তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
পাঁচ বছর আগে আকাশ বিজয়বর্গীয়ের করা একটি মানহানির মামলায় জারি করা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ তুলে নিল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, বুধবার আদালতে এই মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না-থাকায় এবং মামলার সওয়াল না-হওয়ায়, সিঙ্গল বেঞ্চ অভিষেকের অন্তর্বর্তিকালীন আইনি সুরক্ষার মেয়াদ আর বাড়ায়নি এবং স্থগিতাদেশ তুলে নেয়।
অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ডায়মন্ড হারবারের একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ছেলে মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক আকাশের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক। বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ভাইপো’ সম্বোধন করা নিয়ে বলতে গিয়ে অভিষেক চ্যালেঞ্জের সুরেই বলেছিলেন, “ভাইপো বলে বার বার আমাকে ডাকা হচ্ছে। যে ভারতীয় জনতা পার্টি আমাকে বারবার ভাইপো বলে ডাকছে, তাদের সাহস থাকলে আমার নাম ধরে ডাকুক।” তিনি আরও বলেছিলেন, “আমি তো নাম করে বলছি, কৈলাস বিজয়বর্গীয় বহিরাগত। আমি নাম করে বলছি, ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষ গুন্ডা, মাফিয়া। আমি তো নাম করে বলছি, অমিত শাহ বহিরাগত, আমি তো নাম করে বলছি, সুনীল দেওধর বহিরাগত। আমি নাম করেই বলছি, কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয় গুন্ডা। আপনার ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দেখান।”
এর পরেই ২০২১ সালে আকাশ ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেকের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। শুনানিতে একাধিকবার অনুপস্থিত থাকার কারণে ভোপাল আদালত অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তার পরেই অভিষেক মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলে, আদালত সাময়িক ভাবে সেই গ্রেফতারি পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। বুধবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না-থাকায় এবং মামলার সওয়াল না-হওয়ায়, সিঙ্গল বেঞ্চ অভিষেকের অন্তর্বর্তিকালীন আইনি সুরক্ষার মেয়াদ আর বাড়ায়নি এবং স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।