জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কম দামে বালি দেওয়ার জন্য তৎপর রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সমীক্ষা চলছে। আগামী মাস থেকেই প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১১টি ব্লকে চালু হবে এই নিয়ম। বুধবার সিউড়ি-১ ব্লকে এসে এমনটাই জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
জনকল্যাণ শিবির যোগ দিয়ে মন্ত্রী জানান, গত মাসের ১৭ তারিখ থেকে চলতি মাসের ১৬ জুন পর্যন্ত বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। তিনি আরও জানান, ইদ থাকার কারণে রাজস্ব আদায় কিছু কম হয়েছে। তবে পরের মাসে সেই পরিমাণ ১০০ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে। মন্ত্রীর আরও দাবি, গত বছরে এই মাসে যা রাজস্ব আদায় হয়েছিল তার থেকে চলতি বছরের এই মাসে অনেক বেশি রাজস্ব ঢুকেছে সরকারের কোষাগারে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রীর দাবি, পালাবদলের আগে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই খাতে প্রতি মাসে যথাক্রমে ২১ কোটি, ২২ কোটি, ১৯ কোটি ও ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা কোষাগারে জমা পড়েছিল। উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রীর অভিযোগ, এর আগে প্রতি বার ভোটের সময়ে রাজ্য সরকারের কাছে কম রাজস্ব জমা পড়ত তবে সরকারের টাকা লুট হয়ে তৃণমূলের কাছে বেশি টাকা ঢুকত। তাঁর দাবি, ২০২০-২১ সালে ৯ কোটি ৬০ লক্ষ, ২০২১-২২ সালে ১০ কোটি, ২০২২-২৩ সালে ২২ কোটি, ২০২৩-২৪ সালে ১২ কোটি ও ২০২৪-২৫ সালে ১১ কোটি টাকা কোষাগারে জমা পড়েছিল।
মন্ত্রীর দাবি, সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে ‘নকল চালান’ বন্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে বেশ কয়েক জন অসাধু ব্যবসায়ী ট্রাকে পাথর রেখে তার উপরে পাথরের ধুলো ছড়িয়ে অবৈধ পাচার চালাচ্ছে। ধরা পড়লে তাঁদের দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে।
তিনি জানান, বালির দাম দিন দিন বাড়ছে৷ আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কম দামে বালি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১১টি ব্লকে এই নিয়ম চালু হবে। পরবর্তী কালে জেলা জুড়ে তা বলবৎ হবে।