FIFA World Cup 2026

জোড়া গোল রোনাল্ডোর, পাল্টা জবাব মেসিকে, ক্রিশ্চিয়ানোর বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচে উজ়বেকদের ৫ গোলে ওড়াল পর্তুগাল

উজ়বেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটের দৌড়ে ভাল ভাবে টিকে থাকল পর্তুগাল। জোড়া গোল করলেন রোনাল্ডো।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০০:৩০
sports

গোলের পর রোনাল্ডোর উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।

পর্তুগাল ৫ (রোনাল্ডো ২, মেন্দেস, খুসানভ-আত্মঘাতী, লিয়াও)
উজ়বেকিস্তান ০

Advertisement

লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড— বিশ্বকাপে দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতায় কেউ বাকি ছিলেন না। পড়ে ছিলেন শুধু তিনিই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। প্রথম ম্যাচে হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনাল্ডো বুঝিয়ে দিলেন, ‘ফর্ম ইজ় টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ় পার্মানেন্ট’। এই দুই গোল হয়তো মেসিকেও পাল্টা জবাব। বার্তা দিতে পারেন যে, তিনি ৪১ হলেও ফুরিয়ে যাননি। এখনও বিশ্বকাপে গোল করার ক্ষমতা রাখেন।

মঙ্গলবার হিউস্টনে উজ়বেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটের দৌড়ে ভাল ভাবে টিকে থাকল পর্তুগাল। জোড়া গোল করলেন রোনাল্ডো। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে।

কঙ্গোর বিরুদ্ধে খারাপ খেলার পর কেন তাঁকে পর্তুগালের প্রথম একাদশে রাখা হবে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কোচ থেকে ফুটবলার, সকলেই ছিলেন রোনাল্ডোর পাশে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ় উজ়বেকিস্তান ম্যাচেও প্রথম একাদশে রেখেছিলেন রোনাল্ডোকে। আলোচনা, সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল তখনই। তা বিপুল বেগে বাড়ল, যখন চার মিনিটের মাথায় রোনাল্ডো সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করলেন।

বাঁ দিক থেকে নুনো মেন্দেসের ভাসানো বলে স্রেফ পা ছোঁয়ালেই চলত। তিন-চার বছর আগের রোনাল্ডো হলে মার্কারকে টপকে অনায়াসে হেড করে দিতেন। এ দিন পৌঁছতেই পারলেন না। এক ইঞ্চির জন্য পা এবং বলের দূরত্ব রয়ে গেল। গোল মিস্‌ করে হতাশ মুখে মাথা নাড়তে নাড়তে রোনাল্ডো সেই এক ইঞ্চির পার্থক্যই দেখালেন।

কে জানত তাঁর কয়েক মিনিট পরেই চিত্রনাট্য পুরোপুরি বদলে যাবে। ডান প্রান্তে বল পেদ্রো নেতো যখন বল পেয়ে পাস দেওয়ার লোক খুঁজছেন, তখনই জটলার মধ্যে থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। নেতোর ক্রসে চলতি বলেই শট নিয়ে দুরূহ কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দিলেন রোনাল্ডো। সঙ্গে সঙ্গে দৌড় লাগালেন ডাগআউটের দিকে। সেখানেই অপেক্ষা করছিলেন রিজ়ার্ভ বেঞ্চের সতীর্থেরা। তাঁদেরই একজনের কোলে উঠে পড়লেন। মুহূর্তের মধ্যে রোনাল্ডোকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে গেল।

প্রথম দু’টি ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স দেখার পর অনেকেরই মনে হয়েছিল, মেসি থাকলে যতটা আর্জেন্টিনার উপকার হয়, রোনাল্ডো থাকলে পর্তুগালের ততটাই অসুবিধা হয়। উজ়বেকিস্তান ম্যাচ বোঝাল, ব্যাপারটা হয়তো তেমন নয়। রোনাল্ডোর প্রতি সতীর্থদেরও সেই আবেগ রয়েছে। এবং সেই কারণেই মাঠে সতীর্থেরা বল পেলে এখনও রোনাল্ডোকে খোঁজেন। জানেন ওই এক জনের পায়ে বল খেলা খেলা বদলে যাওয়া সম্ভব।

দ্বিতীয় গোলটার কথাই ধরা যাক। বক্সের যে জায়গায় ফ্রিকিক পেয়েছিল পর্তুগাল, ওখান থেকে বহু গোল করেছেন রোনাল্ডো। কিন্তু এ দিনের সেট-পিসে সেই কোণটা ছিল না। ফলে নিখুঁত জায়গায় বল রাখতে সমস্যা হতে পারত। রোনাল্ডো এবং মেন্দেস পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত মেন্দেস শট নিয়ে বল জালে জড়ান। তার পরেই রোনাল্ডো হাত তুলে যে ভাবে উচ্ছ্বাস করলেন, তাতে বোঝাই গেল বুদ্ধিটা তাঁরই ছিল।

তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রেও রোনাল্ডোর সেই বুদ্ধিমত্তার ছাপ দেখা গেল। ব্রুনো ফের্নান্দেজ় পাস পাওয়া মাত্রই দৌড় শুরু করেছিলেন। রোনাল্ডো ছুটছিলেন কোণাকুণি। ব্রুনোর পাস পেয়ে বল ধরার চেষ্টাই করেননি। তা হলে উজ়বেক ডিফেন্ডার আটকে দিতে পারতেন। রোনাল্ডো চলতি বলেই নিখুঁত জায়গায় শট রাখলেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রুনোর বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রিকিক থেকে যে শটটি নিয়েছিলেন, তা আর একটু নিখুঁত হলেই হ্যাটট্রিক হয়ে যেত। এ ছাড়া উজ়বেকিস্তানের গোলকিপার রোনাল্ডোর দু’টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এ দিন যে রোনাল্ডোকে দেখা গিয়েছে তার সঙ্গে কঙ্গো ম্যাচের রোনাল্ডোর অনেক তফাত। এই রোনাল্ডো পরিশ্রম করেছেন, বল দখলের জন্য লড়েছেন, নীচে নেমে ডিফেন্ড করেছেন, সতীর্থের জন্য বল ছেড়ে দিয়েছেন। আদ্যন্ত টিমম্যান বলতে যা বোঝায়, তার সব ক’টি বৈশিষ্ট্যই দেখা গিয়েছে তাঁর খেলায়। বয়সের কারণে খেলার শ্লথতা আসা বা গতি মন্থরতা রয়েছে ঠিকই। কিন্তু রোনাল্ডো বোঝালেন, নিজের দিনে তিনি এখনও সেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন