয়োনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে— এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাঁদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তাঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন। মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার রোনাল্ডো কী করেন সে দিকে অনেকেরই নজর ছিল। প্রথম দিনই তাঁরা হতাশ হয়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রোনাল্ডো আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাঁকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে চর্চা হয়েছিল। রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়। পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ় ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর দল হবে রোনাল্ডোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও ৪১ বছরের রোনাল্ডো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তাঁর হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। খেলার শেষে রোনাল্ডো নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে দেখতে পারেন, আদৌ নিজের জায়গার প্রতি সুবিচার করতে পারছেন তো?

এ দিন হাতে গুণে বলা যাবে, ক’টি বল ধরেছেন তিনি। না একটি ভাল সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন, না বাকিদের করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে যে দু’টি বল রোনাল্ডোর উদ্দেশে বাড়িয়েছিলেন ফ্রান্সিসকো কনসেসাও, তার অন্তত একটি থেকে গোল করা অবশ্যই উচিত ছিল। রোনাল্ডো দু’বারই বলে ঠিকঠাক পা লাগাতে পারেননি। হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।

বস্তুত, রোনাল্ডোর নিজস্ব কৌশল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বয়সের কারণে তিনি আগের মতো উইংয়ে খেলতে পারেন না বা দৌড়তে পারেন না ঠিক আছে। কিন্তু বল কাড়ার ন্যূনতম প্রয়াসও করতে দেখা যাবে না? এক সময় মনে হচ্ছিল পর্তুগাল খেলছে দশ জনে। রোনাল্ডোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। না তাঁকে দেখা গেল নীচে নেমে আসতে। না দেখা গেল প্রতিপক্ষের পিছনে ধাওয়া করতে। এমন ফুটবলারকে তা হলে মাঠে রেখে কাজ কী, যাঁকে প্লেটে ধরে গোলের বল সাজিয়ে দিতে হবে!

পর্তুগালের হাতে অনেক ভাল ফুটবলার, বিশেষ করে মিডফিল্ডার রয়েছে। ব্রুনো ফের্নান্দেজ়, ভিটিনহা, বের্নার্দো সিলভারা নিজেদের ক্লাবে নায়কের মর্যাদা পান। তাঁরা একসঙ্গে হলে কতটা ধ্বংসাত্মক ফুটবল খেলে পর্তুগাল, সে দিকে নজর ছিল। কিন্তু সেই জুটি, সেই বোঝাপড়া গোটা ম্যাচে তৈরি হল কোথায়? প্রত্যেকেই নিজের মতো করে খেললেন। ভিটিনহা গোটা ম্যাচে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। খেলা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। অথচ তাঁকে ম্যাচের শেষ দিকে তুলে নেওয়া হল। আর রেখে দেওয়া হল রোনাল্ডোকে!

পর্তুগালের রক্ষণে এক সময় পেপে দাপিয়ে খেলেছেন। সঙ্গে থাকতেন রিকার্ডো কার্ভালহো। এ দিন দু’জনেই মাঠে ছিলেন। পেপে ছিলেন ভিআইপি বক্সে। কার্ভালহো পর্তুগালের ডাগআউটে। দূর থেকে তাঁরা ভাবতেই পারেন, এ কোন দল! ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে যখন ইয়োনে উইসা হেড করছেন, তখন তাঁকে কেউ আটকাননি। ধারেকাছেই ছিলেন না কেউ। স্কুল পর্যায়ের গাফিলতি দেখা গেল পর্তুগালের রক্ষণে। রেনাতো ভেগা এবং টমাস আরাউখোর বোঝাপড়ার অভাব বার বার দেখা গিয়েছে।

কঙ্গোর কৌশল ছিল একটাই— ঘর বাঁচিয়ে আক্রমণে যাও। তারা জোর দিয়েছিল রক্ষণে। শুরুতেই ছ’মিনিটের মাথায় জোয়াও নেভেস যে ও রকম একটা গোল করে দেবেন, তা কঙ্গো ভাবতে পারেনি। পেদ্রো নেতোর ক্রসে আচমকা লাফিয়ে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান নেভেস। এর পর কঙ্গো আরও সতর্ক হয়ে যায়। দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারেরা এরিয়াল বল পর্তুগালকে ছুঁতে দিচ্ছিলেন না। সেট পিস, কর্নার, সব দিকেই সমস্যা হচ্ছিল পর্তুগালের। বাধ্য হয়ে তারা ছোট কর্নার নেওয়া শুরু করে। তাতেও সাফল্য পায়নি। কারণ পাসের মাধ্যমে গোলের রাস্তা খোলার পথও বন্ধ করে দিয়েছিল কঙ্গো।

একদম শেষে নামানো হল আগের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা গন্সালো রামোসকে। কনসিসাও এলেন বিরতিতে। নামানোই হল না সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার জোয়াও ফেলিক্সকে। শুধু রোনাল্ডো নন, পর্তুগালের কোচ মার্তিনেজ়ের দল নির্বাচন নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন থাকছে। পর্তুগালের এই সোনালি প্রজন্ম বিশ্বকাপে হতাশ করলে তাঁর অবস্থাও হতে পারে সান্তোসের মতোই।

Advertisement
আরও পড়ুন