ইরানের কয়েক জন ফুটবলার। ছবি: রয়টার্স।
যেমনটা আশা করা হয়েছিল, তেমনটাই হয়েছে। ইরানের ফুটবল দলকে আমেরিকায় বেশি ক্ষণ থাকতে দিতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের ফুটবল দলের অভিযোগ, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ ড্রয়ের পর ২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ফিফাও কোনও পদক্ষেপ করেনি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পাশাপাশি ফিফাকেও নিশানা করেছে ইরান।
ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি, মিডফিল্ডার মহম্মদ মোহেবি ও কোচ আমির ঘালেনোয়েই নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুরু থেকেই তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি অন্যায় করা হচ্ছে। আমির জানিয়েছেন, ম্যাচ শেষে ২ ঘণ্টার মধ্যে মেক্সিকোতে ফিরতে বলা হয়েছে তাঁদের।
আমির বলেন, “খেলা শেষে আমাদের বলা হল, ২ ঘণ্টা সময় আছে। তার মধ্যে মেক্সিকো রওনা হয়ে যেতে হবে। খেলা শেষে ফুটবলারদের বিশ্রামের প্রয়োজন। শারীরিক ধকল সামলাতে হয়। কিন্তু খেলা শেষে ফুটবলারদের আবার বিমানযাত্রার ধকল সামলাতে হবে। এটা অন্যায়।”
আমিরের মতে, তাঁদের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি অন্যায় করা হচ্ছে। এতটা কঠিন পরিস্থিতিতে আর কোনও দলকে পড়তে হয়নি। আমির বলেন, “সবচেয়ে বেশি অন্যায় আমাদের সঙ্গে হচ্ছে। আমাদের ফেডারেশনকে আসতে দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের আসতে দেওয়া হয়নি। ম্যানেজমেন্টকে আসতে দেওয়া হয়নি।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রথমে ইরানের শিবির করার কথা ছিল আমেরিকায়। কিন্তু আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে সেই শিবির মেক্সিকোতে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ইরানের ফুটবলারদের ভিসা দিলেও অনেক কর্তাকে ভিসা দেয়নি আমেরিকা। ফলে তাদের ছাড়াই আমেরিকায় খেলতে যেতে হয়েছে তাদের। সেই তালিকায় ইরান ফুটবল সংস্থার সভাপতি মেহদি তাজও রয়েছেন।
মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় খেলতে যেতে বিমানে প্রায় ৫ ঘণ্টা লাগছে। অর্থাৎ, খেলার আগের দিন ৫ ঘণ্টা বিমানযাত্রা করতে হচ্ছে ইরানের ফুটবলারদের। তার পর ম্যাচ খেলে ২ ঘণ্টার মধ্যে আবার ৫ ঘণ্টার বিমানযাত্রার জন্য তৈরি হতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার এত দীর্ঘ বিমানযাত্রায় ফুটবলারেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তার প্রভাব খেলায় পড়বে বলেই জানিয়েছেন আমির।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ফিফাকে নিশানা করলেও এই পরিস্থিতিতে ফিফার দিকেই তাকিয়ে আমিরেরা। নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচের পর ইরানের সাজঘরে গিয়েছিলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই প্রসঙ্গে আমির বলেন, “উনি আমাদের সাহায্য করতে চান। কিন্তু অন্য অনেক বিষয় রয়েছে। সেটা সকলেই জানেন। আমি সে সব কথা বলতে চাইছি না। আমার মনে হয়, ফিফার উচিত আমাদের সাহায্য করা। নইলে এই ঘটনা একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। দেখা যাক কী হয়।”