East Bengal vs Mohun Bagan

বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসাবে শেষ ডার্বি, ‘আমায় নয়, দলকে নিয়ে কথা হোক’, শান্তির বার্তা অস্কারের, জানালেন দুই লক্ষ্য

মরসুমের শেষে তিনি ইস্টবেঙ্গল কোচের পদ ছাড়ছেন। সেই হিসাবে এটাই তাঁর শেষ কলকাতা ডার্বি। তার আগে কোনও বিতর্কে জড়াতে রাজি হলেন না অস্কার ব্রুজ়ো। কী কী বললেন তিনি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৯:৩৬
football

ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। ছবি: সমাজমাধ্যম।

মরসুমের শেষে তিনি ইস্টবেঙ্গল কোচের পদ ছাড়ছেন। সেই হিসাবে এটাই তাঁর শেষ কলকাতা ডার্বি। তার আগে কোনও বিতর্কে জড়াতে রাজি হলেন না অস্কার ব্রুজ়ো। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলার আগে তাঁর সাফ বার্তা, “আমায় নয়, দলকে নিয়ে কথা হোক।” তিনি জানিয়ে গেলেন, যে অবস্থায় ইস্টবেঙ্গলকে রেখে যাচ্ছেন তাতে খুশি। আইএসএল ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতা অর্জনই তাঁর লক্ষ্য।

Advertisement

অস্কার বলেছেন, “কোচিং এবং টেকনিক্যাল বিষয় বাদ দিলে, প্রথম দিন থেকে আমি ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছি। আমি আবেগপ্রবণ। তাই আমার ভেতরে লাল-হলুদ রংই রয়েছে। লুকনোর চেষ্টা করছি না। নিজেকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক হিসাবেই দাবি করি। আমি জানি সমর্থকদের ব্যথা, কষ্ট। গত কয়েক বছরে আমরা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি এবং ফিরে আসার চেষ্টা করছি সে সব আমার মাথায় রয়েছে। এমনকি ইস্টবেঙ্গলের শেষ আই লিগ ম্যাচে কী হয়েছে সেটাও জানি। তবে শেষ ডার্বির আগে সব নেতিবাচক বিষয় ঝেড়ে ফেলতে চাই।”

সে কারণেই ডার্বির আগে কোনও বিতর্কিত ঘোষণা করতে রাজি হলেন না তিনি। অস্কার বলেছেন, “আমি গুরুত্বপূর্ণ নই। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, ইমামি এবং আমি— প্রত্যেকের আলাদা ভাবনাচিন্তা রয়েছে। আর এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না। চাপ হালকা করতে চাই। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলার আগেই বলেছি। আপাতত শুধু ডার্বি নিয়েই ভাবছি।”

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ খেলে ভুটান থেকে ফেরার পর অস্কার দাবি করেছিলেন, ইস্টবেঙ্গল দলের মধ্যে নকআউট ম্যাচ খেলার মানসিকতা আনতে হবে। আইএসএলের পরিস্থিতির বিচারে বাকি দু’টি ম্যাচই নকআউট। সেই মানসিকতা কি এসেছে ফুটবলারদের? অস্কারের জবাব, “আমি আসার পর ইস্টবেঙ্গল লিগে সকলের নীচে ছিল, এটা কখনও ভুলব না। দেড় বছরের মধ্যে আমরা শীর্ষে থেকে মরসুম শেষ করার জায়গায়। আপনারা ট্রফি জয়ের কথাও বলছেন। ফলে দেড় বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সব ইতিবাচক দিক নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবে মানসিকতার পরিবর্তন সবচেয়ে বড়। জয়ের মানসিকতা সকলের মধ্যে আনতে পেরেছি। শুধু ম্যাচ নয়, অনুশীলনেও সকলে সেরাটা দেয়। ওরা জানে অনুশীলনে খারাপ খেললে ম্যাচে সুযোগ পাবে না। এটা নিয়ে আমি গর্বিত। আশা করি ভবিষ্যতেও জয়ের মানসিকতা ওরা ধরে রাখতে পারবে। এই ক্লাবকে আমি ভালবাসি। আশা করি ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলই থাকবে।”

কোচ হয়ে অস্কারের প্রথম ম্যাচই ছিল ডার্বি। সকালে শহরে এসে বিকেলেই বসেছিলেন ডাগআউটে। ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গল হারলেও অস্কারের দায়বদ্ধতা প্রশংসিত হয়েছিল। সেই দলের সঙ্গে এই দলের তফাত প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অস্কারের ব্যাখ্যা, “আমরা পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছি। মোহনবাগান বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। জাতীয় দলে সবচেয়ে বেশি ফুটবলার ওদেরই। কিন্তু আমাদের রাকিপ, বিষ্ণু, বিপিনও জাতীয় দলে উপরের দিকে থাকার যোগ্য। মোহনবাগান দলে এতই ফুটবলার যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরও বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। যদি ফেভারিট বিচার করতে হয় তা হলে মোহনবাগানই এগিয়ে থেকে নামবে। কিন্তু আমাদের পারফরম্যান্সও বিচার্য হওয়া উচিত। আশা করি কাল এমন খেলব যাতে তিন পয়েন্ট আমাদের ঘরে আসে।”

অস্কারের সাফ কথা, প্রথম ছয়ে থাকার যে লক্ষ্য তা পূরণ হয়েছে। এ বার ট্রফি জয়টা বাড়তি পাওনা হিসাবে ঘরে তুলতে চান। ইস্টবেঙ্গল কোচের কথায়, “শুধু ট্রফিই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জনও রয়েছে। আমাদের চোখে একটা স্বপ্ন আছে, যেটা শক্তিশালী হলে পাহাড়কেও সরিয়ে দেওয়া যায়। আমাদের সামনে দুটো লক্ষ্য, একটা লিগ জেতা, আর একটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন।”

Advertisement
আরও পড়ুন