— প্রতীকী চিত্র।
স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের পর আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর। পরে নিজেই রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুটার চালিয়ে সটান হাসপাতালে হাজির হন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরের কুড়চিবন এলাকায়। পরে পুলিশ গুরুতর আহত স্ত্রীকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অভিজিৎ পালের সঙ্গে হুগলি জেলার মায়াপুরের বাসিন্দা পূজা মাঝির সঙ্গে বিয়ে হয়। মাস তিনেক আগে ওই দম্পতি বিষ্ণুপুর শহরের কুড়চিবন এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন। অভিজিৎ বেঙ্গালুরুতে সোনার দোকানে কারিগর হিসাবে কাজ করতেন। পূজা থাকতেন বিষ্ণুপুরের ওই ভাড়া বাড়িতে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়েরা।
গত ১৫ জুন স্বামী বেঙ্গালুরু থেকে বিষ্ণুপুরের বাড়িতে ফিরলে, ওই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে ওই দিন অভিজিৎ বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সে সময় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করলে তিনি সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরের ভাড়া বাড়িতে ফেরেন। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িতে ফিরতেই ফের স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয় অভিজিতের। ঝগড়া শুনে বাড়ির মালিক ওই দম্পতিকে বুধবারের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ দিকে বুধবার সকালে ওই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে, অভিজিৎ একটি ছুরি নিয়ে স্ত্রী পূজার উপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় স্ত্রী গুরুতর আহত হলে, অভিজিৎ নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুটার চালিয়ে হাজির হন বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। পরে ঘটনার কথা জানাজানি হলে গুরুতর আহত পূজাকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
ভাড়া বাড়ির মালিক অরুণ সরকার বলেন, “প্রতি দিন ওই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া হত। সেই ঝগড়ার কারণেই ওদের বুধবারের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার কথা বলেছিলাম। বুধবার সকালে আমি বিশেষ কারণে স্টেশনে গেলে, সে সময় দূর্ঘটনাটি ঘটে।”