অরল্যান্ডো গিলের কাছে হার জার্মানির ছবি: রয়টার্স।
প্যারাগুয়ে - ১ (৪)
জার্মানি - ১ (৩)
ভাল খেলেও গোল খাওয়ার রোগ এই জার্মান দলের নতুন নয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, তা গ্রুপ পর্বেই প্রমাণ করে দিয়েছিল ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকার আর এক দেশ প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে গেলেন জোসুয়া কিমিচেরা। জোড়া শট আটকে প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক অরল্যান্ডো গিল।
হাভার্ৎজ়ের প্রথম শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে চপে ফেলে দেন গিল। আবার নিক ওল্টেমেডকে রুখে দেন চতুর্থ শটে। সে সময় টানা তিন শটে গোল করে জয়ের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে বাইরে মারেন অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া। পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানির আশা জিইয়ে রাখেন নাদিম আমিরি। এর পর ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান নয়ার। তাতেও লাভ হল না। প্রথম পাঁচ শটেল পর ফলাফল ৩-৩ হওয়ার পর তুঙ্গে পৌঁছোয় উত্তেজনা। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে আসা তাহ বল উড়িয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। আবার চাপে পড়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নেরা। এর পর হোসে ক্যানালে গোল করতেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই দাপট ছিল জার্মানির। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজ়েরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেলে কখনও মাঠের মাঝ খান দিয়ে আবার কখনও উইং ব্যবহার করে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। জার্মানেরা গোলমুখী শট নেওয়ার চেষ্টা করলেই ব্লক করে দিচ্ছিলেন তাঁরা। প্রথম ৩০ মিনিটে জার্মানি গোল লক্ষ করে মাত্র দু’টি শট নিতে পেরেছে। তার একটিও পোস্টের মধ্যে ছিল না। অন্য দিকে, দলগত শক্তিতে পিছিয়ে থাকা প্যারাগুয়ে রক্ষণ করতে করতে হঠাৎ হঠাৎ প্রতি আক্রমণে উঠছিল। তাতেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল জার্মান রক্ষণে। তাদের একটি শট বরং গোলের মধ্যে ছিল।
লড়াই হচ্ছিল মূলত প্যারাগুয়ের রক্ষণের সঙ্গে জার্মানির আক্রমণের। প্যারাগুয়ের অর্ধেই বল থাকছিল। কখনও কখনও দলকে সাহায্য করতে মাঝমাঠ পর্যন্ত উঠে আসছিলেন ম্যানুয়েল নয়ার। জার্মানির প্রেসিং ফুটবলের সামনেও রক্ষণ জমাট রেখেছিলেন প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা। ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। কর্ণার থেকে দ্রুত পরিকল্পিত আক্রমণ তৈরি করে প্যারাগুয়ে। বক্সের মধ্যে প্রায় অরক্ষিত ছিলেন হুলিয়ো এনসিসো। মাতিয়াস গালারজ়ার ভাসিয়ে দেওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি। তাঁর ড্রপ হেড বুঝতে পারেননি নয়ারও। ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। যদিও ৪৯ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ নষ্ট করে প্যারাগুয়ে। দলকে বাঁচান ন্যয়ার। কিছুটা আগ্রাসী ফুটবল খেলে প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা মাঝমাঠে খেলা রাখার চেষ্টা করতে শুরু করেন। কিন্তু জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল তাদের সেই লক্ষ্য সফল হতে দেয়নি। ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ়ের সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন হাভার্ৎজ়। ৬৯ মিনিটে প্যারাগুয়ের গুস্তাভো গোমেজ়ের হেড একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। ৭৭ মিনিটে হাভার্ৎজ়ের গোল করার প্রচেষ্টা রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল। এ ক্ষেত্রেও হাভার্ৎজ়কে বল দিয়েছিলেন উইর্ৎজ়। নির্ধারিত সময়ের শেষ কয়েক মিনিট চাপ বাড়িয়েও কাজের কাজ করতে পারেননি জার্মানেরা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে কর্নারে থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন জোনাথন তাহ। রেফারি গোল দিলেও ‘ভার’ তা বাতিল করার পরামর্শ দেয়। তাহ হেড করার আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হয়েছিল। রিপ্লে দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে ৯ মিনিটের মাথায় তাহ গোলের সামনে বলে মাথা ছোঁয়াতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেন নাগেলসম্যান। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে প্যারাগুয়ের পতন আটকান গিল। অতিরিক্ত সময়ে অন্তত তিন বার গিলের কাছে আটকে গিয়েছে জার্মানি। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলে। ম্যাচে দু’দলই প্রচুর ফাউল করল। বার বার খেলা থামাতে হল রেফারিকে।