FIFA World Cup 2026

কাবো ভার্দের কাছে আটকে গেল স্পেন! ইয়ামালকে নামিয়েও লাভ হল না ফুয়েন্তের, প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন ৪০ বছরের ভোজ়িনহা

মনে করা হয়েছিল কাবো ভার্দেকে সহজে হারিয়ে দেবে প্রাক্তন বিশ্বজয়ীরা। কিন্তু অন্য ভাবনা ছিল আফ্রিকার দেশটির ফুটবলারদের। অভিজ্ঞতা, দক্ষতায় পিছিয়ে থেকেও স্পেনের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করলেন তাঁরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ২৩:২৬
picture of football

হতাশ স্পেনের ফুটবলারেরা। ছবি: রয়টার্স।

স্পেন - ০

Advertisement

কাবো ভার্দে - ০

বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এ বার স্পেনকে সবচেয়ে আগে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভারসাম্যে দল বল বেছেছেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। ফুটবলারেরা ভাল ফর্মেও আছেন। তা-ও প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কাবো ভার্দের বিরুদ্ধেই নাজেহাল অবস্থা হল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নদের। ৭০ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং মিকেল মেরিনোকে নামাতে বাধ্য হলেন তিনি।

দাপটে খেলেও জয় অধরা স্পেনের

ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল স্পেনের। বল ছিল মূলত কাবো ভার্দের অর্ধেই। তবু ছ’গজের বাইরেই বার বার আটকে গেলেন স্পেনের ফুটবলারেরা। মনে করা হয়েছিল কাবো ভার্দেকে সহজে হারিয়ে দেবে প্রাক্তন বিশ্বজয়ীরা। কিন্তু অন্য রকম ভাবনা ছিল আফ্রিকার দেশটির ফুটবলারদের। অভিজ্ঞতা, দক্ষতায় পিছিয়ে থেকেও সমানে সমানে লড়াই করলেন তাঁরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে গুটিয়ে থাকেননি। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করেছেন। এক জন বল দখলের লড়াইয়ে হেরে গেলে আর এক জন ছুটে এসেছেন। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছেন। গোলের মুখ ছোট করে স্প্যানিশদের কাজ কঠিন করে দিয়েছেন বার বার। ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল বাদে সব করলেন স্পেনের ফুটবলারেরা। কিন্তু পারলেন না ইউরোপ সেরারা।

ইয়ামালকেও নামতে হল

চোট নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন ইয়ামাল। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল স্পেনের। ইয়ামালকে প্রথম একাদশে রাখাও হয়নি। গোল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকেও ঝুঁকি নিয়ে নামিয়ে দিলেন ফুয়েন্তে। ৬৪ মিনিট থেকে মাঠের ধারে ইয়ামালকে ওয়ার্ম আপ করতে দেখে অবাকই হয়েছিলেন ধারাভাষ্যকারেরা। কিন্তু গোলের মুখ না খোলায় ৭০ মিনিটে তাঁকে নামিয়েই দিলেন স্পেন কোচ। শুধু ইয়ামালকে নয়, তাঁর সঙ্গে নামানো হয় মেরিনোকেও। জোড়া স্ট্রাইকার নামিয়েও কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট ঘরে তুলতে ব্যর্থ স্পেন কোচ।

ডিফেন্স ভাঙতে পারল না স্পেন

অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং ফোর্স নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে স্পেন। তা-ও কাবো ভার্দের ডিফেন্স ভাঙতে পারল না তারা। স্পেনের আক্রমণ বার বার আটকে গেল ছ’গজের বাইরে। বক্সে প্রতিপক্ষকে ঢুকতেই দিলেন না কাবো ভার্দের ডিফেন্ডারেরা। তাঁরা ব্লক করলেন, কড়া নজরদারিতে রাখলেন, একাধিক নিখুঁত ট্যাকল করে আটকে দিলেন স্প্যানিশদের। প্রতিপক্ষকে চমকে দিল কাবো ভার্দের ফুটবলারদের চোরা গতিও। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেললেন স্পেনের ফুটবলারেরা। বলের দখলও রাখলেন অধিকাংশ সময়। তবু অ্যাটাকিং থার্ডে জ্বলে উঠতে পারলেন না। যে ক’টি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা-ও কাজে লাগাতে ব্যর্থ মিকেল ওয়ারজ়াবালেরা।

একাই কুম্ভ ভোজ়িনহা

জোসিমার হোসে এভোরা ডায়াস। ভোজ়িনহা নামেই বেশি পরিচিত কাবো ভার্দের গোলরক্ষক। ৪০ বছরের ভোজ়িনহাই প্রাচীর তুলে দিলেন স্পেনের সামনে। পর্তুগিজে দ্বিতীয় ডিভিশন লিগের ক্লাব চাভেসে খেলেন। অন্তত পাঁচ বার দলের নিশ্চিত পতন রুখলেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস, রিফ্লেক্স বার বার হতাশ করল স্প্যানিশদের। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ভোজ়িনহা।

ভোজ়িনহা।

ভোজ়িনহা। ছবি: রয়টার্স।

ফুয়েন্তের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

স্পেনের দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল প্রথম ম্যাচেই। চোটের জন্য ইয়ামালকে নামাননি। তার একটা যুক্তি রয়েছে। কিন্তু সকলকে অবাক করে প্রথম একাদশে তিনি রাখেননি ফর্মে থাকা নিকো উইলিয়ামসকেও। তাঁকে নামালেন শেষ মুহূর্তে। যখন আশা প্রায় শেষ! কাবো ভার্দেকে কি বেশি সহজ ভাবে নিয়েছিলেন স্পেনের কোচ? প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার পরও কৌশল বদল করলেন না। উইংয়ে খেলা ছড়ালেন না!

প্রতি আক্রমণে পরীক্ষা নিল কেপ ভার্দেও

শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে বেসিক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছেন কাবো ভার্দের ফুটবলারেরা। অতিরিক্ত কিছু চেষ্টা করেননি। মূলত রক্ষণাত্মক কৌশল নিলেও সুযোগ মতো আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করেছে। তেমন বিপদ তৈরি করতে না পারলেও দু’তিন বার স্প্যানিশ ডিফেন্সকে পরীক্ষার মুখেও ফেলেছেন।

ব্রাজিলের খেলা হতাশ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের। তাদের বিরুদ্ধে ছিল গত বারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। স্পেন আরও বেশি হতাশ করল। প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা আফ্রিকার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের ১০টি দ্বীপের দেশের কাছে আটকে গেল তিকিতাকা ফুটবলের জনকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন