FIFA World Cup 2026

তিন লাল কার্ড! দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু মেক্সিকোর, উদ্বোধনী ম্যাচে মন ভরাতে পারল না কোনও দলের খেলাই

এক ম্যাচে তিন-তিনটে লাল কার্ড! বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গেল নাটক। দক্ষিণ আফ্রিকার দু’জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। মেক্সিকোর একজন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল মেক্সিকো।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০২:৩৬
football

গোলের পর জিমেনেজ়ের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স।

এক ম্যাচে তিন-তিনটে লাল কার্ড! বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গেল নাটক। দক্ষিণ আফ্রিকার দু’জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। মেক্সিকোর একজন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল মেক্সিকো। তবে উদ্বোধনী ম্যাচে যে রকম ফুটবল প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা দেখা গেল না। হয়তো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা নীচের দিকে থাকা দল বলেই আকর্ষণীয় ফুটবল দেখা গেল না। দুই দলের মধ্যেই সেই ঝাঁজের অভাব ছিল। তবে মেক্সিকোর খেলোয়াড়দের দাপট গোড়া থেকেই বেশি ছিল। শেষ পর্যন্ত তারাই জিতেছে।

Advertisement

ব্রাজ়িলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়োর একাধিক সিদ্ধান্ত বিতর্কিত হয়ে থাকবে। এই প্রথম বার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো হল। ২০০৬-এর পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এত জন লাল কার্ড দেখলেন। সাম্পাইয়ো অন্তত দু’টি লাল কার্ড এমন দেখিয়েছেন, যেগুলির ক্ষেত্রে এতটা কড়া শাস্তি না দিলেও চলত।

প্রথম লাল কার্ড দেখানো হয় ৬৫ মিনিটে। সেটি নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। ব্রায়ান গুতিয়েরেজ় প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। তাঁকে পিছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল পেনাল্টি দেওয়া হবে। কিন্তু বক্সের কয়েক ইঞ্চি দূরে ফ্রিকিক দেওয়া হয়। সেটি মেক্সিকো নষ্ট করে।

এর পর ৮৫ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে এনজ়োয়ানে ধাক্কা মেরেছিলেন আরভারাল্দোকে। রেফারি প্রথমে কোনও ব্যবস্থা নেননি। এর পর ভার-এর ডাকে মাঠের ধারে রিপ্লে দেখতে যান। রিপ্লে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। এনজ়োয়ানেকে লাল কার্ড দেখানো হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ন’জন হয়ে যায়।

ওই অবস্থা থেকে ম্যাচে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তা হয়ওনি। শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সিজ়ার মন্তেস। তিনি ফেলে দেন মুদাউকে। গোল করায় বাধা দিয়েছিলেন বলেই হয়তো রেফারি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রেও আরও একটু নরম সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।

ম্যাচের দিকে তাকালে অবশ্য খুব বেশি প্রাপ্তি নেই। ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখিয়েছে মেক্সিকো। আগ্রাসী ফুটবলের রাস্তাই তারা বেছে নিয়েছিল। ৯ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান কিনোনেস। কলম্বিয়ায় জন্ম হওয়া এই ফুটবলার যুব দলে খেললেও কখনও সিনিয়র দলে সুযোগ পাননি। এক দশক মেক্সিকোর ঘরোয়া লিগের বিভিন্ন দলে খেলার পর ২০২৩-এ মেক্সিকোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। দু’বছর আগে সৌদি আরবের আল কাদসিয়াহতে যোগ দেন। তার পর থেকে তাঁর কদর আরও বাড়তে থাকে। প্রথম মরসুমেই ২০টি গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে গোল করে স্বপ্ন পূরণ হল তাঁর।

ম্যাচ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মেক্সিকোর খেলায় শ্লথতা আসতে থাকে। তারা সে ভাবে খেলার গতি ধরে রাখতে পারছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার খেলাতেও সেই ঝাঁজ ছিল না যা দিয়ে তারা মেক্সিকোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারে। ফলে বিরক্তিকর ফুটবল দেখা যায় প্রথমার্ধের শেষ দিক এবং দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিকের কিছুটা সময়।

খেলার গতি কিছুটা বদলায় জিমেনেজ়ের গোলের পর। চার নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রথম গোল করলেন তিনি। তা-ও আবার ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন জিমেনেজ়। এক সময় তাঁর সুযোগ পাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তবে কোচ জেভিয়ার আগুইরে ভরসা রেখেছেন জিমেনেজ়ের উপরে। সেই আস্থার দাম দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন