জনকল্যাণ শিবিরে বিশৃঙ্খলা। ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার তৈরির পঞ্চম সপ্তাহে প্রথম নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির নাম, জনকল্যাণ শিবির। প্রথম দিন পুরুলিয়ায় তাল কাটল সেই শিবিরে। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ার মানবাজার-২ ব্লকে। ফর্ম লুটপাট, টেবিল উল্টানোর মতো নানা ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। আর সেই ভিডিয়ো (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ল জেলায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, জনকল্যাণ শিবিরে পাতা টেবিলে ছড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি ফর্ম। আর তা নেওয়ার জন্য উপস্থিত জনতার মধ্যে হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলি। কে আগে নেবেন ফর্ম— তা নিয়ে যেন প্রতিযোগিতা দেখল ওই ব্লক অফিসের আধিকারিকেরা। ভিড়ের চাপে এক সময় টেবিলই উল্টে গেল। মাটিতে ছড়িয়ে পড়া ফর্ম নেওয়ার জন্যও হুড়োহুড়ি কম ছিল না। যদিও এই ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ওই ব্লকের বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস।
জানা গিয়েছে, মানবাজার-২ ব্লকে বোরো এলাকায় একটি ট্রেনিং সেন্টারে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই শিবিরে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাউন্টারে বিশৃঙ্খলা ঘটে। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান বিধানসভার বিধায়ক লবসেন বাস্কে অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘‘তেমন কিছুই হয়নি। আসলে অত্যাধিক ভিড়ের চাপে ঘটনাটি ঘটেছে। যাঁদের ফর্ম জমা দেওয়ার দরকার নেই, যাঁদের বাড়িতে আধিকারিকেরা যাবেন, তাঁরাও শিবিরে চলে যাচ্ছেন। নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই আবেগ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে।’’
মানবাজার-২ ব্লকের শিবিরে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও পুরুলিয়ার অন্যত্র তেমন বড় কিছু ঘটেনি। শহরের এমএসএ ইনডোর স্টেডিয়ামের শিবিরে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। তবে গরম উপেক্ষা করে অনেককে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল পুরুলিয়া-১ ব্লকের শিবিরে। তবে শিবিরে সরকারি প্রকল্পগুলির ফর্ম না-পেয়ে অনেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
রাজ্যের রেশন কার্ড থাকায় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে আবেদন করতে না-পারাকে কেন্দ্র করেও ক্ষোভ উগরে দেন অনেকেই। শিবিরে আসা এক স্থানীয় বাসিন্দা মালতী মাহাতো বলেন, ‘‘শিবিরে চূড়ান্ত অব্যবস্থা। এত রোদ উপেক্ষা করে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আবেদন করার জন্য এলাম অথচ এখানে এসে জানতে পারছি অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এমন হয়রানির কি দরকার ছিল?’’